kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ২৬ মে ২০২২ । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৪ শাওয়াল ১৪৪

চট্টগ্রাম বিএনপি

মামলার জালে সাংগঠনিক কার্যক্রমে ভাটা

মুস্তফা নঈম, চট্টগ্রাম   

১৯ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মামলার জালে সাংগঠনিক কার্যক্রমে ভাটা

মামলার জালে চট্টগ্রাম নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে ভাটা পড়েছে। কমিটির আহ্বায়ক থেকে শুরু করে সদস্য পর্যন্ত প্রায় সবাই কোনো না কোনো মামলার আসামি। নগর বিএনপির একজন নেতা বলেছেন, সাপ্তাহিক বন্ধের দিন শুক্রবার ও শনিবার ছাড়া প্রায় প্রতিদিন আদালতে হাজিরা দিতেই তাঁদের দিন কেটে যায়।  

দলীয় নেতারা জানান, পুলিশের হামলা ও মামলা মাথায় নিয়েও নেতাকর্মীরা রাজনীতির মাঠে আছেন।

বিজ্ঞাপন

তবে এমন ঝক্কি-ঝামেলার মধ্যে উপজেলা, পৌরসভা, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে দলের কমিটি গঠনের কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। সময়মতো কাজ এগিয়ে নেওয়া যাচ্ছে না। ২০১৪ সাল থেকে সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে বিভিন্ন ঘটনায় নেতাকর্মীর বেশির ভাগ নানা মামলার আসামি হয়েছেন।

তাঁদের দাবি, বেশির ভাগ মামলা গায়েবি ও সাজানো।

চট্টগ্রাম নগর বিএনপির আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘সরকার কথায় কথায় আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা দিচ্ছে। সর্বশেষ ৫ জানুয়ারি আমাদের নেতাকর্মীদের কোনো কারণ ছাড়াই লাঠিপেটা করে পুলিশ। পরে উল্টো নেতাকর্মীদের আসামি করে মামলা দেয় পুলিশ। এটা রাজনৈতিক হয়রানি ছাড়া আর কিছু নয়। এসব গায়েবি মামলার কারণে আমাদের বেশির ভাগ সময় চলে যাচ্ছে আদালতে। এতে সাংগঠনিক কার্যক্রমে সাময়িক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। ’

নগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী বলেন, ‘নগর আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয় ৩৯ সদস্যের। সম্প্রতি শামসুল আলম নামের একজন সদস্য মারা যান। তাঁর বিরুদ্ধে এক ডজনের বেশি মামলা ছিল। বর্তমানে কমিটির ৩৮ জন সদস্যের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ৩০টির বেশি মামলা রয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা ৫৮টি। সদস্যসচিব আবুল হাশেম বক্করের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা ৩৪। দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ানের বিরুদ্ধে মামলা ২৬টি। আব্দুল হালিম স্বপন নামে নগর বিএনপির এক নেতার নামে মামলা ৫৭টি। তবে সবচেয়ে বেশি মামলা আছে নগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে নগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য গাজী সিরাজের বিরুদ্ধে। মামলার সংখ্যা কমপক্ষে ৭০। নগর ও জেলার বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশের নানা কিসিমের মামলার সংখ্যা হাজারের বেশি। ’

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘জেলার সাত উপজেলা ও ৯ পৌরসভার এমন কোনো নেতা নেই যাঁদের বিরুদ্ধে ১০ থেকে ১২টি করে মামলা নেই। এসব মামলায় জামিন নেওয়া ও হাজিরা দিতেই সময় চলে যাচ্ছে সবার। উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ৪৩ জন। এঁদের প্রায় প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আছে মামলা। ’

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির ৬৫ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে মামলা ছাড়া কোনো সদস্য নেই বলে জানান আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান। গতকাল সোমবার তিনি বলেন, “একই রকম অবস্থা সাংগঠনিক জেলা নগর ও উত্তরেরও। ” 

এদিকে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির ৬৫ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির মধ্যে উপজেলা ও পৌরসভার কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জের ধরে গত বছরের ৬ জানুয়ারি সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কসহ তিনজনকে বহিষ্কার করা হয়। বর্তমানে ৬২ সদস্য নিয়ে চলছে সাংগঠনিক কার্যক্রম।

বহিষ্কৃত সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আব্বাস অভিযোগ করেন, ‘চারটি উপজেলা ও তিনটি পৌরসভাসহ সাতটি ইউনিটে কমিটি গঠন নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ দেখা দিলে পাল্টা কমিটি গঠন করা হয়। এসব উপজেলা ও পৌরসভায় এখনো দুটি করে কমিটি রয়েছে। এই ঘটনায় কেন্দ্র থেকে আমাদের শোকজ করে কোনো ধরনের জবাব দেওয়ার আগেই তিনজনকে বহিষ্কার করা হয়। এর পর থেকে জেলায় আর কোনো ইউনিটে কমিটি গঠন করা যায়নি। ’

আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান জানান, দক্ষিণ জেলার উপজেলা ও পৌরসভাগুলোতে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।

উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বেলায়েত জানান, এত ঝামেলার পরও সাতটি উপজেলার প্রতিনিধিসভা গতকাল শেষ হয়েছে। এখন পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে কমিটি গঠনের কাজ।

 



সাতদিনের সেরা