kalerkantho

শনিবার ।  ২১ মে ২০২২ । ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩  

গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব আসছে

সজীব আহমেদ   

১৬ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব আসছে

ডিজেল-কেরোসিনের পর এবার দাম বাড়ছে প্রাকৃতিক গ্যাসের। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসে (এলএনজি) ভর্তুকির চাপ কমাতে গ্যাসের দাম বাড়ানোর কথা ভাবছে সরকার। এ নিয়ে বিতরণকারী কম্পানিগুলো তোড়জোড় শুরু করেছে। এরই মধ্যে দুটি কম্পানি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) দাম বাড়ানোর প্রস্তাব জমা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, আবাসিক, বাণিজ্যিকসহ সব ধরনের গ্যাসের দাম বাড়ানোর চূড়ান্ত প্রস্তাব এ সপ্তাহে জমা দিতে পারে গ্যাস বিতরণ কম্পানিগুলো। বিইআরসি বলছে, গত সপ্তাহে দু-একটি গ্যাস বিতরণ কম্পানি দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তা বিধিসম্মত না হওয়ায় ফেরত পাঠানো হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গ্যাস বিতরণকারী বেশির ভাগ কম্পানি এরই মধ্যে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব তৈরির কাজ শেষ করেছে। চলতি সপ্তাহে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব বিইআরসিতে যাবে। ’

তবে গ্যাস বিতরণকারী কম্পানিগুলো কতটুকু দাম বাড়াতে চায় তার ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বিইআরসির একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রস্তাব এলে প্রথমে তা কমিশনের বৈঠকে উত্থাপন করা হয়। এরপর নিয়ম অনুযায়ী গণশুনানি করে বর্ধিত দাম ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে বিতরণ এবং সঞ্চালন কম্পানির মার্জিন বৃদ্ধি করা হয়।

গত ২২ ডিসেম্বর অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ‘বাজেট মনিটরিং ও সম্পদ কমিটির’ বৈঠকে অর্থ বিভাগ থেকে দাম সমন্বয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়। ওই সভায় বলা হয়, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের দাম সমন্বয় বা বাড়ানো না হলে বাজেটে ভর্তুকি ব্যয় জিডিপির ২ শতাংশ বেড়ে যাবে। এরপর বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) থেকে নির্দেশনা পেয়ে গ্যাস বিতরণ কম্পানিগুলো প্রস্তাব তৈরির কাজ শুরু করে।

জ্বালানি বিভাগ বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বাড়ায় চলতি বছর সার, বিদ্যুৎ এবং গ্যাসে ৭০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি লাগবে। কিন্তু বাজেটে মাত্র সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি রাখা হয়েছে। ফলে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকির সংস্থানে দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গত বছরের জানুয়ারিতে প্রতি এমএমবিটিইউ (ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট) বা প্রতি ইউনিট স্পট এলএনজির দাম গড়ে ১০ ডলার ছিল। বর্তমানে এটির দাম বেড়ে ৪০ থেকে ৪৫ ডলার হয়ে গেছে।

জ্বালানি বিভাগ চায় ভর্তুকি বাড়াতে। কিন্তু অর্থ বিভাগ জানিয়ে দিয়েছে, ভর্তুকি বাড়ানো সম্ভব নয়। বাজেট বরাদ্দ সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি করা সম্ভব নয়। নিজেদের তহবিল থেকেই সমন্বয় করতে হবে। সে কারণে দাম বাড়ানো ছাড়া কোনো উপায় দেখছে না জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

জানতে চাইলে অর্থনীতিবিদ এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম বাড়ায় ভর্তুকি বাড়ছে। ভর্তুকি সামাল দিতে গিয়ে এখন গ্যাসের দাম বাড়াতে সরকার বাধ্য হচ্ছে। তবে গ্যাসের দাম বাড়লে উৎপাদন খরচ বাড়বে। ’ তিনি মনে করেন, এখন গ্যাসের দাম বাড়ানো হলেও, যখন বিশ্ববাজারে কমে আসবে, তখন কমানো উচিত।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ম. তামিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কয়েক গুণ বেশি দামে এলএনজি আমদানি করছে সরকার। এ জন্য বড় ভর্তুকি যাচ্ছে গ্যাস আমদানিতে। সুতরাং গ্যাসের দাম কিছুটা হলেও বাড়াতে হবে। তবে গ্যাসের দাম বেশি বাড়ালে শিল্প-কারখানায় ব্যাপকভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কারণ, শিল্পের বড় একটি অংশ গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুতে চলে। ’

দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাস বিতরণ কম্পানি তিতাসের কর্মকর্তারা বলছেন, পেট্রোবাংলার নির্দেশনায় গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব তৈরি করেছেন তাঁরা। রবি-সোমবার (আজ-কাল) নাগাদ সেটি কমিশনে জমা দেওয়া হতে পারে।

গত ৩ নভেম্বর ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা করে বৃদ্ধি করেছে সরকার। গ্যাসের দাম বাড়লে গ্যাসনির্ভর বিদ্যুেকন্দ্রগুলোর উৎপাদন খরচও বাড়বে। সে হিসাবে ভবিষ্যতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবও দিতে পারে বিদ্যুৎ বিতরণকারী কম্পানিগুলো। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১ জুলাই গ্যাসের দাম বাড়িয়েছিল বিইআরসি।



সাতদিনের সেরা