kalerkantho

শনিবার ।  ২১ মে ২০২২ । ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩  

‘১০ হাজার টাকার জন্য হত্যা করা হয় অধ্যাপক সাঈদাকে’

তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর আনারুলের

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর    

১৬ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘১০ হাজার টাকার জন্য হত্যা করা হয় অধ্যাপক সাঈদাকে’

১০ হাজার টাকা ছিল সাঈদা গাফ্ফারের পার্সে। ওই টাকা ছিনিয়ে নিতেই সাঈদা গাফ্ফারকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করেন আনারুল ইসলাম। পরে লাশ ঝোপের ভেতর ফেলে ওই টাকা, সাঈদার সঙ্গে থাকা একটি অ্যান্ড্রয়েড ও একটি বাটন মোবাইল ফোন নিয়ে গাইবান্ধায় পালিয়ে যান। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে এসব তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক সাঈদা গাফ্ফার হত্যায় অভিযুক্ত রাজমিস্ত্রি আনারুল ইসলাম (২৫)।

বিজ্ঞাপন

আনারুলকে গত শুক্রবার সকালে নিজ গ্রাম থেকে আটক করে গাজীপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কাশিমপুর থানা পুলিশের একটি দল। গতকাল শনিবার তাঁকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে গাজীপুর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই দীপংকর রায়।

দীপংকর রায় কালের কণ্ঠকে জানান, মঙ্গলবার বিকেলে নির্মাণাধীন বাড়ির প্লট থেকে ১০ হাজার টাকায় পাঁচটি গাছ বিক্রি করেন সাঈদা গাফ্ফার। গাছ কাটেন রাজমিস্ত্রি আনারুল। গাছ কাটা শেষে সন্ধ্যায় নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে পানিশাইলের ভাড়া বাসায় ফিরছিলেন সাঈদা। তখন আনারুল তাঁর পেছন পেছন আসতে থাকেন। পথে ১০ হাজার টাকা থেকে কিছু টাকা চান আনারুল। টাকা দিতে অস্বীকার করলে পেছন থেকে সাঈদার মুখ চেপে ধরেন তিনি। এরপর গলার ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। লাশ ঝোপের ভেতর ফেলে আনারুল সাঈদার ভাড়া বাসায় গিয়ে আলমারি খুলে টাকা-পয়সার খোঁজ করেন। পরে পালিয়ে শ্বশুরবাড়ি গাইবান্ধার পলাশবাড়ী গিয়ে রাত্রি যাপন করেন। বুধবার সকালে তিনি নিজ বাড়ি একই জেলার সাদুল্লাহপুরের জাউলিয়া গ্রামে গিয়ে আত্মগোপন করেন। শুক্রবার পুলিশ তাঁর খোঁজে ওই গ্রামে যায়। টের পেয়ে তিনি একটি মোটরসাইকেলে করে পালানোর চেষ্টার সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে সাঈদার ছিনিয়ে নেওয়া ১০ হাজার টাকার মধ্যে দুই হাজার ৬৫০ টাকা এবং মোবাইল ফোন দুটি উদ্ধার হয়।

দীপংকর রায় আরো জানান, আনারুল মাদকাসক্ত ও বখাটে। নিয়মিত গাঁজা সেবন করেন। দুটি বিয়ে করেন। মাদকাসক্ত হওয়ায় প্রথম স্ত্রী তাঁকে ডিভোর্স দিয়ে চলে গেছেন। দ্বিতীয় স্ত্রী সন্তানসম্ভাবনা। তিনি বর্তমানে প্রসবের জন্য বাবার বাড়ি পলাশবাড়ীতে রয়েছেন। হত্যার সঙ্গে আরো কেউ জড়িত কি না এবং আলমারি থেকে টাকা বা মূল্যবান কিছু নিয়েছেন কি না, তা জানতে আনারুলকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। শুনানি শেষে বিচারক মেহেদী পাভেল সুইট তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সাঈদা গাফ্ফারের (৭১) ছেলে ব্যাংকার সাউদ বিন ইফতেখার জহির (৪৭) জানান, তাঁর মায়ের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার রাতে ঢাকার মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী করবস্থানে দাফন করা হয়েছে। সাঈদা গাফ্ফার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক হিসেবে ২০১৬ সালে অবসর নেন। জহিরের বাবা জহিরুল হকও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। ১৯৯৬ সালে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তাঁরা তিন বোন, এক ভাই। দুই বোন অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন। এক বোন ও তিনি ঢাকায় বাস করেন। তাঁদের পৈতৃক বাড়ি পুরান ঢাকায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাশিমপুরের পানিশাইল এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক আবাসন প্রকল্পে মা-বাবার পাঁচ কাঠার একটি প্লট রয়েছে। এলাকাটিতে এখনো বসতি গড়ে ওঠেনি। ঝোপ-জঙ্গলে পরিণত হয়ে আছে। তাঁর মা সেখানে ভাড়া থেকে ওই প্লটে একটি বাগানবাড়ি নির্মাণ করছিলেন। বাড়ির একতলার কাজ প্রায় শেষ। কাজ দেখাশোনার জন্য মা সেখানে ভাড়া থাকতেন। ১১ জানুয়ারি মাকে অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী বোন মোবাইল ফোনে মেসেজ করেন। কিন্তু মা মেসেজ না দেখায় পরদিন ফোন করেন। ফোন বন্ধ থাকায় ঢাকায় থাকা জহিরের বড় বোন সাদিয়া আফরিন (৪৮) ও মামা শেখ শমসের গাফ্ফার অধ্যাপক সাঈদার পানিশাইলের বাসায় গিয়ে ঘরের দরজা ও আলমারি খোলা দেখতে পান। অনেক খুঁজেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ওই দিন রাতেই তাঁর বোন কাশিমপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। শুক্রবার পুলিশ আনারুলকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর দেওয়া তথ্যে শুক্রবার দুপুরে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মায়ের লাশ হাউজিং এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।



সাতদিনের সেরা