kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ মাঘ ১৪২৮। ১৮ জানুয়ারি ২০২২। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ঐতিহ্য

সংরক্ষণের বড় স্বীকৃতি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সংরক্ষণের বড় স্বীকৃতি

ঢাকার কেরানীগঞ্জের দোলেশ্বর হানাফিয়া জামে মসজিদ। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার দোলেশ্বর হানাফিয়া জামে মসজিদের বয়স দেড় শ বছরের ওপরে। এটি নির্মাণ করা হয়েছিল ১৮৬৮ সালের দিকে। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদ গত বুধবার জাতিসংঘের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেসকোর স্বীকৃতি পেয়েছে।

দোলেশ্বরের হানাফিয়া মসজিদ এবং এর সংস্কারকাজের স্থপতি আবু সাঈদ এম আহমেদ পেয়েছেন ইউনেসকোর ‘দ্য অ্যাওয়ার্ড অব মেরিট’ সম্মান। এ বছর বিশ্বের ছয়টি দেশের ৯টি স্থাপনাকে এই স্বীকৃতি দিয়েছে সংস্থাটি। ‘এশিয়া-প্যাসিফিক অ্যাওয়ার্ডস ফর কালচারাল হেরিটেজ কনজারভেশন’ পুরস্কারের মাধ্যমে এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের কাজকে স্বীকৃতি দেয় ইউনেসকো।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার কোণ্ডা ইউনিয়নের দোলেশ্বর গ্রামে মসজিদটির অবস্থান। স্থপতি আবু সাঈদ মোস্তাক আহমেদের নেতৃত্বে পুরনো মসজিদটির সংস্কার ও সংরক্ষণের কাজ হয়।

ঊনবিংশ শতকে মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু করেন দারোগা আমিনউদ্দীন আহম্মদ নামের এক ব্যক্তি। এটি ‘দারোগা মসজিদ’ নামে পরিচিত ছিল। দারোগা আমিনউদ্দীনের ছেলে মইজ উদ্দীন আহম্মদ মসজিদের প্রথম মুতাওয়াল্লি ছিলেন। এই মইজ উদ্দীনের পরিবারের সঙ্গে আবার মসজিদের নির্মাণ ও সংস্কারকাজে যুক্ত ছিলেন খিদির বক্স ও কাদের বক্স নামের দুই সহোদর। কাদের বক্সের দৌহিত্র সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত অধ্যাপক হামিদুর রহমান। তিনি ১৯৬৮ সালে মসজিদের মিনার ও বর্ধিতাংশ নির্মাণ করেন। অধ্যাপক হামিদুর রহমান বর্তমান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর বাবা। তিনি সম্প্রতি পারিবারিক ধারা বহাল রেখে মসজিদটির সংস্কারকাজ হাতে নেন। নসরুল হামিদের তত্ত্বাবধানে কাজটি করেন স্থপতি আবু সাঈদ এম আহমেদ। তাঁর নেতৃত্বে ২০১৮ সালে সংস্কারকাজ শুরু হয়। পুরনো নকশা ঠিক রেখে সংস্কারকাজটি করা হয়। স্থপতি আবু সাঈদই ইউনেসকোর স্বীকৃতির জন্য আবেদন করেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পুরনো স্থাপনা রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে ব্যক্তি এবং বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগকে উৎসাহ দিতে ২০০০ সাল থেকে এই পুরস্কার

চালু করেছে ইউনেসকো। দোলেশ্বর হানাফিয়া মসজিদ তাদের মানদণ্ড পূরণ করতে পেরেছে।’

গত বুধবার প্রকাশিত ইউনেসকোর এসংক্রান্ত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এসব স্থাপনার মাধ্যমে যেভাবে ঐতিহ্য ধরে রাখা হয়েছে তা প্রশংসার বিষয়। যেসব স্থাপনা পুরস্কৃত হয়েছে সেগুলোর মধ্যে টেকসই উন্নয়নের দিকগুলো রয়েছে।’

মসজিদটি সংস্কারের উদ্যোক্তা বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘দেড় শ বছর আগে এই মসজিদ নির্মাণের সঙ্গে আমাদের পূর্বপুরুষদের ভূমিকা ছিল। আমাদের লক্ষ্য ছিল, পুরনোকে সঙ্গে নিয়ে নতুনের কথা বলা।’

স্থপতি আবু সাঈদ এম আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশে সাধারণত পুরনো মসজিদ ভেঙে নতুন মসজিদ নির্মাণ করা হয়। এ ক্ষেত্রে পুরনোটা রেখেই নতুনটা তৈরি করা হয়েছে। পুরনোটাকে একেবারে আদি অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’



সাতদিনের সেরা