kalerkantho

বুধবার । ১২ মাঘ ১৪২৮। ২৬ জানুয়ারি ২০২২। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

আন্তর্জাতিক শরীরগঠনে প্রথম পদক

স্বপ্নের সিঁড়িতে মাকসুদা

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

৬ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




স্বপ্নের সিঁড়িতে মাকসুদা

২০২০ সালে জাতীয় শরীরগঠন প্রতিযোগিতায় সোনা জয়ের পর মাকসুদা আক্তার। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে মেয়েদের শরীরগঠন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে বছর তিনেক হলো। এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক বডিবিল্ডিংয়ে দেশকে পদক উপহার দিলেন মাকসুদা আক্তার। গতকাল ভারতের মুম্বাইয়ে অ্যামেচার অলিম্পিয়ায় তৃতীয় রানার আপ হয়েছেন বাংলাদেশের এই খেলোয়াড়।

মাকসুদা বর্তমান বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন।

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ বাংলাদেশ গেমসে শরীরগঠন প্রতিযোগিতায় সোনা জিতেছেন তিনি। সামাজিক প্রতিবন্ধকতা ভেঙে বাংলাদেশের যে কয়জন নারী ২০১৯ সালে প্রথম এই শরীরগঠন প্রতিযোগিতা শুরু করেছিলেন, তাঁদেরই অন্যতম এই মাকসুদা। ভারতে পড়াশোনা করতে গিয়ে প্রথম শরীরগঠনের প্রতি আকৃষ্ট হন। এরপর কানাডায় ‘পাবলিক হেলথ’-এ উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছেন। দেশে ফিরে সিনিয়র ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে যোগ দেন যমুনা ফিউচার পার্কের ‘ফিউচার ফিটনেস জিম’-এ। এর মধ্যেই দেশে প্রথমবারের মতো নারীদের শরীরগঠন প্রতিযোগিতার আয়োজন হলে তাতে অংশ নেন। প্রথমবার রানার আপ হলেও পরের আসরেই জিতে নেন সোনা। এবার প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবেই অংশ নিয়েছিলেন তিনি আন্তর্জাতিক বডিবিল্ডিং অ্যান্ড ফিটনেস ফেডারেশনের অন্যতম আসর অ্যামেচার অলিম্পিয়ায়। ভারতে হওয়া এই প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন দেশের ৩০ জন প্রতিযোগীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই চতুর্থ বা তৃতীয় রানার আপ হয়েছেন মাকসুদা।

নিজের এই অর্জনে উচ্ছ্বসিত মাকসুদা। কাল মুম্বাই থেকে ফোনে বলছিলেন, ‘এই রেজাল্ট আমার কাছেও বড় চমক। কারণ প্রথমবারের মতো এমন একটা প্রতিযোগিতায় আমি অংশ নিয়েছি। এখানে আমার ক্যাটাগরিতে রাশিয়ার যে মেয়েটা প্রথম হয়েছে, ও ১৪-১৫ বছর ধরে বডিবিল্ডিং করছে; ভারতের যে মেয়েটা দ্বিতীয় ওর অভিজ্ঞতাও তেমনই। সেখানে আমরা তো মাত্র বছর কয়েক হলো এটা শুরু করেছি। ’

মাকসুদার স্বপ্ন অবশ্য আরো বড়। তিনি পেশাদার প্রতিযোগিতায় নাম লেখাতে চান। এ মাসেই ফ্রান্সে তাই একটি ‘প্রো কোয়ালিফায়ার’-এ অংশ নেবেন। বাংলাদেশের ছেলেদের মধ্যে এর আগে নাজমুস সাকিব ভারতে অনুষ্ঠিত অ্যামেচার অলিম্পিয়ায় চতুর্থ হয়েছেন। একই মানের প্রতিযোগিতা পেরু ক্লাসিকে তাশদিদ হাসান হয়েছেন দ্বিতীয়। দিল্লিতে ডায়মন্ড লিগে পদক আছে আল আমিনের। মাত্র তিন বছরের চেষ্টায় মাকসুদাও এখন সেই শীর্ষ খেলোয়াড়দের তালিকায় নাম লেখালেন। শরীরগঠনের সিনিয়র খেলোয়াড় রাজেশ চক্রবর্তীরও বিশ্বাস মাকসুদা আরো বহুদূর যাবেন, ‘ওর মধ্যে বিশেষ কিছু আছে। শুরু থেকেই ও নিজেকে আলাদা করতে পেরেছে। ভালো করার তাড়নাটা এত বেশি যে খুব দ্রুত উন্নতি করছে। সামনে আরো বড় কিছু ও দেশকে এনে দিলেও আমি অবাক হব না। ’ সেই স্বপ্নের সিঁড়ি তো পেয়েই গেছেন মাকসুদা।

 



সাতদিনের সেরা