kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

সোহেলকে তিনি করেন পাঁচ গুলি, অস্ত্র দেন নিশাত

কুমিল্লা সংবাদদাতা   

৯ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সোহেলকে তিনি করেন পাঁচ গুলি, অস্ত্র দেন নিশাত

নিহত কাউন্সিলর সোহেল

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর সৈয়দ মোহাম্মদ সোহেলকে সরাসরি গুলি করেছেন মো. সোহেল ওরফে জেল সোহেল। তিনি একাই কাউন্সিলরকে পাঁচটি গুলি করেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র সরবরাহ করেছেন ফেনী থেকে আসা যুবক নিশাত।

রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে জেল সোহেল এসব কথা বলেছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

গত মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে তাঁকেসহ সায়মন ওরফে মুহুরি সায়মনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তিনি কাউন্সিলর সোহেলের ভাই সৈয়দ মো. রুমনের করা মামলার ২ নম্বর আসামি। গত সোমবার রাতে দুজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। তিনি নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের নবগ্রাম এলাকার শাহ আলমের ছেলে।

পুলিশ সূত্র জানায়, ডিবি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মামলার বিষয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছেন জেল সোহেল। তিনি পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত মামলার প্রধান আসামি শাহ আলম বাহিনীর ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে পরিচিত।

জিজ্ঞাসাবাদে জেল সোহেল পুলিশকে জানান, কাউন্সিলর সোহেলকে তিনি একাই টানা পাঁচটি গুলি করেন। বাকি চারটি গুলি করেন অন্যরা। হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্বে ছিলেন শাহ আলম আর জেল সোহেল। হত্যাকাণ্ডে অস্ত্র সরবরাহ করা ফেনীর যুবক মামলার প্রধান আসামি শাহ আলমের পূর্বপরিচিত।

পুলিশ আগে জানিয়েছিল, সহযোগীসহ কাউন্সিলর হত্যাকাণ্ডে ছয়জন অংশ নিয়েছিলেন। এঁরা হলেন মামলার আসামি শাহ আলম, মো. সোহেল ওরফে জেল সোহেল, মো. সাব্বির হোসেন, আসামি সাজন, এজাহারবহির্ভূত স্থানীয় যুবক নাজিম এবং ফেনী থেকে আসা নিশাত। পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শাহ আলম, সাব্বির ও সাজন নিহত হয়েছেন। নাজিম ওরফে পিচ্চি নাজিম ও নিশাতকে এখনো ধরতে পারেনি পুলিশ।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পরিমল দাস কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ কী, এর পেছনে কারা রয়েছে, এত অস্ত্র ও অর্থের জোগান কারা দিল—আমরা এখন এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছি। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া বাকি দুজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ’

পরিমল দাস বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া জেল সোহেলের তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাঁকে প্রাধান্য দিয়েই তদন্তকাজ চলছে। জিজ্ঞাসাবাদে জেল সোহেল স্বীকার করেছেন, তিনিই প্রথম কাউন্সিলর সোহেলকে গুলি করেন। সব কিছুই যাচাই করে দেখা হচ্ছে। আশা করা যায়, তদন্তে সব কিছু সামনে আসবে।

মামলার বাদী রুমন বলেন, জেল সোহেলকে ভালোভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সব সামনে চলে আসবে। তিনি শাহ আলমের প্রধান সহযোগী। তিনি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা, তাদের সম্পর্কে তথ্য দিতে পারবেন।

এর আগে মামলার আরো চার আসামি মো. আশিকুর রহমান রকি, মো. আলম মিয়া, জিসান মিয়া ও মো. মাসুমের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার কথা থাকলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত নেওয়া হয়নি।

গত ২২ নভেম্বর বিকেলে নগরীর পাথরিয়াপাড়ায় নিজ কার্যালয়ে খুন হন ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সোহেল এবং তাঁর সহযোগী হরিপদ সাহা।

চলে গেলেন রেণু বালা : ২২ নভেম্বর কাউন্সিলর সোহেলের সঙ্গে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত আওয়ামী লীগের কর্মী হরিপদ সাহার মা শতবর্ষী রেণু বালা সাহা গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মারা গেছেন। একমাত্র অবলম্বন ছেলে হত্যার ১৬ দিনের মাথায় তাঁর মৃত্যু হলো।

 



সাতদিনের সেরা