kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন

আমার আস্থা জনগণ : আইভী, ঘুঘুর ফাঁদ দেখা শুরু : তৈমূর

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

১২ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আমার আস্থা জনগণ : আইভী, ঘুঘুর ফাঁদ দেখা শুরু : তৈমূর

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াত আইভী বলেছেন, ‘আমার আস্থা সব সময় আমার জনগণ। উনি কিভাবে মাঠে থাকবেন। উনি একজন সংসদ সদস্য। আচরণবিধি লঙ্ঘন হবে তাঁরা মাঠে থাকলে।

বিজ্ঞাপন

গতকাল মঙ্গলবার সকালে নারায়ণগঞ্জের খানপুরে প্রচারণা চালাতে গিয়ে সংসদ সদস্য শামীম ওসমানকে উদ্দেশ করে আইভী এসব কথা বলেন। এর আগে সোমবার সংবাদ সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেছেন, নৌকা কে পেয়েছে, কলাগাছ না আমগাছ—সেটা দেখার বিষয় না। নৌকা হলো বঙ্গবন্ধুর  প্রতীক, স্বাধীনতার প্রতীক, তাই এটার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।

প্রচারকালে আইভী বলেন, ‘আমি আবারও গণমাধ্যমের কাছে বলি, আমার আস্থা সব সময় জনগণের প্রতি, আমার নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি। এর বাইরে আর কিছু বলতে চাই না। ’

আইভী বলেন, ‘আমি প্রচারণায় ব্যস্ত, তাই সঠিক জানি না। তবে আমরাই তো বলি, সব ধরনের অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তার করা হোক। শহরের মধ্যে যারা মাদক কারবারি, যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে, তাদের গ্রেপ্তার করা হোক। এটা সব প্রার্থীরই চাওয়া থাকে। ’

শামীম ওসমানের ব্যাপারে আইভী বলেন, ‘আমি বলিনি তারা আমার সাথে নেই। আমি সব সময় বলে এসেছি, আমার সাথে আমার জনতা আছে। আমার দল যেহেতু আমাকে নমিনেশন দিয়েছে, তাহলে নিশ্চয়ই দল আমার পাশে আছে। দলের ভেতর থেকে কে আসবে আর কে আসবে না, সেটা আমার দেখার বিষয় না। সেটা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ দেখবেন। ’

এদিকে বন্দরে গণসংযোগকালে আইভী বলেন, ‘আমার জনগণ কখনো কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, গডফাদার, খুনিকে গ্রহণ করেনি নারায়ণগঞ্জে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে। ’

এ বিষয়ে জানতে শামীম ওসমানের মুঠোফোনে ফোন দিলে তিনি ধরেননি। মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শামীম ওসমান কখনোই নৌকার বিপক্ষে না। তিনি আগাগোড়াই নৌকার পক্ষে। তবে তাঁর ভেতর একটা অভিমান ছিল। সে কারণে এত দিন চুপচাপ ছিলেন। ’

লড়াই হবে সেয়ানে সেয়ানে

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে সিদ্ধিরগঞ্জের দক্ষিণ কদমতলীতে ইকবাল মিয়ার চায়ের দোকান। গতকাল চা খেতে খেতে নানাজনের সঙ্গে বসে দোকানটিতে কথা হচ্ছিল সিটি নির্বাচন নিয়ে। ইকবাল জানালেন, নির্বাচন উপলক্ষে বেচাকেনা বেশ ভালো। নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘এবার সেয়ানে সেয়ানে লড়াই হইব। ’ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে বাগযুদ্ধের কথা এখন মানুষের মুখে মুখে। এর মধ্যে বেশি আলোচনায় আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াত আইভী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার।  

এদিকে নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য পাঁচ প্রার্থীও মাঠ ছাড়েনননি। ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাসুম বিল্লাহর প্রচারণা লোকজনের নজর কেড়েছে। প্রচারণায় নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছেন খেলাফত মজলিসের দেয়ালঘড়ি প্রতীকের এ বি এম সিরাজুল মামুন। মাঠে আছেন খেলাফত আন্দোলনের বটগাছ প্রতীকের প্রার্থী জসীম উদ্দিন, কল্যাণ পার্টির হাতঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী রাশেদ ফেরদৌস ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোড়া প্রতীকের কামরুল ইসলাম।

গতকাল সকালে খানপুরে আইভী বলেন, ‘যেকোনো প্রার্থীর ভেতরে শঙ্কা থাকে। আমি এর বাইরে কেউ না। ’

সকালে শহরের মিশনপাড়া এলাকায়  তৈমূর বলেন, ‘কালকে (সোমবার) এসপি অফিসে গিয়েছিলাম, তাঁকে পাইনি। এখন গিয়ে বলব, আমার কাছে আর কোনো বিকল্প নেই। প্রয়োজনে আপনার অফিসের সামনে বসে পড়ব। এখান থেকেই আমি আমার নির্বাচন পরিচালনা করব। ’ তিনি বলেন, কে মামলার মধ্যে নেই? রবি করে বিএনপি, তাকে ধরা হয়েছে হেফাজতের মামলায়। হেফাজতের লোকেরাই তো প্রধানমন্ত্রীকে কওমি জননীর উপাধি দিয়েছে। এখন গোলযোগ হেফাজতের সঙ্গে আর মামলা খায় বিএনপি।

মিশনপাড়া এলাকায় সকাল সাড়ে ১০টায় এক সংবাদ সম্মেলনে তৈমূর বলেন, “আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক আমাকে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’ দেখাবেন বলেছিলেন। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপির নেতাকর্মী ও আমার সমর্থকদের গ্রেপ্তার করা শুরু হয়েছে। তাঁর বক্তব্যের পর থেকে ঘুঘু ও ঘুঘুর ফাঁদ দেখা শুরু করেছি। ”

তৈমূর বলেন, ‘যেকোনো পরিস্থিতিতে’ নির্বাচনের মাঠে ‘টিকে থাকতে’ লড়বেন তিনি। তিনি সংবাদ সম্মেলনে নিজের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একজন সমন্বয়ক মনিরুল ইসলাম রবিকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানান এবং তাঁর মুক্তি দাবি করেন।



সাতদিনের সেরা