kalerkantho

সোমবার । ৩ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বাণিজ্য কাঠামো সংস্কার, পানি বণ্টনে জোর দেওয়ার পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাণিজ্য কাঠামো সংস্কার, পানি বণ্টনে জোর দেওয়ার পরামর্শ

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে টেকসই বাণিজ্যিক সম্পর্কের জন্য বাণিজ্য কাঠামো পুনঃসংস্কার এবং পানি বণ্টন ব্যবস্থাপনায় আরো গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান।

গতকাল বুধবার ‘ইন্দো-বাংলা সম্পর্কের ৫০ বছরের অংশীদারিত্ব : আগামী ৫০ বছরের অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক সেমিনারে রেহমান সোবহান এ কথা বলেন। রাজধানী ওয়েস্টিন হোটেলে এই সেমিনারের আয়োজন করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এবং ভারতের গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিচার্স অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম  ফর ডেভেলপিং কান্ট্রিংস (আরআইএস)।

রেহমান সোবহান বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। ফলে রাজনৈতিক সম্পর্ক ভালো থাকলেও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা না গেলে সম্পর্ক টেকসই হয় না। তাই পণ্য ও সেবা রপ্তানি বহুমুখী করার ওপর জোর দেওয়া জরুরি।

তিনি বলেন, রপ্তানি বাড়াতে ভারতের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে পারেন। গত ৫০ বছর ধরেই এই প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। একই সঙ্গে দুই দেশের যোগাযোগব্যবস্থায় গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

সিপিডির চেয়ারম্যান বলেন, ব্যবসায়ীরা ভারতে বাণিজ্য বাধার কথা বলেন। কিন্তু দেশটিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেলেও তৈরি পোশাকসহ কয়েকটি পণ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে রপ্তানি। ফলে গত ১০ বছর ভারতের বাজারে অনেক সুবিধা কাজে লাগানো যায়নি। বিনিয়োগ ও রপ্তানিও বহুমুখী করা যায়নি।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহিরয়ার আলম। বক্তব্য দেন কাজী নাবিল আহমেদ এমপি, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী, সিপিডির সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য প্রমুখ।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহিরয়ার আলম বলেন, বর্তমান সরকারের সময় দু্ই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অনেক মজবুত। বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যের বড় অংশীদার ভারত। সমুদ্র অর্থনীতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ অনেক খাতে দুই দেশের কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের রাজনৈতিক এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে গত ৫০ বছরে অনেক অর্জন আছে। তবে এটাও সত্য, অনেক সমস্যাও আছে। আমি মনে করি, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে মূল শর্ত হলো তিনটি—বিশ্বাস, আস্থা এবং সমতা। আমাদের আঞ্চলিক বাণিজ্য এবং নিজেদের মধ্যে আস্থা বাড়াতে প্রকৃত তথ্যের ওপর জোর দিতে হবে। কেননা, বর্তমান যুগে আমরা সবাই অসত্য তথ্যের ওপর ভাসছি। তাই ভবিষ্যৎ সম্পর্ক উন্নয়নে আমাদের প্রকৃত তথ্য ও গবেষণায় জোর দিতে হবে।’

আলোচনায় একাধিক বক্তা সীমান্ত হত্যার বিষয়টি উল্লেখ করেন।

নিজের বক্তব্যে ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, সীমান্ত হত্যা দুঃখজনক ঘটনা, এটা অবশ্যই বন্ধ হতে হবে। সীমান্তে ভারতের দিকেই এটা হয়ে থাকে। কেননা অপরাধীরা সীমান্ত বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালায়। সীমান্ত এলাকায় বর্ডার হাট, অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়ালে সীমান্তের সমস্যা কমানো যেতে পারে। তিনি বলেন, সীমান্তে মানবপাচারও হয়। যৌথভাবে মানবপাচার রোধ করতে হবে।

বাংলাদেশে ভারতের বিনিয়োগ বাড়ানোর বিপুল সম্ভাবনা আছে উল্লেখ করে দোরাইস্বামী বলেন, এই বিনিয়োগ শুধু ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্যই নয়, বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা যেতে পারে। এতে ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা লাভবান হবেন।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিডার পরিসংখ্যান দিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশে ভারতের ৩৫০টি কম্পানি বিনিয়োগ করেছে। এটা সহজেই দ্গুিণ করা সম্ভব। এ জন্য খাদ্য প্রক্রিয়াজাত পণ্যে, অটোমোবাইল, অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ, তথ্য-প্রযুক্তি, কম্পিউটার সিস্টেম এমনকি পোশাক খাতেও প্রচুর বিনিয়োগের সুযোগ আছে।



সাতদিনের সেরা