kalerkantho

সোমবার ।  ১৬ মে ২০২২ । ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৪ শাওয়াল ১৪৪৩  

মামলা না তোলায় বাদীর হাত-পা ভাঙল প্রতিপক্ষ

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

২৪ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মামলা না তোলায় বাদীর হাত-পা ভাঙল প্রতিপক্ষ

ইউপি নির্বাচনের চার মাস পার হলেও বাগেরহাটের শরণখোলার সাউথখালীতে নির্বাচনের জেরে চলছে সহিংস ঘটনা। গত শনিবার রাত ৮টার দিকে বিজয়ী মেম্বার রিয়াদুল পঞ্চায়েতের ক্যাডাররা পরাজিত মেম্বার প্রার্থীর কর্মী আবু সালেহ খলিফার (৪০) হাত-পা ভেঙে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, নির্বাচন-পরবর্তী এক সহিংস ঘটনায় রিয়াদুলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হানিফ মুন্সীর কর্মী যুবলীগ নেতা আবু সালেহ বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। ওই মামলা তুলে না নেওয়ায় শনিবার রাতে রিয়াদুলের ভাই আসামি আসাদুল পঞ্চায়েতসহ ক্যাডাররা হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আবু সালেহর বাঁ হাত ও বাঁ পা ভেঙে দেয়।

বিজ্ঞাপন

সাউথখালী ইউনিয়নের বগী বন্দরে ঘটে এ ঘটনা।

গুরুতর আহত আবু সালেহকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ওই রাতেই খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় রিয়াদুলসহ ১২ জনের নামে শরণখোলা থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আহত আবু সালেহ বগী গ্রামের আ. রহমান খলিফার ছেলে। তিনি বগী বন্দর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং বগী বাজারের মৎস্য ব্যবসায়ী।

আবু সালেহর চাচা মামলার বাদী দেলোয়ার খলিফা জানান, গত ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে সাউথখালী ইউনিয়নের ৭ নম্বর বগী ওয়ার্ডে রিয়াদুল এবং হানিফ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে রিয়াদুল জয়ী হন। এরপর রিয়াদুলের নির্দেশে তাঁর ক্যাডার বাহিনী হানিফের কর্মীদের ওপর একের পর এক হামলা-নির্যাতন চালাতে থাকে।

দেলোয়ার খলিফা জানান, তারই ধারাবাহিকতায় দেড় মাস আগে আবু সালেহ ও তাঁর বাবা রহমান খলিফাকে মারধর করেন রিয়াদুলের ভাই আসাদুল। ওই ঘটনায় আবু সালেহ বাদী হয়ে মামলা করায় আসামিরা আরো ক্ষিপ্ত হন। এরপর মামলা তুলে নিতে নানাভাবে হুমকি দিতে থাকেন তাঁরা। মামলা তুলে না নেওয়ার জেরে শনিবার রাত ৮টার দিকে আসাদুল, ফারুক খান, পলাশ, ডালিম, মহারাজ, বেল্লালসহ ১২-১৩ জন মিলে হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আবু সালেহকে গুরুতর জখম করেন। খুলনা মেডিক্যালে নেওয়ার পর তাঁর বাঁ হাত ও বাঁ পা ভেঙে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।  

শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নাদিয়া নওরিন জানান, আবু সালেহর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম রয়েছে। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে খুলনা মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে বগী ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রিয়াদুল বলেন, ‘এটা কোনো নির্বাচনী প্রতিহিংসা নয়। একটি কম্পিউটার ডিস্ক নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ঝগড়ার এক পর্যায়ে প্রথমে আসাদুলকে মারধর করে হানিফসহ কয়েকজন। পরে আসাদুলসহ ১০-১২ জন এক হয়ে আবু সালেহকে মারধর করেছে বলে শুনেছি। ’ 

শরণখোলা থানার ওসি মো. সাইদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় মেম্বার রিয়াদুলসহ ১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। এঁদের মধ্যে ডালিম হাওলাদার, আলাল হাওলাদার ও রাকিব হাওলাদার নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

 

 



সাতদিনের সেরা