kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

লোহাগড়ায় শিক্ষকের নির্যাতনে শিশু ছাত্রের মৃত্যু

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি   

২৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় মাদরাসা শিক্ষকের বেধড়ক মারধরে অসুস্থ হয়ে এক শিশু ছাত্রের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ১৭ জানুয়ারি অভিযুক্ত শিক্ষকের ২০০ টাকা হারিয়ে গেলে তিনি মাদরাসার হেফজ বিভাগের ওই ছাত্রকে মারধর করেন। ২৩ জানুয়ারি (গত রবিবার) সন্ধ্যা ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মৃত মো. আরিফ বিল্লাহ (৯) লোহাগড়ার ইতনা ইউনিয়নের লংকারচর গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর মো. নুর ইসলামের ছেলে ও শালনগর ইউনিয়নের মণ্ডলবাগ এতিমখানা রহমানিয়া হাফিজিয়া মাদরাসার ছাত্র। অভিযুক্ত মো. আব্দুল্লা মাদরাসাটির সহকারী শিক্ষক ও লংকারচরের মৃত মোদাচ্ছের মোল্যার ছেলে।

পুলিশ, এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ১৭ জানুয়ারি শিক্ষক আব্দুল্লার ২০০ টাকা মাদরাসা থেকে হারিয়ে যায়। তিনি ওই দিন চোর সন্দেহে মাদরাসার ১১-১২ জন ছাত্রকে মারধর করেন। রাত ৮টার দিকে তিনি আরিফ বিল্লাহকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে বেধড়ক মারধর করেন। এতে আরিফ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর পর থেকে আরিফ মণ্ডলবাগ গ্রামের হাফিজুর রহমান মুন্সীর বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিল। ওই বাড়িতে সে লজিং থাকছিল। গত রবিবার বিকেলে আরিফ বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে তার বাবা নুরকে বিষয়টি জানান হাফিজুর। নুর ঢাকায় থাকেন, তাঁর আসতে দেরি হবে। তাই খবর পেয়ে আরিফের ফুফা পাশের লাহুড়িয়া ইউনিয়নের কল্যাণপাড়া গ্রামের মনিরুল ইসলাম শেখ আরিফকে তাঁর বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে সন্ধ্যায় আরিফের মৃত্যু হয়। পুলিশ খবর পেয়ে রাতে আরিফের লাশ লোহাগড়া থানায় নিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন জানায়, বেধড়ক মারধরে আরিফ কোমরের নিচের অংশে বেশি আঘাত পেয়েছিল।

নুর ইসলাম ফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার ছেলেকে শিক্ষক মো. আব্দুল্লা বেদম মারধর করেছেন। যে কারণে আমার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। আমি মামলা করব। উপযুক্ত বিচার চাই। ’

এ বিষরয় যোগাযোগ করেও অভিযুক্ত শিক্ষককে পাওয়া যায়নি।

লোহাগড়া থানার ওসি শেখ আবু হেনা মিলন জানান, গতকাল সোমবার নড়াইল সদর হাসপাতালে আরিফের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 



সাতদিনের সেরা