kalerkantho

বুধবার । ১২ মাঘ ১৪২৮। ২৬ জানুয়ারি ২০২২। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

৪৩ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির তালিকা হাইকোর্টে জমা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



৪৩ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির তালিকা হাইকোর্টে জমা

বিদেশে অর্থপাচার নিয়ে পানামা ও প্যারাডাইস পেপারসে উঠে আসা দেশের ৪৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য হাইকোর্টে জমা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের বেঞ্চে গতকাল রবিবার এসংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেন দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।

এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে দেশের বিতর্কিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসের, বিএনপি নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু ও তাবিথ আউয়ালের নাম।

এই ৪৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪টি নাম ছিল পানামা পেপারসে।

বিজ্ঞাপন

প্যারাডাইস পেপারসে ছিল ২৯ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম।

পানামা পেপারসে ১৪ নাম

পানামা পেপারসে নাম ছিল বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার লিমিটেডের ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী, সেতু করপোরেশনের পরিচালক উম্মে রুবানা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, গুলশান-২-এর আজমত মঈন, বনানীর সালমা হক, এস এম জোবায়দুল হক, বারিধারার সৈয়দ সিরাজুল হক, ধানমণ্ডির দিলীপ কুমার মোদি, শরীফ জহির, গুলশানের তারিক ইকরামুল হক, ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ রাজা, পরিচালক খন্দকার মঈনুল আহসান শামীম, আহমেদ ইসমাইল হোসেন ও আখতার মাহমুদের।

প্যারাডাইস পেপারসে ২৯ নাম

প্যারাডাইস পেপারসে থাকা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু ও তাঁর স্ত্রী নাসরিন ফাতেমা আউয়াল, ছেলে তাবিথ আউয়াল, তাফসির আউয়াল, তাজওয়ার মো. আউয়াল, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মোগল ফরিদা ওয়াই ও শহিদ উল্লাহ, ঢাকার বনানীর চৌধুরী ফয়সাল, বারিধারার আহমাদ সামির, ব্রামার অ্যান্ড পার্টনার্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেড ও ভেনাস ওভারসিজ কম্পানির মুসা বিন শমসের।

আরো আছেন ডাইনামিক এনার্জির ফজলে এলাহী, ইন্ট্রিপিড গ্রুপের কে এইচ আসাদুল ইসলাম, খালেদা শিপিং কম্পানির জুলফিকার আহমেদ, নারায়ণগঞ্জের জেমিকো ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের তাজুল ইসলাম তাজুল, চট্টগ্রামের বেঙ্গল শিপিং লাইনসের মোহাম্মদ মালেক, ঢাকার সাউদার্ন আইস শিপিং কম্পানির শাহনাজ হুদা রাজ্জাক, ওসান আইস শিপিং কম্পানির ইমরান রহমান, শামস শিপিং লিমিটেডের মোহাম্মদ এ আউয়াল, রাজধানীর উত্তরার এরিক জনসন আনড্রেস উইলসন, ইন্ট্রিপিড গ্রুপের ফারহান ইয়াকুবুর রহমান, পদ্মা টেক্সটাইলের আমানুল্লাহ চাগলা, রাশিয়ার নিউ টেকনোলজি ইনভেস্টমেন্টের মোহাম্মদ আতিকুজ্জামান, মাল্টার মোহাম্মদ রেজাউল হক, নারায়ণগঞ্জের জেমিকো ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মোহাম্মদ কামাল ভূঁইয়া, তুহিন-সুমন, সেলকন শিপিং কম্পানির মাহতাবা রহমান, নারায়ণগঞ্জের জেমিকো ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের ফারুক পালওয়ান ও আয়ারল্যান্ডের গ্লোবাল এডুকেশন সিস্টেমের মাহমুদ হোসাইন।

এর আগে গত ২৪ অক্টোবর হাইকোর্টকে ঢাকা-চট্টগ্রামে তদন্তাধীন সাত মামলায় ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৩১০ কোটি ৮০ লাখ ৭৪৮ টাকা পাচারের তথ্য দিয়েছিল অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সে প্রতিবেদনে অর্থপাচারকারী ব্যক্তির মধ্যে উঠে আসে যুবলীগের সাবেক (বহিষ্কৃত) নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর এ কে এম মোমিনুল হক ওরফে সাঈদের নাম। এসব ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা ও দুবাইয়ে টাকা পাচার করেছে বলে সিআইডির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বিদেশি ব্যাংক, বিশেষ করে সুইস ব্যাংকে পাচার করা ‘বিপুল পরিমাণ’ অর্থ উদ্ধারের যথাযথ পদক্ষেপের নির্দেশনা চেয়ে চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে রিট করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আব্দুল কাইয়ুম খান ও সুবীর নন্দী দাস।

সেই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আদালত রুলসহ আদেশ দেন। সুইস ব্যাংকসহ অন্যান্য বিদেশি ব্যাংকে বাংলাদেশের কে কত টাকা পাচার করেছেন, সে তথ্য জানতে চান হাইকোর্ট। পানামা ও প্যারাডাইস পেপারসে যেসব নাগরিক ও কম্পানির নাম এসেছে তাদের তদন্তের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না এবং সে তদন্তের অগ্রগতি প্রতি মাসে জানাতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়।



সাতদিনের সেরা