kalerkantho

সোমবার । ৩ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

কাল সন্ধ্যার পর জাওয়াদের প্রভাব দেখা দিতে পারে

বৃষ্টি হতে পারে আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




কাল সন্ধ্যার পর জাওয়াদের প্রভাব দেখা দিতে পারে

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’-এর কারণে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আগামীকাল রবিবার সন্ধ্যার পর বাংলাদেশে জাওয়াদের প্রভাব দেখা দিতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আজ শনিবার সারা দেশে বৃষ্টি হতে পারে। গতকাল সন্ধ্যায় ঝড়ের কেন্দ্রে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার। 

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আজ শনিবার বিকেল নাগাদ ভারতের অন্ধ্র প্রদেশে ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানতে পারে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকাসহ সুন্দরবন, সাতক্ষীরা এবং এর আশপাশের এলাকায় তীব্র ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে। গতকাল ভারতে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের আকাশ মেঘলা রয়েছে।

এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম রেখেছে সৌদি আরব। আরবি শব্দ ‘জাওয়াদ’-এর অর্থ উদার বা করুণাময়। গতকাল সন্ধ্যায় আবহাওয়ার ৫ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়টি সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ছিল এক হাজার ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরো ঘনীভূত হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।

ঝড়ের কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। এ জন্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি এসে থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। তাদের গভীর সাগরে না থাকার জন্য বলা হয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্ভাবাসে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর বঙ্গোপসাগরে বিস্তৃত রয়েছে। এটি আরো উত্তর-পশ্চিম দিকে আসতে পারে। অর্থাৎ ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের দিকে আসতে পারে। এর প্রভাবে আজ খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ সহ বৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ ড. মো. আব্দুল মান্নান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রবিবার সন্ধ্যার পর বাংলাদেশ থেকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব বোঝা যাবে। এটি শনিবার ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ দিয়ে উত্তর উত্তর-পূর্ব দিকে প্রবেশ করবে। এতে আগামীকাল (আজ) সারা দেশে বৃষ্টি হতে পারে।’

এদিকে সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা দু-এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। তবে দিনের তাপমাত্রা কিছু কমতে পারে। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল টেকনাফে ৩২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায় ১২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।



সাতদিনের সেরা