kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

শিশু ওয়ার্ডে মেঝেতেও জায়গা নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

২৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিশু ওয়ার্ডে মেঝেতেও জায়গা নেই

‘ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই’ অবস্থা যেন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের। ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত বহু শিশু-কিশোরের চিকিৎসা চলছে এখানে। গতকাল দুপুরে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

মাঘের শুরুতেই রাজশাহীতে জেঁকে বসেছে শীত। মৃদু শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে গত কয়েক দিনের কনকনে শীত আর ঘন কুয়াশায় মানুষ যেন জবুথবু। এ পরিস্থিতিতে বাড়ছে শীতজনিত রোগবালাই। ঠাণ্ডা, শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি, চর্মরোগসহ শীতকালীন নানা ধরনের রোগ নিয়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে ব্যাপক।

বিজ্ঞাপন

বিশেষ করে শিশুদের ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর ভর্তি বেড়েছে। শিশুদের প্রতিটি ওয়ার্ডেই শয্যা না থাকায় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে হাসপাতালের মেঝেতেই, যেন পা ফেলার জায়গা নেই। চিকিৎসকরা বলছেন, শীত আরো বাড়লে রোগীর সংখ্যাও বাড়বে। তবে আশার কথা হলো, গতকাল সোমবার রাজশাহীতে শীত অনেক কম ছিল।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তথ্য মতে, গতকাল ২৪ ঘণ্টায় ৪৫ শিশু ভর্তি হয়েছে। হাসপাতালে এখন ভর্তি আছে ১২৫ শিশু। এদের মধ্যে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী আছে ৬৫ জন। গত শুক্রবার এখানে ভর্তি ছিল ৬২ জন। তবে তুলনামূলক নিউমোনিয়া রোগী নেই বললেই চলে। হাসপাতালে নিউমোনিয়া রোগী আছে মাত্র ৯ জন।

রোগী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শীতে আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে সাধারণত যেসব রোগ দেখা দেয়, সেসব রোগীই তুলনামূলকভাবে বেশি। ঠাণ্ডা, কাশি, শ্বাসকষ্টের রোগীর সংখ্যা শীতের কারণে দ্বিগুণ বেড়েছে। সকাল ৮টার দিকে রোগীর সংখ্যা কম হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে।

রামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক পার্থ মনি জানান, হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। আক্রান্তদের বেশির ভাগই ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে আসছে। নবজাতকদের সেবা দিতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি বেগ পেতে হচ্ছে। শীতজনিত রোগ প্রতিরোধে অভিভাবকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘আমাদের এখানে রোগীর চেয়ে শয্যা এমনিতেই কম। তার পরও শীতের মধ্যে প্রতিটি ওয়ার্ডেই রোগীর চাপ বেশি। দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ রোগী আছে ওয়ার্ডগুলোতে। এরই মধ্যেই আমরা তাদের সেবা দিতে চেষ্টা করছি। শিশুদের জন্য ১৫টি রুম হিটার লাগিয়ে দিয়েছি। পাশাপাশি বারান্দার জন্য কাচ দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। ’

তিনি বলেন, ‘শীতে রোগী এখানে বাড়ে। ডায়রিয়াটাই এখানে বেশি হয়। ৫০ থেকে ১০০ শিশু প্রতিদিনই ডায়রিয়ার চিকিৎসা নিতে আসছে। এ ছাড়া শ্বাসকষ্ট ও শীতজনিত বৃদ্ধ রোগীও বেড়েছে। ’

 

 

 

 



সাতদিনের সেরা