kalerkantho

শনিবার ।  ২১ মে ২০২২ । ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩  

ঠাঁই নেই লোকাল ট্রেনে

সজিব ঘোষ   

২০ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




ঠাঁই নেই লোকাল ট্রেনে

ডেমু ট্রেনটি যাবে নারায়ণগঞ্জ। করোনার মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে গাদাগাদি করে সেই ট্রেনে উঠছে মানুষ। গতকাল ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

কমলাপুর রেলস্টেশনের লোকাল প্ল্যাটফর্ম। দুপুর ১টার দিকে লাইনে থেমে আছে নারায়ণগঞ্জ মেইল ট্রেন। মনে হচ্ছিল, ট্রেনের কোনো সমস্যা হওয়ায় যাত্রীরা ট্রেন থেকে নেমে রেললাইনের ওপর ও আশপাশে অপেক্ষা করছে। বাস্তবে থেমে থাকা ট্রেনের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

বিজ্ঞাপন

কিছুক্ষণ পর দূরে একটি ট্রেনের হুইসল শোনা গেল। দুজন রেল পুলিশ লাঠি হাতে দৌড়ে এসে যাত্রীদের লাইন থেকে সরানোর চেষ্টা করছে। মুহূর্তেই সবাই সরে গেল। লাইনে এসে থামল চার বগির ডেমু ট্রেন। এতে বসার আসন খুব কম। তাই বসার জায়গা দখল করতে সবাই হুড়াহুড়ি করে উঠল। মুহূর্তেই আসন পূর্ণ। এরপর ট্রেনে দাঁড়ানোর জায়গা পেতে যুদ্ধ। গাদাগাদি করে দাঁড়াল যাত্রীরা। জায়গা না পেয়ে অনেকে আর উঠতে পারেনি। দেড়টার দিকে নারায়ণগঞ্জের পথে কমলাপুর ছেড়ে যায় ডেমু ট্রেনটি।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, প্রতিদিন ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে মেইল ও ডেমু মিলিয়ে ১০টি ট্রেন চলে। সব ট্রেনের চিত্র প্রায় একই রকম। নিয়মিত যাতায়াত করে এমন যাত্রীদের ভাষ্য, বিকেল-সন্ধ্যায় ট্রেনে ওঠা আরো কঠিন। কমলাপুর ছেড়ে যাওয়ার পর ট্রেনের ছবি আরো ভয়ংকর হয়।

কমলাপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ যাওয়ার পথে এসব ট্রেন অন্তত গেণ্ডারিয়া, বড়ুইতলা, পাগলা, ফতুল্লা ও চাষাঢ়ায় থামে। এসব স্টেশনে রেল কর্তৃপক্ষের নজরদারি না থাকায় পরিস্থিতি আরো খারাপ। কমলাপুর থেকে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী সব লোকাল ট্রেনের চিত্র প্রায় একই রকম।

কমলাপুরেই স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে ট্রেনে যাত্রী ওঠার বিষয়ে জানতে চাইলে টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা রায়হান আহাম্মেদ বলেন, অর্ধেক টিকিট বিক্রির কোনো নির্দেশনা তাঁরা পাননি।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিচালন) সরদার শাহাদাত আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘লোকাল ট্রেন নিয়ে অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না। আমাদের জনবল দিয়ে লোকাল ট্রেনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। ’

অভিযোগ পাওয়া গেছে, লোকাল ট্রেনের ক্ষেত্রে অর্ধেক টিকিট বিক্রির কোনো নির্দেশনা মাঠ পর্যায়ে পাঠানো হয়নি। তাই কাউন্টারগুলোতে শতভাগ টিকিট  বিক্রি করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে শাহাদাত আলী দাবি করেন, ‘আমরা বলেছি। কিন্তু লোকাল ট্রেনের প্ল্যাটফর্ম একেবারেই উন্মুক্ত থাকে। টিকিট না দিলেও মানুষ ট্রেনে উঠে যায়। এসব ট্রেনের দরজা বন্ধের কোনো ব্যবস্থা নেই। একটি ট্রেনের ৪৮টি পর্যন্ত দরজা থাকে। এগুলো নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। ’

রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, ‘বেসরকারিভাবে যারা ট্রেন চালায়, তাদের আমরা একাধিকবার বলেছি। পরিস্থিত এমন চললে বিকল্প চিন্তা করতে হবে, প্রয়োজনে সার্ভিস বন্ধ করা হতে পারে। ’

বেসরকারিভাবে ট্রেন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসআর ট্রেডিংয়ের টিকিট এজেন্ট মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা থেকে আমরা ট্রেনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই রাখি। এরপর আর আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই। টিকিট না দিলে যাত্রীরা টিকিট ছাড়াই ট্রেনে ওঠে। এসব ট্রেনে চেক করার কেউ থাকে না। ’

আন্ত নগর ট্রেনগুলোর অবস্থাও খুব সুখকর নয়। গতকাল দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে কমলাপুর থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে যায় সিল্কিসিটি। এই ট্রেনে কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত চড়ে দেখা যায়, অনেক আসনেই পাশাপাশি যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। জয়দেবপুর পর্যন্ত যাবে, এমন অনেক যাত্রীর টিকিট নেই। বিমানবন্দর স্টেশন প্ল্যাটফর্মেও যাত্রীদের গাদাগাদি অবস্থা। বেশির ভাগের মুখে মাস্ক নেই। নেই তেমন কোনো নজরদারি।

জানতে চাইলে আরিফ হক নামের এক যাত্রী বলেন, ‘টিটিকে ম্যানেজ করে সিটে বসেছি। ’ আরেক যাত্রী মিলন বলেন, ‘এখন টিকিট পাওয়া কঠিন। তাই ট্রেনে উঠে পড়ি। টিটি এলে কিছু দিয়ে দিই। ’

কমলাপুর রেলস্টেশনের মাস্টার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা সরকারের নির্দেশ মেনে চলার পুরো চেষ্টা করছি। যতটুকু সম্ভব নজরদারিও চলছে। ট্রেনে চড়ে কেউ মাস্ক খুলে ফেললে আমাদের আর কী করার আছে। ’



সাতদিনের সেরা