kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ঐতিহ্য

ইরাকে ‘গিলগামেশের স্বপ্ন’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইরাকে ‘গিলগামেশের স্বপ্ন’

গিলগামেশের স্বপ্ন ফলক। ছবি : অনলাইন

১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় ইরাকের এক জাদুঘর থেকে লুট হয়ে গিয়েছিল ‘গিলগামেশের স্বপ্ন’। নানা দেশের নানা হাত ঘুরে অবশেষে দেশে ফিরে এসেছে অমূল্য এই পুরাকীর্তি। পাচার হয়ে শেষ পর্বে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির ‘বাইবেল জাদুঘর’-এ ঠাঁই হয়েছিল তার।

দীর্ঘ তিন দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইরাকে প্রদর্শিত হচ্ছে ৩,৫০০ বছরের পুরনো বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ‘গিলগামেশ ড্রিম’ লিপি।

বিজ্ঞাপন

মাটির এই ফলকটি বিশ্বের অন্যতম প্রাচীনতম সাহিত্য নিদর্শন ‘গিলগামেশ’ মহাকাব্যেরই অংশ। মার্কিন কর্তৃপক্ষ ২০১৯ সালে ফলকটি আটক করে এবং গত সেপ্টেম্বরে ইরাকি দূতাবাসের কাছে তুলে দেয়।

ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেইন জানিয়েছেন, গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইতালি, জাপান আর নেদারল্যান্ডস থেকে উদ্ধার হয়েছে ইরাকের ১৭ হাজার ৯২৬টি প্রত্নবস্তু। ‘গিলগামেশ ড্রিম’ ফলক তারই একটি।

বাগদাদে এক অনুষ্ঠানে ফুয়াদ হুসেইন বলেন, ‘আমাদের মহান ইতিহাস আর প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনগুলো চুরি করার বেপরোয়া তৎপরতার মধ্যে এই দিনটি এক বিজয়ের দৃষ্টান্ত। ’

ইরাকের সংস্কৃতি ও পুরাকীর্তিবিষয়ক মন্ত্রী হাসান নাজিম বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, গিলগামেশ ড্রিম ফলকটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। তিনি বলেন, ‘ইরাকের ইতিহাসের প্রাচীনতম সাহিত্যবিষয়ক গ্রন্থগুলোর অন্যতম এটি। ’

ফলকটিতে রয়েছে কিউনিফর্ম লিপিতে আক্কাডিয়ান ভাষায় লেখা গিলগামেশ মহাকাব্যের কিছুটা অংশ। প্রাচীন মেসোপটেমিয়ায় (আধুনিককালের ইরাক) ব্যবহৃত কাদার ফলকের ওপর লেখার একটি পদ্ধতি কিউনিফর্ম।

১৮৫৩ সালে প্রথম ‘গিলগামেশ’ মহাকাব্যের সন্ধান মেলে। সে বছর উত্তর ইরাকের প্রাচীন আসিরীয় রাজা আশুরবানিপালের গ্রন্থাগারের ধ্বংসাবশেষে পণ্ডিতরা পান এর ১২ ফলকের একটি সংস্করণ। এই মহাকাব্যের ঘটনা আবর্তিত হয়েছে বর্তমানের দক্ষিণ ইরাকে অবস্থিত উরুকের প্রাচীন রাজা গিলগামেশকে ঘিরে। ২,৮০০ থেকে ২,৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে ওই অঞ্চল শাসন করা এক সত্যিকারের রাজার ওপর ভিত্তি করেই ওই পৌরাণিক কাহিনি গড়ে উঠেছে।

রাজা গিলগামেশ মহাকাব্যের যে অংশে তাঁর মায়ের কাছে নিজের দেখা স্বপ্নের বর্ণনা দেন, সে অংশটাই লেখা হয়েছে ‘গিলগামেশ ড্রিম’ ফলকে। রাজমাতা ওই স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, এটি তাঁদের এক নতুন বন্ধুরই আগমনের ঘোষণা। তিনি হবেন গিলগামেশের সঙ্গী।

লুটের পর ১৯৯১ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে ফলকটির কী ঘটেছিল সে সম্পর্কে প্রায় কিছুই জানা যায়নি। এরপর লন্ডনের একজন প্রাচীন জিনিসপত্রের ব্যবসায়ী এটি কিনেছিলেন। ওই ডিলার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিয়ে আন্তর্জাতিক ডাকের মাধ্যমে ফলকটি যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েছিলেন। ২০০৭ সালে ওই ডিলার ফলকটি এক মিথ্যা চিঠি দেখিয়ে আরেকজন ক্রেতার কাছে বিক্রি করেন। ভুয়া ওই চিঠিতে বলা হয়, ১৯৮১ সালে কেনা কিছু প্রাচীন ব্রোঞ্জের টুকরাভরা বাক্সের মধ্যে ছিল এটি। এরপর এটি বিভিন্ন দেশে নিলামে আরো কয়েকবার বিক্রি হয়। ২০১৪ সালে রক্ষণশীল খ্রিস্টান আদর্শের শিল্পপ্রতিষ্ঠান ‘হবি লবি’ ফলকটি কিনে নেয়। কম্পানিটি ১৬ লাখ ৭০ হাজার ডলারের কিছু বেশি দামে ফলকটি কেনে। তখন থেকে এটি তাদের বাইবেল জাদুঘরে গুরুত্বের সঙ্গে প্রদর্শিত হতে থাকে। শুরুতে সমস্যা হয়নি। ২০১৭ সালে এসে জাদুঘরের একজন কিউরেটর ফলকটি কোথা থেকে এসেছে সে সম্পর্কে আরো তথ্য চাইলে এর আদি উৎস নিয়ে সন্দেহ দেখা  দেয়। জাদুঘর কর্তৃপক্ষ তখনই ফলকটি তাদের কাছে থাকার কথা জানিয়ে দেয় ইরাক সরকারকে। সূত্র : বিবিসি।

 



সাতদিনের সেরা