kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক

‘৯ জেব্রার মৃত্যু ব্যাকটেরিয়ায় ও মারামারিতে’

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর   

২৬ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘৯ জেব্রার মৃত্যু ব্যাকটেরিয়ায় ও মারামারিতে’

গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে গত ২৩ দিনে ৯টি জেব্রার মধ্যে পাঁচটি মারা গেছে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে। বাকি চারটি মারা গেছে নিজেদের মধ্যে মারামারিতে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে। সাফারি পার্কে একের পর এক জেব্রার মৃত্যুর ঘটনায় গঠন করা মেডিক্যাল বোর্ড গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে গণমাধ্যমকে মৃত্যুর এ দুটি কারণ জানায়। ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ রোধে মেডিক্যাল বোর্ড সাফারি পার্কে জেব্রার চারণভূমি জীবাণুমুক্ত করাসহ ১০টি প্রস্তাব দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জেব্রা এমনভাবে মারামারি করে না, যাতে মৃত্যু হতে পারে। এটি বিশ্বাসযোগ্য নয়।

ছয় সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ডের চার সদস্য গতকাল কোর সাফারির জেব্রা বেষ্টনী ঘুরে দেখার পর বিকেলে সাফারি পার্কের ‘ঐরাবতী বিশ্রামাগার’ ভবনে বৈঠক করেন। মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবু হাদী নূর আলী খান ভার্চুয়ালি ওই বৈঠকে অংশ নেন।

সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক তবিবুর রহমান জানান, গত ১ জানুয়ারি কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি জেব্রা মারা যায়। মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে মৃত জেব্রা দুটির ময়নাতদন্ত শেষে পরীক্ষার জন্য নমুনা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। ৪ জানুয়ারি একটি, পরদিন আরো একটি জেব্রা মারা যায়। সেগুলোর শরীরেও মারামারির প্রাথমিক আলামত ছিল। আর গত ৫ জানুয়ারি থেকে ২৩ জানুয়ারি চারটি জেব্রা মারা যায়। সর্বশেষ গত সোমবার সকালে মারা যায় আরো একটি জেব্রা। এগুলোর মধ্যে দুটি ছিল মাদি। দুটিই ছিল গর্ভবতী।

৫ জানুয়ারির পর যে পাঁচটি জেব্রা মারা যায়, সেগুলোর প্রথমে শ্বাসকষ্ট ও পরে খিঁচুনি হয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মারা যায়।

মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবু হাদী নূর আলী খান। বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রফিকুল আলম, অধ্যাপক কাজী রফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় পশু হাসপাতালের সাবেক চিফ ভেটেরিনারি কর্মকর্তা এ বি এম শহীদ উল্লাহ, গাজীপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এস এম উকিল উদ্দিন এবং সাফারি পার্কটির ভেটেরিনারি কর্মকর্তা হাতেম সাজ্জাদ মো. জুলকারনাইন।

এ বি এম শহীদ উল্লাহ জানান, মৃত জেব্রাগুলোর মধ্যে চারটি নিজেরা মারামারিতে জড়িয়ে আহত হয়ে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে মারা গেছে। বাকি পাঁচটি জেব্রা মারা যায় ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে। মৃত জেব্রাগুলোর ময়নাতদন্ত শেষে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নমুনা রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে জেব্রাগুলোকে সরবরাহ করা ঘাসসহ দানাদার সব খাবারের নমুনাও পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষার রিপোর্টে মৃত পাঁচটি জেব্রার পাকস্থলীতে চার ধরনের ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি মিলেছে।

ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য ১০টি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো কোর সাফারির জেব্রা বেষ্টনীর চারণভূমি, লেকসহ জীবাণুমুক্ত করা। সেই সঙ্গে প্রতিটি জেব্রাকে নানা ধরনের টিকা দেওয়া। আর অধিকতর কাঁচা ঘাস সরবরাহ না করা।

এদিকে সাফারি পার্কের ওয়াইল্ডলাইফ সুপারভাইজার সরোয়ার হোসেন খান গতকাল কালের কণ্ঠকে জানান, সেখানে গত ডিসেম্বরেও একটি জেব্রা মারা যায়। এই হিসাবে গত দুই মাসে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে ১০টি জেব্রা মারা গেছে। এর আগে ২০১৪ সালেও কয়েকটি জেব্রা মারা যায়।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক মকবুল হোসেন বলেন, ‘আমরা মৃত জেব্রার নমুনাগুলো পেয়েছি। কয়েকটি টিমের মাধ্যমে বাকৃবির বিভিন্ন পরীক্ষাগারে সে নমুনাগুলোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল পেতে আরো কিছুদিন লাগবে। সেগুলো হাতে পেলে জেব্রা মারা যাওয়ার সঠিক কারণ জানাতে পারব বলে আশা করছি। ’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি, জেব্রা এমনভাবে মারামারি করে না যাতে মৃত্যু হতে পারে। মারামারিতে মারা গেছে, এ কথা গ্রহণযোগ্য নয়। আর ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে যে পাঁচটি জেব্রার মৃত্যু হলো তাতে বোঝা যায়, সাফারি পার্কে ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি রয়েছে। ’

জেব্রার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি করা হবে : পরিবেশমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে ৯টি জেব্রার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি করা হবে। এ কমিটি জেব্রার মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং কারো দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তা খুঁজে বের করবে। বন্য প্রাণী সংরক্ষণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এ সরকার দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।



সাতদিনের সেরা