kalerkantho

বুধবার ।  ২৫ মে ২০২২ । ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৩ শাওয়াল ১৪৪৩  

‘কম্বলডা পাওনে বেশ ভালো অইল’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




‘কম্বলডা পাওনে বেশ ভালো অইল’

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় গতকাল দরিদ্র শীতার্তদের হাতে বসুন্ধরা গ্রুপের দেওয়া কম্বল পৌঁছে দেন কালের কণ্ঠ শুভসংঘের সদস্যরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘বাবারে মাঝে মাঝে শীতটা বাইড়া (বেড়ে) যায়। তখন অনেক কষ্ট হয়। আজকা (আজ) এই কম্বলডা পাইয়া বেশ ভালো অইল। গায়ে দিয়া একটু আরামে ঘুমাইতে পারুম।

বিজ্ঞাপন

যারা এই কম্বল দিল আল্লায় তাগো ভালো রাখুক। ’ বসুন্ধরা গ্রুপের দেওয়া কম্বল হাতে নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পদ্মাপারের কুমারভোগ ইউনিয়নের খড়িয়া গ্রামের বৃদ্ধা জমেলা খাতুন।

বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় ও কালের কণ্ঠ শুভসংঘের আয়োজনে গতকাল রবিবার কুমারভোগের দুই শতাধিক শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া এদিন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ, বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার, নীলফামারীর সৈয়দপুর ও ময়মনসিংহের ভালুকায় ৯ শতাধিক মানুষকে কম্বল দেওয়া হয়।

কুমারভোগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. লুত্ফর রহমান তালুকদার উপস্থিত থেকে কম্বল বিতরণ করেন। তিনি বলেন, ‘সরকার দরিদ্রদের কম্বল দিলেও তা পর্যাপ্ত নয়। বসুন্ধরা গ্রুপের এই কম্বলে আমার এলাকার গরিবদের বেশ উপকার হয়েছে। বসুন্ধরাকে এ জন্য অনেক ধন্যবাদ। ’ এর আগে মুন্সীগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় দুই হাজার ৮০০ শীতার্ত গরিব-দুঃখীর মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।

কমলগঞ্জ উপজেলার উজিরপুর কাজীবাড়ি প্রাঙ্গণে দরিদ্র, রিকশা শ্রমিক, শব্দকর, দিনমজুর, দোকানিসহ ৩০০ শীতার্ত ও অসহায় মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়। শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. জুয়েল আহমেদ। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক ও শুভসংঘের সদস্যরা।

কম্বল পেয়ে সদর ইউনিয়নের রাজারগাঁও গ্রামের খালেদা বিবি (৫০) বলেন, ‘পোয়ার (ছেলে) লাগি দুআ করি, আল্লায় তানরে (তাঁকে) বড় করতা। ঠাণ্ডায় খুব কষ্টে আছলাম। কমল (কম্বল) পাইয়া খুবই খুশি। এখন বাচ্চাইন্তরে (সন্তান) লইয়া আরামে ঘুমাইতে পারমু। ’

শ্রীমঙ্গলের ভৈরববাজার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দুপুরে ৩০০ শীতার্ত মানুষকে কম্বল দেওয়া হয়। কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা চেয়ারম্যান ভানু লাল রায়। কম্বল পেয়ে রাজিয়া (৬৫) বলেন, ‘নাতি লইয়া বড় কষ্টে ঘুমাই, কম্বলটা ফাইয়া বাক্কা আরামে আমার নাতি ঘুমাইবো। ’

আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের মাইক্রো বাসস্ট্যান্ড মাঠে ২০০ শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে সান্তাহার ইউপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান নাহিদ সুলতানা তৃপ্তি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ শুভসংঘের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এখানে কম্বল নিতে আসেন ছাতিয়ান গ্রামের রেণু বেওয়া, রূপবান বেওয়া ও উলি বেগমের মতো হতদরিদ্র অনেকে। তাঁরা জানান, কষ্টের সংসারে খাবার জোগানোই দায়। এই কম্বলে এখন শীতের কষ্ট থেকে কিছুটা রক্ষা পাবেন।

সকালে সৈয়দপুরের কামারপুকুর ইউনিয়নে তছির উদ্দিন দারুস সালাম হাফেজিয়া মাদরাসার দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩০টি কম্বল বিতরণ করা হয়। মাদরাসা চত্বরে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সৈয়দপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আবু হাসনাত সরকার। অন্যান্যের মধ্যে স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তি, রাজনীতিক, সাংবাদিক ও শুভসংঘের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

‘আমি গরিব, অন্ধ মানুষ। মানুষের বাইতে বাইতে (বাড়ি) বিক্কা কইরা কুনুরহমে বাঁইচ্চা আছি। আমার ইছতিরি মাইষ্যের বাইতে কাম করে। শীতে আমরা অনেক কষ্টে আছিলাম। কম্বলডা পাউনে খুব বালা অইছে। ’ শুভসংঘের মাধ্যমে কম্বল পেয়ে কথাগুলো বলছিলেন ভালুকা উপজেলার কাচিনা ইউনিয়নের তামাট গ্রামের তারাপ খান (৭৫)। ভালুকার তামাট ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা মাঠে স্থানীয় গণ্যমান্য ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সকালে অসহায়, ভিক্ষুক, ভ্যানচালক, রোগাক্রান্ত, বৃদ্ধসহ দেড় শ শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।

এর আগে পূর্ব ভালুকা গ্রামের প্রায় ৫০ জন হতদরিদ্রকে কম্বল দেওয়া হয়। কম্বল পেয়ে শহীদ পরিবারের অকিমন নেছা পক্কি (৭৫) বলেন, ‘অনেক শীত। কম্বলডা পাওয়াতে আমার খুবই উপুকার অইছে। ’

[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন মুন্সীগঞ্জ ও আদমদীঘি (বগুড়া), কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) ও শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), সৈয়দপুর (নীলফামারী), ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি]

 



সাতদিনের সেরা