kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

কুয়েট শিক্ষকের মৃত্যু

কর্তৃপক্ষের কাছে স্ত্রীর চার আরজি

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা   

৮ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কর্তৃপক্ষের কাছে স্ত্রীর চার আরজি

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সেলিম হোসেনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর পর থেকে শোকের পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন তাঁর স্ত্রী সাবিনা খাতুন। তিনি নানা ধরনের অবাঞ্ছিত ফোনকলে ভীতসন্ত্রস্ত। পাশাপাশি একমাত্র মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

এ অবস্থায় সাবিনা খাতুন শিক্ষক সমিতির নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাঁর চারটি আরজি তুলে ধরেছেন।

বিজ্ঞাপন

এসব বিষয়ে এখনো কোনো সুস্পষ্ট আশ্বাস পাননি তিনি।

সাবিনা খাতুন বর্তমানে তাঁর মায়ের কাছে চুয়াডাঙ্গায় রয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে কালের কণ্ঠকে তিনি জানান, তাঁর নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি এরই মধ্যে পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পুলিশ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিল। কারা ফোনে বিরক্ত করছে, কী ধরনের কথা বলছে, এসব বিষয় জানতে চায় পুলিশ। তবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত কিছু জানাননি। তিনি আশায় আছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হয়তো কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে। তাঁর আরজিগুলো হচ্ছে : তাঁর স্বামীর মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা; মৃত্যুর জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান করা (শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে); তাঁদের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার স্বার্থে তাঁকে যোগ্যতা অনুযায়ী একটি চাকরি দেওয়া এবং তাঁদের নিরাপত্তার স্বার্থে ক্যাম্পাসে একটি বাসস্থানের ব্যবস্থা করা।

এ বিষয়ে কুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক প্রতীক চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘আমরাও এই দাবিগুলো তুলে ধরেছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এখনো সুস্পষ্টভাবে এই দাবি পূরণের বিষয়ে কোনো কথা বলেননি। তবে আমরা আশা করছি, কর্তৃপক্ষ দাবি মেনে নেবে। ’

সাবিনা খাতুন বলেন, ‘আমি তাকে বলেছিলাম, প্রভোস্টের দায়িত্ব ছেড়ে দিতে; আগে দায়িত্ব ছেড়ে দিলে এই করুণ পরিণতি হতো না। আমি মেয়েটিকে নিয়ে ভবিষ্যৎ অন্ধকার দেখতাম না। কিন্তু সেদিন (৩০ নভেম্বর) খুবই বিমর্ষ ছিলেন। আমাকে বলেছিলেন, ছাত্ররা তাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল, প্রভোস্টের দায়িত্ব ছেড়ে দেব। ’

সাবিনা আরো জানান, তাঁদের একমাত্র সন্তান জান্নাতুল ফেরদৌস আনিকা (৬) তার বাবার মৃত্যুর পর গত ৩০ নভেম্বর থেকে কথা বলছিল না। গত সোমবার থেকে দু-একটা কথা বলছে। যা বলছে, তা সবই বাবাকে ঘিরে কথা।

এদিকে, প্রয়াত সেলিমের মরদেহ তোলার বিষয়ে পুলিশের আবেদনটি কুষ্টিয়া জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের (জেলা প্রশাসক) হাতে পৌঁছেছে। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে লাশ তোলার বিষয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম সিদ্ধান্ত নেবেন বলে কালের কণ্ঠকে টেলিফোনে জানিয়েছেন।

গত ৩০ নভেম্বর বিকেল ৩টার দিকে অধ্যাপক সেলিম মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বাসার বাথরুমে অচেতন হয়ে পড়ে ছিলেন। এর আগে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী এই শিক্ষকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষকের সঙ্গে তাঁর বিভাগের কক্ষে যাচ্ছে—সিসিটিভি ফুটেজে তা দেখা গেছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েই প্রথমে তাঁর হার্ট অ্যাটাক এবং পরে মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পেয়ে কর্তৃপক্ষ ছাত্রলীগ নেতাসহ ৯ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে।

 



সাতদিনের সেরা