kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ মাঘ ১৪২৮। ২০ জানুয়ারি ২০২২। ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ফুটবল

ক্লাব ফুটবলে কিংসের বিপ্লব

শাহজাহান কবির   

১৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্লাব ফুটবলে কিংসের বিপ্লব

বসুন্ধরা কিংসের নিজেদের স্টেডিয়ামের ছবি এটি। এ মাঠেই এ মৌসুমে প্রিমিয়ার লীগের হোম ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে কিংস। ছবি : মীর ফরিদ

আশির দশকে আবাহনী একবার নিজেদের মাঠে অস্থায়ী গ্যালারি তৈরি করে প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল। এ দেশের ক্লাব ফুটবলে নিজেদের আঙিনায় খেলার সেটিই একমাত্র ঘটনা। মোহামেডান সেই কবে থেকে নিজেদের একটি স্টেডিয়াম করার কথা বলে আসছে। কিন্তু তা আজ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। সেখানে নতুন দল বসুন্ধরা কিংস ফুটবলে নাম লেখানোর মাত্র তিন বছরের মধ্যে নিজেদের স্টেডিয়াম করে ফেলেছে। সেই স্টেডিয়ামে এ মৌসুমে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) হোম ম্যাচও খেলতে যাচ্ছে তারা। বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবলে বৈপ্লবিক ঘটনাই হবে সেটি।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্রশস্ত রাস্তা ধরে পূর্ব দিকে বেশ অনেকটা এগোলেই চোখে পড়বে বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সের কর্মযজ্ঞ। শুরুতেই কিংসের ফুটবল মাঠটি। এত দিন সেটি শুধু মাঠই ছিল, এখন অনায়াসেই স্টেডিয়াম বলা যায়। দুই দিকে উঁচু গ্যালারি উঠে গেছে। অন্য পাশেও কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। তবে এই মুহূর্তে পেশাদার ম্যাচ আয়োজনের জন্য ড্রেসিং রুম, রেফারিজ রুম, মিডিয়া বক্সসহ আনুষঙ্গিক যা সুযোগ-সুবিধা থাকা প্রয়োজন, সেসবের কাজ প্রায় শেষ। ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে লিগ মাঠে গড়াচ্ছে। ভেন্যুর প্রস্তুতি দেখতে গত পরশু বসুন্ধরা কিংস সভাপতি ইমরুল হাসান নিজেই হাজির মাঠে। ঘরের মাঠে কিংস ঘরের ম্যাচ খেলবে, এটা ছিল একটা স্বপ্ন। সেই স্বপ্নপূরণের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আবেগাপ্লুত তিনি, ‘স্বপ্নপূরণের আনন্দ! আমার ব্যাখ্যা করার ভাষা নেই। আর বাংলাদেশেই প্রথমবারের মতো হতে যাচ্ছে এটি—একটি ক্লাব, যাদের নিজেদের স্টেডিয়াম আছে, ঘরের মাঠের ম্যাচগুলো তারা সেখানেই খেলবে। একটা নতুন যুগের সূচনা বলতে পারেন।’

বসুন্ধরা কিংসের খেলোয়াড়রা এক বছরের বেশি সময় ধরে এই মাঠে অনুশীলন করে আসছেন। কালও লিগের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে রোবিনহো-তারিক কাজীদের। আর দিন কয়েক পর অপেক্ষা ফুরাচ্ছে তাঁদেরও। দলের সিনিয়র খেলোয়াড় তৌহিদুল আলম উচ্ছ্বসিত, ‘কখনো ভাবিনি বাংলাদেশের কোনো ক্লাবে এমন কিছু দেখতে পাব। এখনো তো পুরোপুরি হয়নি সব কিছু। সামনের বছর এলে হয়তো চিনতেই পারব না। এই মাঠে ফ্লাডলাইটের আলোয় যখন ম্যাচ খেলব, মনে হবে বিদেশে আছি।’ আগামী এএফসি কাপই এই মাঠে খেলার পরিকল্পনা কিংসের। তত দিনে আন্তর্জাতিক ম্যাচের উপযোগী ফ্লাডলাইটও বসে যাবে মাঠের চারদিকে। মাঠের চারদিকে মাত্র কয়েক ফুট দূরেই গ্যালারি। তাতে দর্শকরা ফুটবল ম্যাচ দেখার পূর্ণ আনন্দটাই পাবে এখানে। বাংলাদেশের বৃত্তাকার স্টেডিয়ামগুলোতে যে আনন্দ থেকে বঞ্চিত থাকে সবাই।

কিংসের স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা ১০ হাজার। লিগ ম্যাচগুলোতে কিংবা আন্তর্জাতিক ম্যাচে এই গ্যালারিও যথেষ্ট হবে না বলে বরং কিছুটা ভাবনায় কিংস সভাপতি, ‘এখানে সন্ধ্যায় যখন ম্যাচগুলো হবে, তখন এক মনোরম পরিবেশ তৈরি হবে। বসুন্ধরায় যারা থাকে তারাই যদি পরিবার-পরিজন নিয়ে খেলা দেখতে আসে, তাহলেই এই মাঠ ভরে যাবে। কিংসের সমর্থনের তাই অভাব হবে না।’ ঘরের এই স্টেডিয়ামে নিজেদের ‘১১ ম্যাচে ৩৩ পয়েন্ট চাই’ বলে কাল একরকম ঘোষণা বা প্রতিশ্রুতিই দিয়ে দিয়েছেন তিনি। এর আগে বসুন্ধরা কিংস নীলফামারীর শেখ কামাল স্টেডিয়াম এবং কুমিল্লার ভাষাশহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামকে হোম ভেন্যু বানিয়ে খেলেছে। সেই দুই মাঠকেও একরকম দুর্গ বানিয়েছিল তারা। তাদের পরিচর্যায় নীলফামারীর মাঠ ও স্টেডিয়ামের চেহারাই বদলে গিয়েছিল। এবার তো নিজেদের মাঠ নিজেদের স্টেডিয়াম। কিংস এই দেশের ফুটবলকে নতুন যুগে স্বাগত জানাচ্ছে।



সাতদিনের সেরা