kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

বনানীর দুর্ঘটনা

১৪ দিন পর মামলা নিল পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১৪ দিন পর মামলা নিল পুলিশ

মনোরঞ্জন হাজং

রাজধানীর বনানীতে প্রাইভেট কারের চাপায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সাবেক হাবিলদার মনোরঞ্জন হাজংয়ের পা হারানোর ঘটনায় অবশেষে মামলা নিয়েছে পুলিশ। ঘটনার ১৪ দিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে আহতের মেয়ে ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মহুয়া হাজংয়ের অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে বনানী থানা পুলিশ।   সড়ক আইনের এই মামলায় গাড়িচালকসহ অচেনা তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

জানতে চাইলে বনানী থানার ওসি নূরে আজম মিয়া বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

বিজ্ঞাপন

তবে গাড়িটি জব্দ করার পাশাপাশি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

গত ২ ডিসেম্বর রাত ২টার দিকে রাজধানীর বনানীর চেয়ারম্যানবাড়ী সড়কে মনোরঞ্জন হাজংকে মোটরসাইকেলসহ চাপা দেয় একটি লাল রঙের প্রাইভেট কার। মারাত্মক আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কেটে ফেলতে হয় একটি পা। ঘটনার পর বনানী থানায় মামলা করার জন্য কয়েক দফা চেষ্টা করেন তাঁর মেয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সেন্ট্রাল কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারে কর্মরত সার্জেন্ট মহুয়া হাজং। সেই দুর্ঘটনার বিচার চেয়ে কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি।   তার পরও থানা পুলিশ মামলা নেয়নি। ওই নারী সার্জেন্টের অভিযোগ, তাঁর বাবাকে যে গাড়িটি চাপা দিয়েছে, সেটির মালিক একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। তিনি একজন বিচারপতি। আর এ কারণেই লিখিত অভিযোগ দিলেও বনানী থানা তাঁর মামলা এত দিন রেকর্ড করেনি।  

মামলা নিতে সময় লাগার কারণ জানতে চাইলে গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনার পরই আমরা অভিযোগ পেয়েছি। কিন্তু যাচাই করার প্রয়োজন ছিল। আমরা যাচাই-বাছাই করে মামলা নিয়েছি। ’

সার্জেন্ট মহুয়া হাজং বলেন, ‘আমার বাবা বর্তমানে রাজধানীর বারডেম জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। ’ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন।

জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন (নিটোর)  প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবদুল গণি মোল্যাহ জানান, ‘শুরু থেকেই রোগীর অবস্থা ভালো নয়। এরই মধ্যে অপারেশনে তাঁর ডান পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে কেটে ফেলা হয়েছে। তাঁর তিনটি অপারেশন করা হয়েছে। বাঁ পায়ের অবস্থাও ভালো না। সেটাও কেটে ফেলতে হতে পারে। ’

মহুয়া হাজং এর আগে অন্তত তিন দফা বনানী থানায় মামলা করার জন্য গেলে তাঁর অভিযোগ নেওয়া হয়নি। মামলা করতে গিয়ে এজাহার অনেকবার পাল্টাতে হয়েছে। অভিযুক্তদের নাম কাটতে হয়েছে। আসামির নাম লিখে, অজ্ঞাতপরিচয় লিখতে হয়েছে।

আহত মনোরঞ্জন হাজং ২০০৪ সালে বিজিবির হাবিলদার হিসেবে অবসরে যান। তাঁর গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার কলমাকান্দার গোবিন্দপুরের বগাডুবী গ্রামে। বনানীর একটি বেসরকারি নিরাপত্তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে কয়েক বছর ধরে সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত আছেন। ঘটনার দিন অফিস  শেষ করে তিনি বাসায় ফিরছিলেন।

ওই ঘটনার রাতের সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, চেয়ারম্যানবাড়ী ইউলুপের পাশে মোটরসাইকেল নিয়ে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করছিলেন মনোরঞ্জন। তখন আশপাশের সড়কে স্বাভাবিক নিয়মে চলাচল করছিল যানবাহন। এরই মধ্যে হঠাৎ একটি প্রাইভেট কার অন্য পাশ থেকে এসে মনোরঞ্জনের মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়।

এইচআরএফবির প্রতিবাদ : নারী সার্জেন্ট মহুয়া হাজংয়ের বাবার দুর্ঘটনার মামলা পুলিশ নিতে দেরি করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি)। পাশাপাশি দ্রুততার সঙ্গে মামলা গ্রহণ করাসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার ও নাগরিক সংগঠনগুলোর এই জোট। গতকাল এইচআরএফবির সমন্বয়ক তামান্না হকের সই করা এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ ও দাবি জানানো হয়।



সাতদিনের সেরা