kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

কম্বল পেল দুই জেলার এতিম শিক্ষার্থী ও হতদরিদ্ররা সাতক্ষীরা ও ধামইরহাট

(নওগাঁ) প্রতিনিধি   

২৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কম্বল পেল দুই জেলার এতিম শিক্ষার্থী ও হতদরিদ্ররা সাতক্ষীরা ও ধামইরহাট

নওগাঁর ধামইরহাটে গতকাল বসুন্ধরা গ্রুপের উদ্যোগে দরিদ্র শিশুদের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

কয়েক দিন ধরে শৈত্যপ্রবাহের কারণে জনজীবন স্থবির। কনকনে শীতে কষ্ট পাচ্ছে অসহায় দরিদ্র মানুষ। এ সময়ে নওগাঁর ধামইরহাটে ১৫০ জন এতিম শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও অসহায় মানুষের হাতে বসুন্ধরা গ্রুপের কম্বল তুলে দিলেন কালের কণ্ঠ শুভসংঘের সদস্যরা। কম্বল পেয়ে যারপরনাই খুশি সমাজের অবহেলিত দরিদ্র মানুষগুলো।

বিজ্ঞাপন

 

গতকাল সোমবার বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় এবং কালের কণ্ঠ শুভসংঘের আয়োজনে ধামইরহাটের বিভিন্ন নুরানি ও হাফিজিয়া মাদরাসার এতিম শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও হতদরিদ্র মানুষের মাঝে পর্যায়ক্রমে এসব কম্বল বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া এদিন সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কপোতাক্ষ নদ তীরের প্রত্যন্ত এলাকার ৬০০ দরিদ্র অসহায় মানুষকে কম্বল দেওয়া হয়।

গতকাল ধামইরহাট বাজারের কাছে তারবিয়াতুল উম্মাহ হেফজুল কোরআন কওমি মাদরাসা, গাংরা শিশুসদন নুরানি ও হাফিজিয়া মাদরাসা, চকযদু-কাশিয়াডাঙ্গা মদিনাতুল উলুম কওমি ও হাফিজিয়া এবং আমাইতাড়া দারুস সালাম কওমি মাদরাসার এতিমরা কম্বল পায়। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও হতদরিদ্র মানুষের মাঝেও এসব কম্বল বিতরণ করা হয়। কম্বল পেয়ে আমাইতাড়া দারুস সালাম কওমি মাদরাসার মক্তব বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আব্দুর রহমান জানায়, প্রচণ্ড শীতে কম্বল পেয়ে সে খুবই খুশি হয়েছে। সে বলে, ‘যাঁরা এতিমদের কম্বল দিয়ে সহযোগিতা  করেছেন, আল্লাহ যেন তাঁদের ভালো করেন। ’

কাশিয়াডাঙ্গা মদিনাতুল উলুম কওমি ও হাফিজিয়া মাদরাসার মুহতামিম আলহাজ হাফেজ মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘সাধারণত মাদরাসার ছাত্রদের প্রতি তেমন কেউ খেয়াল রাখে না। ’ এতিম শিশুদের কম্বল দেওয়ায় তিনি বসুন্ধরা গ্রুপের জন্য দোয়া করেন।

এসব কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব আবু হেনা মোস্তফা কামাল, ধামইরহাট উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আজাহার আলী মণ্ডল, নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান ওবায়দুল হক সরকার, ধামইরহাট পৌরসভার প্যানেল মেয়র মুক্তাদিরুল হক মুক্তা, পৌর কাউন্সিলর ইব্রাহিম হোসেন, ওমর ফারুক, আলতাফ হোসেন, মাহবুব আলম বাপ্পী, ইউপি সদস্য মামুন রেজাসহ স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকরা।

গতকাল দুপুরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কলারোয়ার কপোতাক্ষ নদ তীরের ৬০০ প্রতিবন্ধী, দরিদ্র মেধাবী, দিনমজুর, বয়স্ক ও বিধবা নারীর মাঝে এসব কম্বল বিতরণ করা হয়। জয়নগর ইউনিয়নের সরসকাটি দাখিল মাদরাসা মাঠে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী।

গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে আসা ক্ষেত্রপাড়া গ্রামের হবিবার গাজী (৮০) কম্বল হাতে নিয়ে বলেন, ‘বড় লোকদের আসতে কষ্ট হয়, তাই গাঙপারের (কপোতাক্ষ তীর) মানুষের জন্য কেউ কিছু নিয়ে আসে না। দোয়া করি, আপনাদের উন্নতি হোক। ’

খলিল সানা (৭৩) কম্বলটা চাদরের মতো শীরের পেঁচিয়ে নিয়ে বলেন, ‘দু-তিন ধরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। শীতে কষ্ট হচ্ছিল। কম্বলটা গায়ে দিয়ে রাতে আরামে ঘুম হবে। শীত মানাবে। আল্লাহ আপনাদের আরো বেশি মানুষকে সাহায্য করার ক্ষমতা দিক। ’

কম্বল নিতে আসা ইছাহাক গাজী বলেন, ‘বেঁচে থাকলে এই কম্বলটা আগামী বছর শীতেও খুব উপকারে আসবে। ’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, ‘সমাজের অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে থাকার বসুন্ধরার এ আয়োজন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ’ আগামী দিনেও সেবার কাজের ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।    

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কলারোয়া থানার ওসি নাসির উদ্দীন মৃধা, ওসি (তদন্ত) হাফিজুর রহমান হাফিজ, জয়নগর ইউপি চেয়ারম্যান বিশাখা তপন সাহা, সরসকাটি দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা মুজিবুর রহমান প্রমুখ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাংবাদিক ও কালের কণ্ঠ শুভসংঘের সদস্যরা।

 

 



সাতদিনের সেরা