kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ২৬ মে ২০২২ । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৪ শাওয়াল ১৪৪

ছাদবাগান

মরুর গাছ ছাদে

কৌশিক দে, খুলনা   

১৯ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মরুর গাছ ছাদে

খুলনা মহানগরীর বসুপাড়া লেনে চিকিৎসক ভ ম শফিকুর রহমানের ছাদবাগান। ছবি : কালের কণ্ঠ

মিলিয়ন হার্টস, ভেরিগেটেড হয়া, মিটরাটা হয়া, সুইটহার্ট, অ্যান্ট প্ল্যান্ট, সুপার স্প্ল্যাশ হয়া, র‌্যাবিট ফুট, জেবরিনা ভেলভেট, হাওয়ার্থিয়া ট্র্যানসিয়েন্স—এমন শত শত বিচিত্র আর জটিল নামের হাজারো গাছের এক বাগান। না, বোটানিক্যাল গার্ডেন বা কোনো কৃষি শিক্ষায়তনের বাগান নয়, খোদ শহুরে বাড়ির ছাদে ঘটেছে এই গাছের সমাবেশ। আরো কৌতূহলোদ্দীপক যা, সেটি হচ্ছে গাছগুলো মূলত মরুভূমি অঞ্চলের। এগুলো সবই সৌন্দর্যবর্ধক গাছ।

বিজ্ঞাপন

শখ করে বাড়ির ছাদে এ বিচিত্র বাগান সাজিয়েছেন তরুণ চিকিৎসক ভ ম শফিকুর রহমান। খুলনা মহানগরীর বসুপাড়া লেনে তাঁর বাড়ি। দেশে করোনা সংক্রমণের শুরুতে ঘরবন্দি হয়ে পড়েছিল স্কুলপড়ুয়া একমাত্র সন্তান। তার একাকিত্ব কাটানোর পাশাপাশি শারীরিকভাবে সক্রিয় রাখার কৌশল হিসেবে ব্যতিক্রমধর্মী এ বাগান গড়ার উদ্যোগ নেন। বর্তমানে এখানে ৩০০ প্রজাতির দুই হাজারের বেশি গাছ আছে।

ইন্টারনেট ঘেঁটে শফিকুর বের করেন নানা প্রজাতির গাছের নাম-পরিচয় ও বিশদ তথ্য। শুরু করেন বাড়ির নিচের ফাঁকা স্থানে। পরে গড়ে তোলেন ছাদবাগান। শফিকুর জানালেন, এ ধরনের বাগানে খুব বেশি মাটির প্রয়োজন হয় না। ফলে ইট-কাঠের শহরে মাত্র দুই বছরে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়া ছেলেকে নিয়ে গড়ে তুলেছেন সৌন্দর্যবর্ধক গাছের রাজত্ব। এই শখের পেছনে ব্যয় করেছেন সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি আমার নিজের প্রয়োজনেই কাজটি শুরু করি। ঘরবন্দি সন্তানকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে বাগান করার উদ্যোগ নিই। ইন্টারনেট থেকে গাছের ছবি, ফুলের ছবি দেখিয়ে তাকে আগ্রহী করে তুলেছি। তার পছন্দ অনুযায়ীই গাছ কিনেছি। ’ শফিকুর জানালেন, বাগানের জন্য ভারত, থাইল্যান্ডের পাশাপাশি মরু অঞ্চলের গাছকে প্রাধান্য দিয়েছেন। বাংলাদেশের আবহাওয়া পৃথিবীর অনেক উদ্ভিদের জন্যই অনুকূল—এই তথ্য জেনে বিদেশি বিভিন্ন বাহারি উদ্ভিদের চাষ শুরু করেন। পাঁচ হাজার থেকে ১০/১৫ হাজার টাকায় ছোট ছোট গাছ কিনতে হয়েছে তাঁকে। বর্তমানে তাঁর বাগানে দেশি-বিদেশি ১০০ প্রজাতির হয়া, ৬০ প্রজাতির সাকুলেন্ট, ১০ প্রজাতির ফার্নসহ প্রায় ৩০০ প্রজাতির দুই হাজার গাছ রয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমার মূল উদ্দেশ্য সবুজ পরিবেশ নিয়ে সবার মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা। গাছ একটা প্রশান্তির জিনিস। পাশাপাশি ইচ্ছা করলে কেউ এ থেকে আয়ও করতে পারেন। ’

বৃক্ষপ্রেমী এই চিকিৎসকের পরামর্শ, ইট-লোহা-কাচে ঘেরা শহরের বাসিন্দা হলে এমন কিছু গাছ নিয়ে কাজ করা যায়, যাতে মাটি প্রায় লাগেই না। অল্প জায়গায়, এমনকি ঘরের মধ্যেও থাকে। প্রশান্তি দেয়, আবার অক্সিজেনও পাওয়া যায়।

মরুর জাতের গাছগুলোর টবে ২৫ শতাংশের বেশি মাটি নেই। মূল উপাদান কাঠকয়লা, তুষ, ছাই, নিমের গুঁড়া, খইল, কোকোপিট, কিছু হাড়ের গুঁড়া ও কিছু মাটি। অর্কিডের চাষ হচ্ছে শুধু কয়লার ওপর।

 



সাতদিনের সেরা