kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ২৬ মে ২০২২ । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৪ শাওয়াল ১৪৪

মালিকদের ইচ্ছামতোই চলছে বাস

সজিব ঘোষ   

১৯ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মালিকদের ইচ্ছামতোই চলছে বাস

সরকারি স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে গণপরিবহনে শতভাগ আসনের বাইরেও দাঁড় করিয়ে যাত্রী নেওয়া হয়। এ সময় অনেকের মুখে মাস্ক ছিল না। গতকাল রাজধানীর কাকরাইল এলাকা থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর জিরো পয়েন্ট এলাকা। সদরঘাট থেকে ছেড়ে আসা ভিক্টর ক্লাসিকের একটি বাস দাঁড়িয়ে আছে। বাসের সব আসনে যাত্রী, আসন না পেয়ে দুজন দাঁড়িয়ে আছে। তার পরও বাসের হেল্পার বাড্ডা, রামপুরা, নদ্দা বলে চিৎকার করে ডেকে বাসে যাত্রী তুলছেন।

বিজ্ঞাপন

বাসটি যখন জিরো পয়েন্ট ছেড়ে যাচ্ছিল, তখন এতে অন্তত আটজন দাঁড়ানো যাত্রী ছিল।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর গুলিস্তান, কাকরাইল, রামপুরা, শাহবাগ, বাড্ডা ও ফার্মগেট এলাকা ঘুরে প্রায় সব বাসেই দাঁড়িয়ে যাত্রী পরিবহনের দৃশ্য দেখা গেছে। স্বাস্থ্যবিধির কোনো নির্দেশনাই মানছে না কোনো গণপরিবহন।

করোনা নিয়ন্ত্রণে সব ধরনের গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক আসনে যাত্রী পরিবহনের নির্দেশনা দিয়ে গত ১০ জানুয়ারি প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। ১৩ জানুয়ারি থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে ১২ জানুয়ারি বাস মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। বৈঠকের পর রাতেই বিআরটিএ জানায়, ১৫ জানুয়ারি থেকে বাসে অর্ধেক আসনে যাত্রী পরিবহন করতে হবে। যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না।

বৈঠকের পরদিন ১৩ জানুয়ারি রাতে এক চিঠিতে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ দাবি করেন, শতভাগ আসনে যাত্রী নিয়ে বাস চালানোর অনুমতি পাওয়া গেছে।

ঢাকায় চলাচল করা বাস মালিকদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের উদ্দেশে এনায়েত উল্যাহ স্বাক্ষরিত ওই চিঠি পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, “সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে গাড়িতে ‘যত সিট তত যাত্রী’ নিয়ে চলাচলের সিদ্ধান্ত আমাদের মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। ” তবে মৌখিকভাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কে এমন অনুমতি দিল, তা সেই চিঠিতে উল্লেখ ছিল না।

জানতে চাইলে এনায়েত উল্যাহ কালের কণ্ঠের কাছে দাবি করেন, ‘আমরা বিআরটিএর কাছ থেকে প্রথমে মৌখিক নির্দেশনা পেয়েছি। পরে আমরা লিখিতও পেয়েছি। আর স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য ক্যাবিনেট যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, সেগুলো মেনে চলতে আমরা বলেছি। ’

শতভাগ যাত্রী নিয়ে বাস চালানো যাবে—এমন লিখিত নির্দেশনায় কে স্বাক্ষর করেছিলেন—এমন প্রশ্নে এনায়েত উল্যাহ বলেন, একজন পরিচালকের স্বাক্ষরিত। বিআরটিএর নতুন এই নির্দেশনা সাধারণ মানুষের জন্য প্রকাশ করা হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা ওরা (বিআরটিএ) বলতে পারবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, বাস মালিকদের এই দাবি সত্য। বিআরটিএ থেকে তারা বলেছে। ‘যত আসন তত যাত্রী’ পরিবহনের বিষয়টি কবে নাগাদ নির্দেশনা আকারে জারি করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি বিআরটিএ বলতে পারবে।

বিআরটিএর চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, ‘এটি সরকারের নির্দেশনা। মন্ত্রিপরিষদসচিব তাঁকেও (এনায়েত উল্যাহ) বলেছিলেন, আমাকেও বলেছিলেন। ’ বিআরটিএ থেকে এসংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘জারি হয়েছে। জারি না হলে..., যত আসন তত যাত্রী—এটিই এখন সরকারের নির্দেশনা। ’

বিআরটিএর ওয়েবসাইটের নোটিশে ‘যত আসন তত যাত্রী’ নিয়ে বাস চলবে—এমন কোনো নির্দেশনা দেখা যায়নি। সর্বশেষ প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, অর্ধেক যাত্রী নিয়ে বাস চলার কথা। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকেও শতভাগ আসনে যাত্রী নিয়ে বাস চালানোর কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি।

১৩ জানুয়ারি বিআরটিএর সর্বশেষ নির্দেশনায় বলা হয়, ‘১৫ জানুয়ারি থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন সাপেক্ষে গণপরিবহন চালানো হবে। কোনোভাবেই মোটরযানের মোট আসনের অর্ধেকের বেশি যাত্রী বহন করা যাবে না। ’

কর্মকর্তারাও দ্বিধায়

এরই মধ্যে বাসে স্বাস্থ্যবিধি পালন করা হচ্ছে কি না, তা দেখতে সড়কে অভিযান পরিচালনা করছে বিআরটিএ। এই অভিযানে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন বলতে কী বোঝাচ্ছে, তা জানতে চাইলে এক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রশ্নটা আমাকে না করাই ভালো। ’

চলমান এই অভিযানের সঙ্গে জড়িত এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাসে অর্ধেক যাত্রী চলবে, নাকি শতভাগ, সেটা আমরাই পরিষ্কার নই। বিআরটিএর কাছ থেকে আমরাই এখনো কোনো নির্দেশনা পাইনি। আপাতত মাস্ক না পরলে বা দাঁড়িয়ে যাত্রী পরিবহন করা হলে জরিমানা করছি। ’ 

যেহেতু এখনো কোনো নতুন নির্দেশনা বা প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়নি, তাই আগের নির্দেশনাই কার্যকর থাকার কথা।

 



সাতদিনের সেরা