kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

বিচিত্র প্রকৃতি

উত্তুরে আলোর রঙের টানে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৮ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উত্তুরে আলোর রঙের টানে

উত্তর ইউরোপের দেশ ফিনল্যান্ডের লাপল্যান্ডের আকাশে সম্প্রতি অরোরার এই মোহনীয় খেলা চলে। ছবি সৌজন্য : জসিম সরকার

প্রকৃতির বৈচিত্র্যের এক দারুণ নমুনা ‘নর্দার্ন লাইটস’। চলতি কথায় এর আরেক নাম অরোরা। সূর্য থেকে ছিটকে আসা ভূচুম্বকীয় ঝড়ের কারণে সৃষ্টি হয় নয়নাভিরাম অরোরা। পৃথিবীর উত্তর প্রান্তের আকাশে ফুটে ওঠে জ্বলজ্বল করা আলোর রশ্মি, যা অনেক সময় ‘নেচেও বেড়ায়’।

বিজ্ঞাপন

সূর্যের মধ্যে যেসব ক্রিয়াকলাপের কারণে অরোরা ঘটে, সেগুলোর মাত্রা প্রতি ১১ বছর পর পর সর্বোচ্চ মাত্রায় (পিক সিজন) ওঠে। স্কটল্যান্ডের কেইথনেস অ্যাস্ট্রোনমি গ্রুপের চেয়ারম্যান গর্ডন ম্যাকির মতে, আগামী পিক সিজন কাছেই। তাই আগামী কয়েক বছরে অরোরা দেখার সুযোগ বাড়বে।

অরোরার মোহনীয়তায় মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই। কারো কারো কাছে এটি দেখা নেশার মতো হয়ে দাঁড়ায়। তাঁরা এ জন্য প্রচণ্ড শীতের রাতে হিমশীতল ঠাণ্ডায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতেও রাজি। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অভিজ্ঞতা শোনা যাক। তাঁরা সবাই যুক্তরাজ্যের অধিবাসী। বসবাস যুক্তরাজ্যের স্কটল্যান্ডের সবচেয়ে উত্তরে বা কাছাকাছি।

মিশেল কামিং ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথমবারের মতো ঘটনাটি দেখেন। সেই থেকে উত্তুরে আলোতে মুগ্ধ হয়ে আছেন। যুক্তরাজ্যের স্কটল্যান্ডের উত্তর-পূর্ব উপকূলের মোরের অধিবাসী ৪২ বছর বয়সী কামিং। খবর পেলেই অরোরা দেখতে ছোটার জন্য ব্যাকপ্যাক আর চায়ের ফ্লাস্ক তৈরিই থাকে তাঁর। ‘আমি অনেক সময় আমার কুকুর ডেক্সটারকে সঙ্গে নিয়ে যাই। অরোরা দেখার সময় ওকে কম্বলে জড়িয়ে রাখি। অনেকবারই রাত ১টার দিকে অরোরা দর্শনে বেরিয়েছি আমি,’ বলেন মিশেল কামিং।

মোরে কাউন্সিলের প্রশাসন বিভাগের কর্মী কামিং প্রথম অরোরা দেখেন লসিমাউথের সৈকতে হাঁটার সময়। ‘সেই রাতে যেন পাগল হয়ে গিয়েছিলাম। অরোরা শুধু আকাশজুড়ে ছিল না, নাচানাচিও করেছিল। ’

অভিজ্ঞরা বলেন, শরৎ ও শীতের অন্ধকার রাতে এই দৃশ্য দেখার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তবে যদি আকাশ পরিষ্কার থাকে। অরোরা আবির্ভূত হওয়ার পূর্বাভাস দিতে আছে নানা ওয়েবসাইট, অ্যাপ আর সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপ।

