kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ মাঘ ১৪২৮। ২৫ জানুয়ারি ২০২২। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

৮ মাসে কেবল প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ

তামজিদ হাসান তুরাগ   

৩ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৮ মাসে কেবল প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের জন্য একটি সমন্বিত ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ করতে ৪৪৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। গত ১৬ মার্চ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পটি অনুমোদন করেছে। আট মাস পর গত নভেম্বরে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে প্রকল্প শেষ হওয়া নিয়ে শুরুতেই সংশয় তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কোনো প্রকল্প সঠিক সময়ে শেষ না হওয়ার পেছনে প্রকল্প পরিচালক দেরি করে নিয়োগ দেওয়া অন্যতম কারণ বলে মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রকল্পের কাজ শুরু করতে যদি দেরি হয়, তাহলে প্রকল্প শেষ করতেও দেরি হয়। এই প্রকল্পটির ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছে। এরপর দেখা যায়, বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ এক পর্যায়ে এসে প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব করবে। তখন ব্যয়ও বাড়বে। এই চক্রের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে বেশির ভাগ প্রকল্প।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমি মনে করি, যেহেতু এটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য একটি প্রকল্প; তাই এই প্রকল্পকে বেশি অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়ন করা দরকার, যাতে তারা দ্রুত সমাজের সঙ্গে একীভূত হতে পারে। ’

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য হাতে নেওয়া এই প্রকল্পের মূল কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে—একাডেমিক ভবন, ডরমিটরি ও হোস্টেল নির্মাণ। গ্যালারি ও ড্রেসিং রুম তৈরি। ফুটবল ও ক্রিকেট মাঠ তৈরি। সুইমিংপুল, মসজিদ, শিশুদের খেলার মাঠ, রাস্তা, সীমানাপ্রাচীর ও গেট তৈরি। সাবস্টেশন স্থাপন ও বহির্বিদ্যুতায়নের ব্যবস্থা করা। ক্রীড়াসামগ্রী ও অফিস সরঞ্জাম, জিমের ইকুইপমেন্ট, কম্পিউটার, যানবাহন ও আসবাব কেনা।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি; যেমন—সেরিব্রাল পালসি (সিপি), দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, শ্রবণপ্রতিবন্ধী, বধির-অন্ধ, অটিস্টিক, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের খেলাধুলার সুযোগ তৈরি হবে। এর মাধ্যমে তাদের সুস্থ বিনোদনের পথ তৈরি করা সম্ভব হবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা, উন্নয়ন এবং আইন) মো. সাইফুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের খেলাধুলার দরকার আছে, বিনোদনের দরকার আছে। আমরা এরই মধ্যে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দিয়েছি। আশা করছি, শিগগিরই আমরা মাঠ পর্যায়ের কাজ করতে পারব। ’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় বিশ্বের ১০ শতাংশ মানুষ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন। প্রতিবন্ধী শনাক্তকরণ কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৫ লাখ ৪০ হাজার ৮০০ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি সারা দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। তাদের জন্য যে পরিমাণ সেবা, সুযোগ বা বিনোদনমূলক সুবিধা রয়েছে, তা পর্যাপ্ত নয়। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য যদি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো, প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও বিনোদনের ব্যবস্থা করা যায়, তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদেরও উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরাও জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মানবসম্পদে পরিণত করা গেলে তারা আর সমাজের বোঝা হিসেবে থাকবে না।

প্রকল্পের বিষয়ে কথা বলার জন্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক (উপসচিব) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন তালুকদারকে ফোন করা হয়। তবে তিনি সাংবাদিক পরিচয় শোনার পর ‘বাইরে আছি’ বলে ফোন কেটে দেন।



সাতদিনের সেরা