kalerkantho

শনিবার ।  ২১ মে ২০২২ । ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩  

গ্যাসের দাম বাড়লে টানাপড়েন বাড়বে নিম্ন আয়ের মানুষের

গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিপক্ষে ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গ্যাসের দাম বাড়লে টানাপড়েন বাড়বে নিম্ন আয়ের মানুষের

ভর্তুকি সামাল দিতে গ্যাসের দাম বাড়াতে মূল্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) চিঠি দিয়েছে ছয়টি গ্যাস বিতরণ কম্পানি। গড়ে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ১১৭ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে তারা। আবাসিকে দুই চুলায় ৯৭৫ থেকে বাড়িয়ে ২১০০ টাকা, মিটার আছে এমন চুলায় প্রতি ঘনমিটার ১২ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ২৭ টাকা ৩৭ পয়সা করতে চায় কম্পানিগুলো। ভোক্তা সংগঠন ক্যাব বলছে, তেলের দাম বাড়িয়ে যে সর্বনাশ হয়েছে, এখন আবার গ্যাসের দাম বাড়ালে নিম্ন আয়ের মানুষ ভয়ংকর পরিস্থিতিতে পড়বে।

বিজ্ঞাপন

দেশের অর্থনীতিও হুমকিতে পড়বে। এ অবস্থায় কোনোভাবেই গ্যাসের দাম বাড়ানোর পক্ষে নয় ক্যাব।

অন্যদিকে গ্যাস বিতরণকারী কম্পানির প্রস্তাব বিধিসম্মত না হওয়ায় গ্রহণ করেনি বিইআরসি।

প্রবিধানমালা মেনে প্রস্তাব দিতে বলেছে তারা। বিইআরসি বলেছে, গ্যাসের দাম বাড়ানোর আবেদন করতে হলে প্রবিধানমালা মেনে প্রস্তাব দিতে হবে। বিতরণ কম্পানি তা করেনি। নিরীক্ষা প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় নথিও জমা দেয়নি। তাই তাদের নিয়ম মেনে আবেদন করতে বলা হয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ গত ৩ জানুয়ারি গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব বিইআরসিতে পাঠাতে পেট্রোবাংলাকে নির্দেশনা দেয়। পরে পেট্রোবাংলা আমদানি করা এলএনজি ও দেশীয় গ্যাসের দামসহ বিভিন্ন চার্জ ধরে খসড়া হিসাব বিতরণ কম্পানিগুলোকে পাঠানোর পর বিতরণ কম্পানিগুলো দাম বাড়ানোর প্রস্তাব কমিশনে পাঠায়।

জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গ্যাস বিতরণকারী কম্পানিগুলো তাদের মতো করে প্রস্তাব দিয়েছে। এখন দাম বাড়ানোর বিষয়ে সরকারকে বুঝে-শুনে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ, দাম বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি খাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ’

তিতাস গ্যাস, বাখরাবাদ, পশ্চিমাঞ্চলীয় গ্যাস কম্পানি, সুন্দরবন, কর্ণফুলী ও জালালাবাদ গ্যাস কম্পানি গ্যাসের দাম বাড়াতে যে চিঠি পাঠিয়েছে তাতে বাসাবাড়িতে দুই চুলার গ্যাসের দাম উল্লেখ করেছে ২১০০ টাকা, বর্তমানে দাম ৯৭৫ টাকা। এক চুলার দাম ৯২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে দুই হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মিটার আছে এমন চুলায় প্রতি ঘনমিটার ১২ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ২৭ টাকা ৩৭ পয়সা করার প্রস্তাব দিয়েছে।

বিইআরসি সূত্র বলেছে, দেশে যে গ্যাস সরবরাহ করা হয়, তার প্রায় ৭৮ শতাংশ আসে নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্র থেকে। কাতার ও ওমানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি আমদানি হয় মোট সরবরাহের ১৭ শতাংশ। বাকি ৫ শতাংশ আন্তর্জাতিক খোলাবাজার (স্পর্ট মার্কেট) থেকে সংগ্রহ করা হয়।

এই ৫ শতাংশ গ্যাসের বাড়তি দামের নামে গ্যাসের দাম দ্বিগুণ করার ন্যূনতম যৌক্তিকতা দেখছেন না ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা।

ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এলএনজির দাম বাড়ার কারণে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মাত্র ৪-৫ শতাংশ এলএনজি কেনা হয় খোলাবাজার থেকে। এই অজুহাতে গ্যাসের দাম দ্বিগুণ করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। দেশীয় গ্যাসের দাম বাড়ানোরও কোনো কারণ নেই। এলএনজি, যেটা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে কেনা হয়েছে তার দামও বাড়ানোর দরকার নেই। ’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রয়োজনে খোলাবাজার থেকে এলএনজি আমদানি বন্ধ করে রেশনিং করা হোক। কিছুদিন আগে তেলের দাম বাড়িয়ে যে সর্বনাশ হয়েছে, এখন আবার গ্যাসের দাম বাড়ালে নিম্ন আয়ের মানুষ ভয়ংকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়বে। দেশের অর্থনীতিও হুমকিতে পড়বে। ’

জানতে চাইলে বিইআরসির চেয়ারম্যান আবদুল জলিল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গ্যাস বিতরণ কম্পানিগুলোর দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে তথ্যের ঘাটতি থাকায় প্রবিধানমালা মেনে প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে। ’

গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিপক্ষে ব্যবসায়ীরা

গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন দেশের শিল্পোদ্যোক্তারা। তাঁরা বলেছেন, গ্যাসের দাম বাড়ালে উৎপাদন খরচ আরো বাড়বে, যা শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমিয়ে দেবে। মহামারিকালীন অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানো ব্যাহত হবে।

গতকাল বুধবার এফবিসিসিআই কার্যালয়ে পাওয়ার, এনার্জি ও অন্যান্য সেবাবিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির প্রথম সভায় গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ব্যবসায়ীরা।

 



সাতদিনের সেরা