যুক্তরাজ্যের উত্তর অংশে অবস্থিত স্কটল্যান্ড অরোরা দেখার জন্য অন্যতম সেরা জায়গা। সেখান থেকে উত্তরপানে আটলান্টিক আর আর্কটিক সাগরের অসীম বিস্তার। তার ওপর দিয়ে খোলা আকাশের নিঃসীম নীলিমা। সেই দিগন্তরেখাতেই দেখা মেলে অরোরার। তবে স্কটল্যান্ডের দক্ষিণে ইংল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড থেকেও তা ভালোভাবে দেখার ঘটনা আছে।

অ্যাবারডিনশায়ারের জ্যাকি মারেও সম্ভব হলেই অরোরা দেখতে চেষ্টা করেন। তিনি প্রথম অরোরা দেখেছিলেন ১৯৮৬ সালে। অ্যাবারডিন থেকে পিটারহেড পর্যন্ত বাস চালাতে গিয়ে।

বাসের আরোহীদের দৃশ্যটা

দেখার সুযোগ করে দিতে আমি বাস থামিয়ে দিয়েছিলাম’, স্মৃতিচারণা করে বলেন জ্যাকি।

এখন একটি এনার্জি কম্পানির স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা পরিদর্শক জ্যাকি। মূলত অরোরার ছবি তোলার জন্যই শখের ফটোগ্রাফি শুরু করেন তিনি।

‘মাঝে মাঝে আমি মাইনাস তাপমাত্রার হিমশীতল ঠাণ্ডায় চার থেকে ছয় ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেছি। অরোরার জন্য অপেক্ষা করে বা তা মন্ত্রমুগ্ধের মতো দেখতে দেখতে কখন কেটে গেছে সময়!,’ বলেন জ্যাকি মারে।

‘আপনার উৎসাহ থাকতে হবে। আর এমন প্রত্যন্ত এলাকায় যেতে তৈরি থাকতে হবে, যেখানে আলোদূষণ সামান্য বা আদৌ নেই। আকাশ পরিষ্কার কি না দেখুন। এবার ধৈর্য ধরে তাকিয়ে থাকুন উত্তরে। ’

‘অরোরা শিকারিদের’ মধ্যে ক্রিস কোগান আবার বিশেষ রকম ভাগ্যবান। তিনি অরোরা দেখতে পান বলতে গেলে নিজের দোরগোড়া থেকেই। স্কটিশ হাইল্যান্ডের সাদারল্যান্ডের ছোট জনপদ মুইতে বসবাস তাঁর।

ক্রিস বলেন, কিছু লোক হয়তো অরোরা দেখলেও বোঝেনি। কারণ, খালি চোখে অনেক সময় অরোরা কেবলই সাদা আলো বা কুয়াশার চাদর, যার দিগন্তে ফুটে থাকে কয়েকটি তারা। কিন্তু ক্যামেরার বা স্মার্টফোনে এর বিচিত্র রং ধরা পড়ে। খুব শক্তিশালী অরোরার ক্ষেত্রে খালি চোখেই দেখা যাবে সবুজ বা কমলা রং।

এলগিনের বাসিন্দা অ্যালান টাফ পেশায় প্রকৌশলী। অরোরার ছবি তোলা তাঁর নেশা। বিচিত্র এই আলোর খেলা দেখতে ও ছবি তোলার জন্য কানাডা, আইসল্যান্ড আর নরওয়েতেও ছুটেছেন অ্যালান। ২০১৯ সালে খোদ সুমেরুবৃত্তে এক ‘নর্দার্ন লাইটস’ ট্যুর থেকে ফেরার সময় জাহাজডুবির শিকার পর্যন্ত হতে বসেছিলেন।

গতবারের ‘পিক সিজনে’ বছরে ৩০ বারের বেশি অরোরা দেখেছেন কেইথনেস অ্যাস্ট্রোনমি গ্রুপের চেয়ারম্যান গর্ডন ম্যাকি। আকাশজুড়েই আলোর নাচনও তিনি দেখেছেন বহুবার। নির্নিমেষে তাকিয়ে থেকেছেন মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে। সূত্র : বিবিসি

 



সাতদিনের সেরা