kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

নারী ভাইস চেয়ারম্যানের নামে ইউপি চেয়ারম্যানের পাল্টা জিডি

সৃজনশীল প্রকল্পের কাজ দেখতে চাওয়ায় মারধর

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

২১ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সৃজনশীল প্রকল্পের কাজ দেখতে চাওয়ায় মারধর

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাইমা আক্তারের বিরুদ্ধে বুধবার রাতে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম। এর আগে সন্ধ্যায় ফাইমা আক্তার তাঁকে মারধরের অভিযোগে শিবগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পুলিশ তাঁর অভিযোগকেও জিডি হিসেবে রেকর্ড করে।  

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়া প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে ফাইমা আক্তার অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন ইউনিয়নে গিয়ে ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজ দেখতে চাওয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম তাঁকে মারপিট করেছেন।

বিজ্ঞাপন

 শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের দোতলায় বুধবার বিকেলে  ফাইমা আক্তারকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ ওঠে। সংবাদ সম্মেলনে ফাইমা আক্তার বলেন, ‘তিন বছর ধরে কখন এই প্রকল্পের কাজগুলো শেষ হয় তা আমি জানি না। অথচ আমি ৪০ দিন কর্মসূচি কমিটির সদস্য হিসেবে আছি। তবে রেজল্যুশনে আমার কোনো স্বাক্ষর নেওয়া হয় না। গোপনীয়ভাবে এই প্রকল্পের কর্মকাণ্ডগুলো চালিয়ে যাওয়া হয়। এ কারণেই আমি ওই মিটিংয়ে প্রকল্প পরিদর্শনের কথা বলেছিলাম। কিন্তু সেখানে বিহার ইউপির চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম আমাকে বলে, ‘তুই কোনো প্রকল্প পরিদর্শন করতে পারবি না, (অশালীন মন্তব্য), তুই পরিষদে ঢুকতে পারবি না। ’

সংবাদ সম্মেলনে ফাইমা আক্তার বলেন, বিভিন্ন কাজকর্ম নিয়ে অনেক আগে থেকেই আমার সঙ্গে পরিষদের দূরত্ব তৈরি হয়। যার কারণে জেলা প্রশাসক, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউএনও বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি। শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ১৭টি দপ্তরে কোথায় কী কাজ হয় তা আমি জানি না। ’

ফাইমা আক্তার বলেন, ‘মিটিং চলাকালে ইউএনওকে চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আগেও আমরা প্ল্যান করে রেজল্যুশনে ওর নাম দিয়েছি ফাইমাকে বহিষ্কার করার জন্য। এখন আপনি যে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার তা গ্রহণ করুন, ফাইমা কিছু করতে পারবে না। ও যেন পরিষদে আর ঢুকতে না পারে তার যথাযথ ব্যবস্থা নিন। ’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফাইমা বলেন, ‘উপজেলা পরিষদের বাজেটে নারী উন্নয়ন ফোরামের বাজেটে শতকরা হিসেবে তিন ভাগ যথাক্রমে ১৯ লাখ ৪৯ হাজার ৩৭৬ টাকা আমাকে দেওয়ার কথা। সে জন্য আমাকে চিঠি দিয়ে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রকল্প দাখিল করতে বলা হয়। এর অনুলিপি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা চেয়ারম্যানকে দেওয়া হয়। আমি যথারীতি প্রকল্প দাখিলও করি। কিন্তু গত তিন বছর আমি নারী উন্নয়ন ফোরামের কোটার সেই টাকা পাইনি। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে জানিয়েছি। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে আবারও অভিযোগ ও স্মারকলিপি দেব। ’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিহার ইউপির চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘তাঁকে ধমক দেওয়া হয়েছে। মারপিট বা শ্লীলতাহানির কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। ’

মহিদুলের জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে শারীরিক নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই তাঁর অভিযোগ জিডি হিসেবে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য আদালতের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।

 



সাতদিনের সেরা