kalerkantho

সোমবার । ৩ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বড়দের অসচেতনতায় ঝরছে শিশুর প্রাণ

মোবারক আজাদ   

২ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




বড়দের অসচেতনতায় ঝরছে শিশুর প্রাণ

ছারপোকা মারার বিষ (কীটনাশক) এনে তোশকের নিচে রেখেছিলেন বাবা। বাসায় সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত ছিল। ১১ মাস বয়সী শিশু আইয়ান তখন খেলছিল। এক ফাঁকে সে তোশকের নিচে রাখা বিষ খাবার ভেবে খেয়ে বমি ও কাঁদতে শুরু করে। পরে শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

গত ১১ নভেম্বর রাজধানীর মগবাজারের নয়াটোলা এলাকার একটি বাসায় এই ঘটনা ঘটে। এর আগে ৬ অক্টোবর ফকিরাপুলে তেলাপোকা মারার বিষের প্যাকেটকে আচারের প্যাকেট ভেবে খেয়ে ইসমাঈল নামের তিন বছরের এক শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।

অন্যদিকে ৪ অক্টোবর সূত্রাপুরের নারিন্দায় বাসার ছাদ থেকে পড়ে শারমিন জাহান মুমু (৭) নামের এক শিশু মারা যায়। ৭ আগস্ট বাড্ডায় ছাদে খেলার সময় নিচে পড়ে ফাহিম ইসলাম (৪) নামের এক শিশু মারা গেছে।

এভাবে চলতি বছরের মে মাস থেকে নভেম্বরের মধ্যে সাত মাসে শুধু রাজধানীতেই কীটনাশককে খাবার ভেবে ও অসাবধানতাবশত ছাদ থেকে নিচে পড়ে অন্তত আট শিশু মারা গেছে। এদের বয়স ছিল ১১ মাস থেকে আট বছর। ঢাকার বাইরেও এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। এসব দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে অভিভাবকের সচেতনতার অভাবকেই দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মগবাজারে কীটনাশক খেয়ে মারা যাওয়া শিশুর মা নাজমিন আক্তার বলেন, ‘ছারপোকা মারতে ওষুধ এনে তোশকের নিচে রাখছিলাম, কিন্তু এটা সন্তানের মৃত্যুর কারণ হবে জানলে কখনো এখানে রাখতাম না।’ সূত্রাপুরের নিহত শিশুর মা হালিমা বেগম বলেন, ‘ছাদে কাপড় আনতে মেয়েকে পাঠাই। সেখান থেকে গরু দেখতে নিচে তাকালে পা পিছলে পড়ে তার মৃত্যু হয়। এই ধরনের ভুল যেন আর কোনো মা-বাবা না করেন তাঁদের প্রতি অনুরোধ রইল।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাসায় তেলপোকা, ছারপোকা ও ইঁদুরের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় এগুলো নিধন করতে কীটনাশক এনে তোশকের নিচে, দেয়ালে ও বেড়ায় গুঁজে রাখেন অভিভাবকরা। শিশুরা সহজেই এগুলোর নাগাল পায় এবং পরিবারের সদস্যদের অগোচরে এগুলো খাবার ভেবে খেয়ে ফেলছে। অন্যদিকে শহরে প্রয়োজনীয় খেলার মাঠ না থাকায় অনেক সময় শিশুকে ছাদে খেলার জন্য পাঠানো হয়। পাঠানো হয় শুকানো কাপড় আনতে। অনেক বাসার ছাদে  নিরাপত্তাবেষ্টনী না থাকা, কিংবা ভালো না থাকার কারণে নিচে পড়েও শিশুর মৃত্যুর ঘটছে।

জানতে চাইলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. দেলোয়ার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিভিন্ন কীটপতঙ্গ মারার কীটনাশক বাসায় আনলে অবশ্যই অভিভাবকদের সচেতনতার সঙ্গে এমন জায়গায় রাখতে হবে, যাতে শিশুদের নাগালের বাইরে থাকে। অন্যথায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাবে।



সাতদিনের সেরা