kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ মাঘ ১৪২৮। ২৫ জানুয়ারি ২০২২। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

টমেটোর দাম কমেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



টমেটোর দাম কমেনি

রাজধানীর সেগুনবাগিচা বাজারে গতকাল বৃহস্পতিবার টমেটো কিনে কিছুটা ক্ষোভ ঝাড়লেন ক্রেতা মফিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, মাঝারি মানের চাল কিনতে এখন ৫০ থেকে ৫২ টাকা লাগে। আর এক কেজি টমেটো কিনলাম ১৫০ টাকায়। এক কেজি টমেটো কিনতেই তিন কেজি চালের টাকা শেষ।

বিজ্ঞাপন

নিম্নবিত্তদের টমেটো খাওয়ার সাধ্য নেই। মধ্যবিত্তদেরও খেতে হচ্ছে কালেভদ্রে।

বিক্রেতাদের কাছে গিয়ে দেখা গেল, দেশি পাকা টমেটো (টক টমেটো) প্রতি কেজি ১৫০ টাকায় বিক্রি করতে অনড় বিক্রেতারা। কোনো দরদাম করার সুযোগই দিচ্ছেন না। আমদানি করা পাকা টমেটো অবশ্য ১৪০ টাকায় বিক্রি করছেন। আর দেশি অপরিপক্ব ও কাঁচা টমেটো বিক্রি করা হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি।

সবজি বিক্রেতা নূরে আলম বলেন, ‘পাইকারি বাজারে টমেটো কম পাওয়া যায়। দামও বেশি। প্রতি পাল্লা (পাঁচ কেজি) কিনতে হয় ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায়। তার সঙ্গে গাড়িভাড়া, দোকানভাড়া, মিনতি (শ্রমিক) খরচসহ নানা খরচ যোগ হয়। টমেটো এখন এর কমে বিক্রি করা যায় না। আমার কিছু নিয়মিত খরিদ্দার রয়েছেন, তাঁদের জন্য আনতে হয়। অন্যথায় এত দামের সবজি আনায় ঝুঁকি রয়েছে। বিক্রি না হলে পচে যাবে। ’

গাজরের দামও শত টাকা ছুঁই ছুঁই। খুচরায় দেশি ও চায়না গাজর বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি।   গতকাল কারওয়ান বাজারে আমদানির টমেটো বিক্রি হয়েছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি। দেশি টক টমেটো বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি। আর রাজশাহীর কাঁচা টমেটো বিক্রি  হয়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি।

আমদানি করা গাজরের ১০ কেজির কার্টন বিক্রি হয়েছে ৬৫০ টাকা বা ৬৫ টাকা কেজি। দেশি গাজর বিক্রি হয়েছে ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা কেজি।

কারওয়ান বাজারের সবজির আড়তদার, যমুনা ভাণ্ডারের মালিক মো. দীপু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশের পাকা টমেটো আসছে এখন সাতক্ষীরা ও কুমিল্লা থেকে। বর্ষা শেষে পুকুরের পার ও উঁচু জমিতে এসব টমেটো লাগানো হয়েছিল। তবে আগাম এই টমেটোর পরিমাণ খুবই কম। বাজার চাহিদার খুব সামান্যই মিটছে এগুলোতে। তাই আমদানির টমেটোর ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে আমাদের। রাজশাহী থেকে কাঁচা টমেটো আসছে, পরিপক্ব আসতে আরো ২৫ থেকে ৩০ দিন লাগবে।

আমদানিকারকরা বলছেন, বর্তমানে টমেটো ও গাজর আমদানির অনুমোদন (ইমপোর্ট পারমিশন বা আইপি) দেওয়া বন্ধ রয়েছে। তবে বন্ধ করার আগে বেনাপোল ও ভোমরা স্থলবন্দরের কিছুসংখ্যক ব্যবসায়ীকে অধিক পরিমাণে আইপি দেওয়া হয়েছিল। তারা এখন তাদের সুবিধামতো আমদানি ও দাম নির্ধারণ করছে। তাই দাম বাড়ছে।

হিলি বন্দরের আমদানিকারক সমিতির সভাপতি হারুন আর রশিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কাঁচা মরিচের দাম যখন অনেক বেশি ছিল, তখন আমরা আমদানি করে বাজার স্থিতিশীল করেছিলাম। মাস তিনেক হলো টমেটো-গাজরের আইপি দিচ্ছে না বন্দর কর্তৃপক্ষ। আমাদের যদি আইপি দেওয়া হয়, তাহলে আমরা কম দামে এসব সবজি এনে বাজার স্থিতিশীল করতে পারব। ভারতের নাসিকের বাজার থেকে বর্তমানে ১০-১২ টাকায় টমেটো আনা যাচ্ছে। ’ 

দেশে সাধারণত ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ টমেটো বাজারে এলেও নভেম্বরের শুরুতে কিছু আগাম টমেটো পাওয়া যায়। দেশি টমেটোর বাজার থাকে মার্চ মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত। বাকি সময় বাজারের চাহিদা মেটানোর জন্য আমদানি করা হয়। সাধারণত ভারত থেকেই টমেটো আমদানি করা হয়। যার বেশির ভাড়ই আসে মহারাষ্ট্র থেকে। আর গাজর আসে চীন থেকে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে গত বছর দেশে মোট ৭০ হাজার ৪৬০ হেক্টর জমিতে চার লাখ ১৫ হাজার ৪৯৪ টন টমেটো হয়েছিল। এই টমেটোর পুরোটাই শীত মৌসুমে উৎপাদন করা হয়। আগের বছর হয়েছিল তিন লাখ ৮৭ হাজার ৬৫৩ মেট্রিক টন। দেশে টমেটো সংরক্ষণে কোনো হিমাগার না থাকায় উৎপাদিত সব টমেটোই মৌসুমে বিক্রি করে দেন কৃষকরা। এর বড় একটি অংশ মৌসুমে বিভিন্ন কম্পানি কিনে পাল্প তৈরি করে রাখে। এই পাল্প পরবর্তী সময়ে সস ছাড়াও বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাদ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। গত বছর গাজর উৎপাদন হয়েছিল ২১ হাজার টন। আগের বছর হয়েছিল ১৯ হাজার ২৪৬ টন।



সাতদিনের সেরা