kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ২৬ মে ২০২২ । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৪ শাওয়াল ১৪৪

সংগীতজগৎ

আবার পথ দেখালেন বব ডিলান

মিরাজুল ইসলাম   

২৬ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আবার পথ দেখালেন বব ডিলান

সংগীতশিল্পী বব ডিলান। ছবি : ইন্টারনেট

২০২০ সালে সাহিত্যে নোবেলজয়ী সংগীতশিল্পী বব ডিলান জীবিত অবস্থায় তাঁর লেখক স্বত্ব প্রযোজনা সংস্থা ইউনিভার্সেলের কাছে ৩০ কোটি ডলার অর্থমূল্যে হস্তান্তর করেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় খ্যাতিমান এ শিল্পী গত ষাট বছরে প্রকাশিত তাঁর সব সংগীত অ্যালবামের স্বত্ব সম্প্রতি বিক্রি করে দিলেন সনি প্রযোজনা কম্পানিকে। ধারণা করা হচ্ছে, এই নতুন চুক্তির আওতায় বব ডিলান আরো ২০ কোটি ডলার আয় করতে যাচ্ছেন।

গত বছরের শেষ দিকে মার্কিন তারকা শিল্পী ব্রুস স্প্রিংস্টিন ৫০ কোটি ডলারে তাঁর সব প্রকাশনা এবং সংগীত অ্যালবামের স্বত্ব বিক্রি করে দিয়েছিলেন সনিকে।

বিজ্ঞাপন

একই কাজ করেছেন ডেভিড বোয়ি (প্রয়াত এই শিল্পীর ক্ষেত্রে তাঁর এস্টেট), ব্লন্ডি, স্টিভ নিকস, পল সাইমন, মোটলি ক্রু, রেড হট চিলি পেপারস, শাকিরা প্রমুখ শিল্পী এবং গানের দল। কারণ এর ফলে পাইরেসির যুগে তাঁদের মেধাস্বত্ব ভবিষ্যতে আরো কার্যকরভাবে সংরক্ষিত হওয়ার সুযোগ পাবে। এখন অজস্র অ্যাপের মাধ্যমে ডাউনলোড এবং কপিরাইট লঙ্ঘনের নানা ধরনের পন্থা আবিষ্কারের ফলে শিল্পীদের নিজস্ব উদ্যোগে পাইরেসি ঠেকানো সম্ভব হয়ে ওঠে না। আরেকটি বড় বিষয় হচ্ছে, কভিড মহামারির কারণে বিশ্বব্যাপী সংগীত ব্যবসায় মন্দা দেখা দেওয়ায় নতুন শিল্পীদের ‘ট্যুর’ কমে যাওয়ায় অ্যালবাম বিক্রিতেও এর প্রভাব পড়েছে। কিন্তু এর বিপরীতে পুরনো শিল্পীদের গানের কদর বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের অ্যালবাম বিক্রি বেড়ে গেছে বহুগুণ। ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে কয়েক দশক আগের জনপ্রিয় শিল্পীদের পুরনো গানের চাহিদা আরো বৃদ্ধি পাবে। কনসার্টের সংখ্যা কমে গেলে শিল্পীদের আয়ও হ্রাস পায়। সুতরাং অ্যালবাম বিক্রির বাইরে আয় করার সুযোগ আর না থাকায় এককালীন চড়া মূল্যে মেধাস্বত্ব বিক্রির হাতছানি উপেক্ষা করা সবার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

এখন বিশেষ করে তরুণরাসহ অনেক শ্রোতাই বিভিন্ন অনলাইন মিউজিক প্ল্যাটফর্মে ঘরে বসে গান শুনতে অভ্যস্ত। এতে গত শতকের ষাট থেকে আশির দশকের শিল্পীদের চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী। কিন্তু সংগীতের রয়ালটি থেকে আয়ের পরিমাণ নির্দিষ্ট ও তুলনামূলকভাবে সীমিত। সে তুলনায় তাঁরা যে অর্থে মেধাস্বত্ব বিক্রি করার সুযোগ পাচ্ছেন, তা বাকি জীবনে আয় করা কষ্টকর—অনেকের ক্ষেত্রেই হয়তো কার্যত অসম্ভবও। পাশাপাশি প্রকাশিত ক্যাটালগের মেধাস্বত্ব দ্বিতীয় পক্ষকে দিয়ে দেওয়ার কারণে করের বোঝা থেকেও শিল্পী মুক্ত হতে পারছেন। সুতরাং সব দিক বিবেচনায় ৮০ বছর বয়সী বব ডিলান তাঁর সব মেধাস্বত্ব প্রায় ৬০ কোটি ডলারে দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন। এর ফলে আগামী দিনগুলোতে অ্যাপল টিউন, স্পোটিফাই কিংবা টিকটকে বব ডিলানের গানের অপব্যবহার রোধ করতে সনি কিংবা ইউনিভার্সাল সতর্ক দৃষ্টি রাখবে। সেই সঙ্গে শিল্পীর  লেখালেখি, প্রকাশনা এবং সংগীত থেকে যাবতীয় আয়, ব্র্যান্ডিং, মার্কেটিং ছাড়াও ভবিষ্যতে শিল্পীর মুক্তি পাওয়া গানগুলোর ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে এদের। বলা বাহুল্য, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একসঙ্গে মোটা অর্থ লাভের পাশাপাশি নিজের সৃষ্টিকে সুরক্ষা দেওয়ার এমন সুযোগ অন্য শিল্পীরাও অনেকে ভভিষ্যতে প্রহণ করবেন। এরই মধ্যে নতুন প্রজন্মের শিল্পীরাও এমন চুক্তিতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। ফিফটি সেন্ট, নেলি, টেইলর সুইফট প্রমুখ নতুন প্রজন্মের শিল্পীর সংগীতের কপিরাইট কিনে নিচ্ছে বিভিন্ন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো। নতুন যুগের দাবি মেটাতে মেধাস্বত্ব সংরক্ষণের এই বাণিজ্যিক ধারা সফল হলে সংগীতশিল্পে আরো বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



সাতদিনের সেরা