kalerkantho

শনিবার ।  ২১ মে ২০২২ । ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩  

দাম্পত্য কলহ থেকে খুন

অভিনেত্রী শিমু হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক ও কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি   

২০ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দাম্পত্য কলহ থেকে খুন

রাইমা ইসলাম শিমুর

ব্যবসা বন্ধসহ নানা কারণে হতাশাগ্রস্ত ছিলেন অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমুর স্বামী সাখাওয়াত আলী নোবেল। স্ত্রীর প্রতি হয়ে উঠেছিলেন সন্দেহপ্রবণ। এ নিয়ে দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়। শিমুও স্বামীকে সন্দেহের চোখে দেখতেন।

বিজ্ঞাপন

সামান্য বিষয় নিয়ে ঝগড়াঝাঁটি, এমনকি মারামারি করেছেন তাঁরা। গত রবিবার সকালে ঝগড়ার এক পর্যায়ে নোবেল স্ত্রীর গলা চেপে ধরেন। এতে তাঁর মৃত্যু হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে অভিনেত্রী শিমুর স্বামী নোবেল এমন তথ্য দিয়েছেন জানিয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, তাঁর কথায় কিছু প্রশ্নের জবাব মিলছে না। এ কারণে তাঁকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিন দিনের রিমান্ডের প্রথম দিন গতকাল বুধবার নোবেল ও তাঁর বন্ধু এস এম ওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

শিমুর স্বজনরা বলে, খুনি যে-ই হোক, তার ফাঁসি চায় তারা। তবে নোবেলের সঙ্গে বড় ধরনের ঝগড়ার আলামত পায়নি স্বজনরা। তাই শিমুকে হত্যা তাদের কাছে বিস্ময়কর।

শিমু চলচ্চিত্রশিল্পীদের অন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। তাঁর নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও ছিল। তাই হত্যার পেছনে অন্য কোনো বিষয় আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানায় স্বজনরা।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার কালের কণ্ঠকে বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ ছিল। ঘটনার চার-পাঁচ দিন আগে থেকে তুমুল ঝগড়া হচ্ছিল। সব বিষয়ই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদ ও আলামতে ঝগড়া থেকে হত্যার তথ্য মিলেছে।

তবে তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, অন্য কারো সঙ্গে স্ত্রীর অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে—এমন সন্দেহ ছিল নোবেলের। এ নিয়ে ঝগড়া হয়। নোবেল আগে পান্থপথে গাড়ির যন্ত্রাংশের ব্যবসা করতেন। তিন বছর আগে তাঁর ব্যবসা বন্ধ হয়েছে। ডায়াবেটিসসহ কিছু রোগও আছে। তিনি করোনায় আক্রান্ত হন। এর পর থেকে তাঁদের মাঝে বেশি কলহ দেখা দেয়। ডিম ভাজি করা, ঘর গোছানো, এমনকি কথা বলার ধরন নিয়ে তাঁরা ঝগড়া করতেন।

জিজ্ঞাসাবাদে নোবেল বলেন, রবিবার সকালে ঝগড়ার এক পর্যায়ে তিনি শিমুকে চড় দেন। শিমুও তাঁকে চড় দেন। এতে রেগে তিনি শিমুর গলা চেপে ধরেন। এক পর্যায়ে তাঁর মৃত্যু হয়। তখন তিনি মরদেহ ফেলে দিতে বন্ধু ফরহাদকে ডেকে আনেন। দুজন গাড়িতে মরদেহ নিয়ে ঘোরেন। পরে মরদেহ ফেলে বন্ধুর সঙ্গে পরামর্শ করে স্ত্রী নিখোঁজ বলে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, হতাশা থেকে মাদকও সেবন করতেন নোবেল। এ কারণে তাঁর সব কথা বিশ্বাস করছেন না তদন্তকারীরা। তাঁরা আলামতসহ অন্য সাক্ষ্য-প্রমাণের সঙ্গে নোবেলের কথা মিলিয়ে দেখছেন।

জানতে চাইলে কেরানীগঞ্জ থানার ওসি আবু সালাম মিয়া বলেন, ‘তদন্তের এই পর্যায়ে কী কারণে, কিভাবে খুন, তা স্পষ্ট বলা যাবে না। আমরা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি। পরে জানা যাবে। ’



সাতদিনের সেরা