kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

নির্ধারিত সময়ে বন্ধ খোলা ভোজ্য তেল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



নির্ধারিত সময়ে বন্ধ খোলা ভোজ্য তেল

সরকার বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই খোলা ভোজ্য তেল বাজারজাত বন্ধ করতে চায়। এ জন্য কঠোর অবস্থানে খাদ্য মন্ত্রণালয়। সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি হিসেবে সয়াবিন ও পাম তেলের মিশ্রণ, সরবরাহ ড্রামের অপরিচ্ছন্নতা, খোলা তেলে ভিটামিন ‘এ’র অভাব, দামের অস্থিরতাসহ বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরা হয়।

তবে মিল মালিকরা হুট করে খোলা তেল বাজারজাত বন্ধের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিপক্ষে।

বিজ্ঞাপন

তাঁরা বলছেন, এ জন্য আরো সময় দিতে হবে। মিল মালিককে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। ভোজ্য তেল বোতলজাত করলে বাড়তি দাম কী করে সমন্বয় করা হবে, তার পথ বের করতে হবে। সব মিলিয়ে শতভাগ বোতলজাত ভোজ্য তেল বাজারজাত করতে আগামী বছর লেগে যাবে।

খোলা ড্রামে বাজারজাত তেলের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরতে গতকাল মঙ্গলবার নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) আয়োজিত ‘খাদ্যের নিরাপত্তা ও বাজারে বিক্রীত খোলা তেলের মান যাচাই’ শীর্ষক এক সেমিনারে সরকার ও ব্যবসায়ীরা তাঁদের পক্ষে-বিপক্ষে মতামত তুলে ধরেন।

বিএফএসএ চেয়ারম্যান মো. আবদুল কাইউম সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

আগামী বছরের ১৭ মার্চ থেকে খোলা ভোজ্য তেল (সয়াবিন ও পাম তেল) বিক্রি বন্ধ করতে মিল মালিকদের একটি নির্দেশনা দিয়েছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। গত ২৬ নভেম্বর মিল মালিকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই সময়ও

মিল মালিকদের প্রতিনিধিরা এ জন্য আগামী বছর পর্যন্ত সময় চান।

মূল প্রবন্ধে বিএফএসএর সদস্য অধ্যাপক মো. আবদুল আলীম বলেন, “দেশের ভোজ্য তেলের ৬৫ শতাংশই বাজারজাত করা হয় ড্রামে। আর ৩৫ শতাংশ হয় পেট বোতল বা পাউচ প্যাকে। আমরা গত সাড়ে তিন বছরে মোট ৫২০টি পেট বোতলের সয়াবিন তেল পরীক্ষা করে আইন অনুসারে ৮৭ শতাংশ তেলে ভিটামিন ‘এ’ পেয়েছি। বাকি ১৩ শতাংশে পাওয়া যায়নি। ”

একই সময়ে খোলা ড্রামের ভোজ্য তেলের ৩৯৩টি নমুনা পরীক্ষা করে ৫২.৬৭ শতাংশে ভিটামিন ‘এ’ পাওয়া গেছে। বাকি ৪৭.৩৩ শতাংশেই এটি পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ খোলা তেলের বেশির ভাগেই ভািটামিন ‘এ’ যুক্ত করা হচ্ছে না। প্রতি কেজি তেলে ভিটামিন ‘এ’ যুক্ত করতে খরচ হয় মাত্র ১২ পয়সা। আইন অনুযায়ী, ভোজ্য তেলে ভিটামিন ‘এ’ যুক্ত করা বাধ্যতামূলক।

প্রবন্ধে বলা হয়, খুচরা বাজার থেকে সংগৃহীত এসব খোলা তেলের নমুনা কোন কম্পানির, তা-ও নিরূপণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ, এসব তেলে কোনো লেবেল থাকে না। খোলা তেল সরবরাহের ড্রামগুলো ফুড গ্রেডের পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ নয়। এসব তেলের ড্রামে বিসফেনল নামের ক্ষতিকর উপাদান প্রতি টনে ৬০ মাত্রার নিচে থাকার কথা, কিন্তু গড়ে ৬৭.৩০ মাত্রায় রয়েছে। ভোজ্য তেলে ক্রোমিয়াম ও লেড শূন্য থাকতে হবে। কিন্তু ড্রামের তেলে এর উপস্থিতি ০.০৩২ থেকে ০.২৩ পর্যন্ত পাওয়া গেছে। এ ছাড়া সয়াবিন তেলের সঙ্গে পাম তেলের মিশ্রণ, ড্রামের তেলে লেবেল না দেওয়া এবং দাম নির্দিষ্ট না থাকায় বাজার শৃঙ্খলায় নানা সমস্যা হচ্ছে। সিলেট ছাড়া সব বিভাগেই খোলা ভোজ্য তেলে পাম ও সয়াবিনের মিশ্রণ পাওয়া গেছে। সিলেটে খোলা তেল বিক্রি হয় না।

প্রবন্ধে বলা হয়, খোলা তেলে ‘মোড়কাবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং প্রবিধানমালা ২০১৭’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। কয়েক বছর ধরেই মিল মালিকদের বিষয়টি বলা হচ্ছে। তাই এখন কঠোর অবস্থানে সরকার।

পরে মুক্ত আলোচনায় বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন ও মিল মালিকদের প্রতিনিধিরা বলেন, মোড়কজাত তেল বিক্রিতে তাঁদের কোনো আপত্তি নেই। তবে মোড়কজাত করলে প্রতি লিটারে ২০ টাকার ওপরে খরচ বাড়বে। সেটি সাধারণ ভোক্তা বহন করতে পারবে কি না, সে জন্য প্রচার চালাতে হবে। সব তেল বোতলজাত করতে হলে যে পরিমাণ কারিগরি অবকাঠামো দরকার, তা স্থাপনে সময় লাগবে। এ ছাড়া বোতলজাত করতে যে পরিমাণ প্লাস্টিকের ব্যবহার বাড়বে, তা রিসাইক্লিংয়ের কোনো ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা-ও দেখতে হবে। এসব করার জন্য সময় দরকার। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে খোলা তেল বন্ধ করা বেশ অসম্ভব। এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রাথমিকভাবে সয়াবিন তেল বোতলজাত করতে ২০২২ সালকে লক্ষ্য ধরে এগোতে হবে।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, আমদানিকারক থেকে খুচরা বিক্রেতা—সবাইকে জনস্বাস্থ্য বিবেচনা করতে হবে, তারপর মুনাফা। মানসম্পন্ন ভোজ্য তেল ভোক্তার কাছে পৌঁছে দিয়ে আস্থা অর্জন করতে হবে। ২০২২ সালের ১৬ মার্চের পরে বাজারে খোলা তেল বিক্রি করতে দেওয়া হবে না।

এ সময় বোতলজাত/প্যাকেটজাত মানসম্পন্ন ভোজ্য তেল ভোক্তার কাছে সহজলভ্য করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে খাদ্যসচিব নাজমানারা খানুম, শিল্পসচিব জাকিয়া সুলতানা, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভ নিউট্রিশনের (গেইন) কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. রুদাবা খন্দকার প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।

 

 



সাতদিনের সেরা