kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

দুই দিনের বর্ষণে দুর্দশায় গাড়ি আর ঢাকাবাসী

যানজট ছিল টঙ্গী পর্যন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুই দিনের বর্ষণে দুর্দশায় গাড়ি আর ঢাকাবাসী

রাজধানীর বেশির ভাগ সড়কেই গতকাল দিনভর ছিল যানজট। শাহজাদপুর এলাকা থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে গতকাল মঙ্গলবারও দেশের বেশির ভাগ এলাকায় থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। আগের দিনের টানা বর্ষণের প্রভাব ছিল সড়কে। এতে গতকালও ছন্দ হারায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

আগের দুই দিনের টানা বর্ষণের কারণে রাজধানীর সড়কের খানাখন্দে গতকালও আটকে পড়ে যাত্রীবাহী বাসসহ অনেক যান।

বিজ্ঞাপন

কোথাও নির্মাণাধীন সড়কে ফেঁসে যায় ব্যক্তিগত গাড়ি। সড়কের অবস্থা নাজুক হয়ে পড়ায় যানবাহন চলেছে নৌকার মতো হেলেদুলে, ধীরগতিতে। আর এসব কারণে লেগে যায় তীব্র যানজট। দিনভর এমন দৃশ্য ছিল রাজধানীর মৌচাক মার্কেট থেকে সোজা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী পর্যন্ত।

যানজটের কারণে গতকালও এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছার ঝুঁকির মধ্যে পড়ে, কর্মজীবী মানুষ এবং সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। পণ্যবাহী যান ঠায় দাঁড়িয়ে থেকেছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।  

সরেজমিনে ঘুরে আরো দেখা যায়, দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে সড়কের কোথাও কোথাও পানি জমে আছে। গণপরিবহন ছিল আগের দিনের চেয়ে বেশি। জলাবদ্ধতায় গাড়ি আটকে আছে। সকাল থেকে অফিসগামী যাত্রীদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও পড়ে সংকটে। বিপাকে পড়ে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ।

ঢাকা নগরীর মালিবাগ থেকে মৌচাক-রামপুরা, মহাখালী থেকে বনানী ও বিমানবন্দর সড়কে ছিল তীব্র যানজট, যার প্রভাব পড়ে টঙ্গী পর্যন্ত। ঢাকার ফার্মগেট, শাহবাগ, গুলিস্তান, গ্রিন রোড, ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর, বাড্ডা, গাবতলী, মিরপুর, রামপুরা, হাতিরঝিল, নাবিস্কোসহ বেশ কিছু এলাকায়ও যানজটে আটকে ছিল গাড়ি। বিকেলে রামপুরা সড়কে দুর্ভোগে পড়া শাহজাহান নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘মৌচাক থেকে গুলশান নতুনবাজার আসতেই সময় লেগেছে ৪৫ মিনিট। টঙ্গীতে কখন পৌঁছব জানি না। ’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিআরটি প্রকল্পের অধীনে নির্মাণাধীন বিমানবন্দর-জয়দেবপুর সড়কের টঙ্গীর চেরাগআলী বাসস্ট্যান্ড থেকে টঙ্গী ব্রিজ পর্যন্ত এমনিতেই ভাঙাচোরা। ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে সোমবার সারা দিন বৃষ্টির ফলে সড়ক আরো ভেঙে কোথাও গর্ত, কোথাও দেবে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়। সৃষ্টি হয় কাদার। এসব কারণে সকাল ৯টার পর সড়কে যানবাহন চলাচলে ছিল ধীরগতি। এ ছাড়া এখানে-সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা নির্মাণসামগ্রীর কারণেও গাড়ি চলায় বিঘ্ন ঘটে। সকাল সাড়ে ৯টার পর দেখা দেয় যানজট। বেলা বাড়তে থাকলে তা দীর্ঘ হতে থাকে। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে যাত্রীদের দুর্ভোগ।

দুপুর দেড়টার দিকে টঙ্গী স্টেশন রোডে এইচএসসি পরীক্ষার্থী,  টঙ্গীর সাতাইশ এলাকার রুনা আক্তার কালের কণ্ঠের গাজীপুর প্রতিবেদককে বলে, সকাল ১০টা থেকে যুক্তিবিদ্যা ও দুপুর ২টা থেকে হিসাববিজ্ঞান পরীক্ষা ছিল। তার পরীক্ষা ছিল ঢাকার উত্তরায়। সকাল ৮টায় পরীক্ষা দিতে বাসা থেকে বের হয়ে চেরাগআলী পর্যন্ত যেতেই এক ঘণ্টা লেগে যায়। পরে হেঁটে পরীক্ষা শুরুর পাঁচ-ছয় মিনিট আগে হলে পৌঁছে। দুশ্চিন্তা নিয়ে তাড়াহুড়া করে হলে যাওয়ায় তার পরীক্ষাও খারাপ হয়েছে। ফেরার পথেও যানজট। উত্তরার আজমপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে টঙ্গীর স্টেশন রোড আসতে লেগেছে দেড় ঘণ্টা। রুনা বলে, ‘এ সড়ক এখন আমাদের কাছে অভিশাপ। ’  

গাজীপুরের মালেকের বাড়ি এলাকার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ বলেন, টঙ্গীর সেনাকল্যাণ ভবন থেকে মিল গেট পর্যন্ত আসতে তাঁকে প্রায় দুই ঘণ্টা বাসে বসে থাকতে হয়েছে। এ কারণে অফিসেও ঢুকতে হয়েছে নির্ধারিত সময়ের পরে। প্রতিষ্ঠানে হাজিরা নেওয়া হয় ‘অ্যাটেনডেড মেশিনে’। তাই তাঁর হাজিরাও কাটা গেছে। দুর্ভোগের এই যানজট থেকে তাঁরা মুক্তি চান।

কলেজ শিক্ষিকা শারমিন সুলতানা বলেন, ঢাকা থেকে গাজীপুর এবং গাজীপুর হয়ে বৃহত্তর ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়া ও রাজধানীতে প্রবেশের একমাত্র সড়কটিতে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে। গর্ত হয়। ভেঙে যায়।



সাতদিনের সেরা