kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ মাঘ ১৪২৮। ২৫ জানুয়ারি ২০২২। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

পদ্মা সেতু

বাকি সাত স্ল্যাব জুড়ে দেওয়ার কাজ শুরু

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি   

৩ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাকি সাত স্ল্যাব জুড়ে দেওয়ার কাজ শুরু

পদ্মা সেতু প্রকল্পের মূল কাজ এখন শেষের পথে। সেতুতে করা হয়েছে পিচ ঢালাইও। মুন্সীগঞ্জের মাওয়া অংশ থেকে গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের মূল কাজ এখন শেষের পথে। সেতুতে যান চলাচলের জন্য সাতটি স্ল্যাব বসানো বাকি ছিল। এখন সেই স্ল্যাব বসিয়ে জয়েন্টের কাজ করা হচ্ছে। মূল সেতুর আর মাত্র ৪.৭৫ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নভেম্বর মাস পর্যন্ত মূল সেতুর কাজের অগ্রগতি ৯৫.২৫ শতাংশ। তবে সার্বিক কাজের অগ্রগতি ৮৯ শতাংশ।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের জানান, পিচ ঢালাই আর লাইটপোস্টের পর এবার মুভমেন্ট জয়েন্ট মেরামতের কাজ চলছে। সেতুতে ৪১টি স্প্যান বসানোর পর এর ওপর স্ল্যাব বা পাটাতন বসিয়ে সড়কপথ নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু সাতটি  স্ল্যাব বসানো বাকি ছিল। তিনি বলেন, ‘এখানে জয়েন্ট না থাকায় আমরা ছোট সাতটি ব্রিজ তৈরি করে এর ওপর দিয়ে মালপত্র পরিবহনের গাড়ি চালাতাম। এখন ওই সাতটি জয়েন্ট বা ছোট ব্রিজ খুলে স্ল্যাব বসিয়ে মূল জয়েন্টের কাজ করা হচ্ছে। গতকাল পর্যন্ত দুটি জয়েন্ট ব্রিজ বা মুভমেন্ট জয়েন্ট খুলে ফেলা হয়েছে। ফলে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে এখন কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করছে না। কিছুদিনের মধ্যে এ কাজও শেষ হয়ে যাবে। ’

দেওয়ান আব্দুল কাদের জানান, সেতুতে মোট ১২ হাজার ৩৯০টি প্যারপেট ওয়াল বসানো হবে। এর  মধ্যে ১২ হাজার ২৫৪টি বসানো হয়েছে। বাকি রয়েছে মাত্র ১৩৬টি, যা এখন দ্রুতগতিতে শেষ হওয়ার পথে। মূল সেতুর দুই হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্ল্যাব, দুই হাজার ৯৫৯টি রেলওয়ে স্ল্যাব ও পাঁচ হাজার ৮৩৪টি শেয়ার পকেট এরই মধ্যে বসে গেছে। মাওয়া ও জাজিরার ভায়াডাক্টে ৪৩৮টি সুপার টি গার্ডারের মধ্যে ৪৩৮টি এবং ৮৪টি রেলওয়ে আই গার্ডারের মধ্যে ৮৪টিই স্থাপন করা হয়েছে। গ্যাস পাইপলাইন ৪৯.৩৫ শতাংশ এবং ৪০০ কেভিএ বিদ্যুত্লাইনের কাজ ৬২ শতাংশ এগিয়েছে।

নির্বাহী প্রকৌশলী আরো জানান, সেতুর পিচ ঢালাইয়ের কাজের মধ্যে ওয়াটার প্রুফিং মেমব্রিনের কাজ ১৩ শতাংশ, কার্পেটিং ২.০৫ শতাংশ এবং মুভমেন্ট জয়েন্ট ৫৯ শতাংশ, লাইটপোস্ট ৯.১৯ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

সেতুর সংযোগ সড়ক ও সার্ভিস এরিয়ার কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। সেতু বিভাগ সূত্র জানায়, এতে ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৪৯৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এ ছাড়া ভূমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন ও পরিবেশ খাতে বরাদ্দ চার হাজার ৩৪২ কোটি ২৬ লাখ টাকা। অন্যান্য (পরামর্শক, সেনা নিরাপত্তা, ভ্যাট ও আয়কর, যানবাহন, বেতন ও ভাতাদি এবং অন্যান্য) খাতে বরাদ্দ দুই হাজার ৮৮৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। নদীশাসনের কাজের অগ্রগতি হয়েছে সাড়ে ৮৬ শতাংশ। নদীশাসন কাজের চুক্তিমূল্য আট হাজার ৯৭২ কোটি ৩৮ লাখ টাকার মধ্যে ব্যয় হয়েছে সাত হাজার ৩১ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

জানা যায়, পদ্মা সেতুর প্রকল্পের মোট বাজেট ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, যার মধ্যে গত নভেম্বর মাস পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ২৬ হাজার ৪৭৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের ৮৭.৬৯ শতাংশ। মূল সেতুর কাজের চুক্তিমূল্য প্রায় ১২ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা, যার মধ্যে চলতি বছরের নভেম্বর মাস পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ১১ হাজার ৫১২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। চীনের ‘চায়না মেজর ব্রিজ কম্পানি’ মূল সেতুর নির্মাণ করছে। ৬.১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পদ্মা সেতু আগামী জুন মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করবেন বলে এরই মধ্যে সরকার ঘোষণা করেছে।

 



সাতদিনের সেরা