kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

কাউন্সিলরকে ডিবির জেরা আরো দুই আসামি গ্রেপ্তার

কুমিল্লা সংবাদদাতা   

৮ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কাউন্সিলরকে ডিবির জেরা আরো দুই আসামি গ্রেপ্তার

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর সৈয়দ মোহাম্মদ সোহেল ও তাঁর সহযোগী হরিপদ সাহা হত্যা মামলার আরো দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এঁরা হলেন মামলার ২ নম্বর আসামি মো. সোহেল ওরফে জেল সোহেল (২৭) এবং ১০ নম্বর আসামি সায়মন ওরফে মুহুরি সায়মন (২৯)।

মামলাটি গত সোমবার জেলা গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) হন্তান্তর করা হয়েছে। এর পরই গতকাল মঙ্গলবার ১৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন বাবুলকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ সূত্র জানায়, জেল সোহেল নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের নবগ্রাম এলাকার শাহ আলমের ছেলে। তিনি মামলার প্রধান আসামি পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত শাহ আলম বাহিনীর ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, মাদক, অস্ত্রসহ বিভিন্ন অপরাধে মামলা রয়েছে। মুহুরি সায়মন একই এলাকার মৃত শামসুল হকের ছেলে। গতকাল আদালতের মাধ্যমে দুজনকে পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পরিমল দাস বলেন, গত সোমবার রাতে কুমিল্লা সদর উপজেলার বাংলাবাজার ও পাঁচথুবী এলাকায় অভিযান চালিয়ে জেল সোহেল ও সায়মনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।

কাউন্সিলর সোহেলের ছোট ভাই ও মামলার বাদী সৈয়দ মো. রুমন কালের কণ্ঠকে বলেন, “শাহ আলম বাহিনীর ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ জেল সোহেল। তাঁকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই সব তথ্য

বেরিয়ে আসবে। আমরা ঘটনার শুরু থেকেই বলে আসছি, হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রভাবশালী কোনো মহলের হাত রয়েছে। ”

কাউন্সিলরকে জিজ্ঞাসাবাদ

কাউন্সিলর সোহেল ও হরিপদ সাহাকে হত্যার ঘটনায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন বাবুলকে গতকাল জেলা ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় বাবুলের পরিবারের সদস্য ও দলীয় নেতাকর্মীদের ডিবি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করতে দেখা যায়। পরে সন্ধ্যায় পরিবারের জিম্মায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আঞ্জুম সুলতানা সীমার অনুসারী। অন্যদিকে সোহেল ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদর আসনের সাংসদ আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের অনুসারী।

সোহেলের ভাই বাদী সৈয়দ মো. রুমন বলেন, তাঁর ভাই ও বাবুল বাল্যকালের বন্ধু। তাঁর ভাইয়ের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দুজনের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। কেন বাবুলকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, তাঁরা জানেন না। তাঁর বিষয়ে তাঁরা কারো কাছে অভিযোগও করেননি।

কাউন্সিলর বাবুলকে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করে জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সত্যজিৎ বড়ুয়া বলেন, সোহেল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাঁর কাছ থেকে পুলিশের বেশ কিছু তথ্য জানার দরকার ছিল। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে সব কিছু জানানো হবে।

বাবুলের ছোট ভাই মো. জুয়েল বলেন, ‘সকাল ৯টার দিকে ডিবি পুলিশের কয়েক সদস্য আমার ভাইকে বাসা থেকে নিয়ে যান। তবে কী কারণে তাঁকে নেওয়া হয়েছে, তা আমাদের বলেননি। ’

গত ২২ নভেম্বর বিকেলে নগরীর পাথরিয়াপাড়ায় নিজ কার্যালয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে সহযোগী হরিপদ সাহাসহ খুন হন কাউন্সিলর সোহেল। এই ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামিসহ তিনজন পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন।

 



সাতদিনের সেরা