kalerkantho

সোমবার । ৩ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

কূটনীতিকদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আইনের শাসনই বিদেশ যেতে বাধা খালেদা জিয়ার

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৩০ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আইনের শাসনই বিদেশ যেতে বাধা খালেদা জিয়ার

এ কে আব্দুল মোমেন

আইনের শাসন সমুন্নত রাখতেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে বিদেশি কূটনীতিকদের জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া দেশের যেকোনো স্থানে চিকিৎসা নিতে পারেন; এমনকি বিদেশ থেকে যেকোনো চিকিৎসকও আনতে পারেন। কিন্তু তাঁর বিদেশে যাওয়ার বিষয়টি সরকারের হাতে নেই। তাঁকে বিদেশে যেতে হলে আইনি প্রক্রিয়ায়ই যেতে হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল সোমবার সকালে ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সমসাময়িক ইস্যুতে ঢাকায় বিদেশি কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল বিকেলে কূটনৈতিক ব্রিফিং সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করেন। এ সময় তাঁর পাশে ছিলেন সৌদি আরবের পরিবহনমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার আল সালেহ নাসের।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, তিনি কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে জলবায়ু সম্মেলন ও প্যারিসে শান্তি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অংশগ্রহণ, কভিড পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা সংকট, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে কথা বলেছেন।

ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলারসহ ঢাকায় বিদেশি মিশনগুলোর প্রতিনিধিরা যোগ দেন। গণতন্ত্র সম্মেলনে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বলেন, তিনি আগামী দিনগুলোতে এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন। অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আমন্ত্রণ না পেলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক খারাপ নয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের বর্তমান অবস্থা নিয়ে ব্রিফিংয়ে কথা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া একজন বন্দি। তাঁর ব্যাপারে আইন অনুযায়ীই ব্যবস্থা হবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘খালেদা জিয়া দেশের যেকোনো স্থানে চিকিৎসা করাতে পারেন। তবে যদি তিনি বাইরে যেতে চান, তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে হবে। আমরা আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে চাই। আমরা চাই, তিনিও তা অনুসরণ করুন।’

ড. মোমেন বলেন, ‘খালেদা জিয়া বিদেশ থেকে চাইলে যেকোনো চিকিৎসক আনতে পারেন। তাঁর সব মেডিক্যাল রিপোর্ট বিদেশে গেছে। তারা যদি চায় বিদেশি চিকিৎসক আনতে, অবশ্যই স্বাগত।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে ব্রিফিংয়ে। পর্যায়ক্রমে সাড়ে চার হাজার ইউপিতে নির্বাচন হবে।

বিরোধী দলগুলোর অনেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হচ্ছে। উচ্ছ্বাস বেশি। একমাত্র খারাপ বিষয় হলো মৃত্যু। কোনো নির্বাচনেই আমরা একটি মৃত্যুও চাই না। তবে আমি জানি না এটি কিভাবে সম্ভব।’

‘ভোটাররা কখনো ভুল করেন না’ উল্লেখ করে মোমেন বলেন, ভোটারদের উচিত কেবল ভোট দেওয়া। কোনো সংঘাতে তাঁদের জড়ানো উচিত নয়। নেতাদেরও উচিত তাঁদের কর্মীদের উত্তেজিত না করা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচনের ব্যাপারে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। সরকার কোনো নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেনি।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আগামী ৪ ও ৫ ডিসেম্বর ঢাকায় বিশ্ব শান্তি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ৫১টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। কভিডের কারণে অনেকে ভার্চুয়ালি সম্মেলনে যোগ দেবেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে জলবায়ু সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের অংশ নেওয়ার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিদেশি বিনিয়োগের কথা চিন্তা না করে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধের মতো সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সর্বসম্মত প্রস্তাব গৃহীত হওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিদেশি কূটনীতিকদের ধন্যবাদ জানান। ভাসানচর নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে জাতিসংঘের সমঝোতার তথ্য তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ এরই মধ্যে সেখানে কাজ শুরু করেছে। ৩৫ কোটি ডলার খরচ করে বাংলাদেশ ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য থাকা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করেছে।

মোমেন বলেন, বাংলাদেশ জোর করে কোনো রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠায়নি। তবে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়াই এ সংকটের সমাধান।

খালেদা জিয়ার অবস্থা অপরিবর্তিত

এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখনো অপরিবর্তিত। গতকালও তাঁর জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের চিকিৎসকরা বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন। তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রবিবার মেডিক্যাল বোর্ডের চিকিৎসকরা ম্যাডামের স্বাস্থ্যের যে অবস্থার কথা বলেছেন, তেমনি রয়েছে। বলা চলে, অপরিবর্তিত অবস্থায় আছে।’

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, গতকাল চিকিৎসক ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একটু কথা বলেছেন খালেদা জিয়া। মলের সঙ্গে আবার রক্তক্ষরণ হচ্ছে কি না, সে জন্য পরীক্ষা করা হয়েছে। আজ পরীক্ষার ফল পাওয়া যেতে পারে।

লিভার সিরোসিসের কারণে খালেদা জিয়ার ব্লিডিং হচ্ছে জানিয়ে গত রবিবার চিকিৎসকরা যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র বা জার্মানির বিশেষায়িত হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসার সুপারিশ করেছেন।

 

 



সাতদিনের সেরা