kalerkantho

সোমবার । ৩ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

৬ হামলাকারীর ৫ জন শনাক্ত ফেনী থেকে এসেছে একজন

কুমিল্লা সংবাদদাতা   

৩০ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৬ হামলাকারীর ৫ জন শনাক্ত ফেনী থেকে এসেছে একজন

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ মোহাম্মদ সোহেল ও আওয়ামী লীগ কর্মী হরিপদ সাহাকে গুলি করে হত্যার মিশনে অংশ নেয় ছয়জন। ঘটনার আগে দুপুরে সংরাইশ এলাকার মোহাম্মদ রাব্বি ইসলাম অন্তুর বাসায় তারা বৈঠক করে এবং ভাত খায়। এরপর অন্তু দলটিকে ঘটনাস্থলে যাওয়ার জন্য একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ঠিক করে দেন।

গ্রেপ্তার হওয়ার পর অন্তু গতকাল বিকেলে ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব কথা বলেছেন। জোড়া খুনের মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি নন। তদন্তে ঘটনায় জড়িত থাকার তথ্য পাওয়ায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আসামিদের বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন। তবে নিজে কিলিং মিশনে ছিলেন না, সহযোগিতা করেছেন বলে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সোহান সরকার গত রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণে আমরা নিশ্চিত হয়েছি হত্যাকাণ্ডে ছিলেন ছয়জন। তাঁরা হলেন মামলার প্রধান আসামি শাহ আলম, ২ নম্বর আসামি সোহেল মিয়া ওরফে জেল সোহেল, ৩ নম্বর আসামি মো. সাব্বির হোসেন, ৫ নম্বর আসামি সাজন, এজাহারবহির্ভূত স্থানীয় নাজিম নামের এক যুবক ও ফেনী থেকে আসা অজ্ঞাতপরিচয় এক সন্ত্রাসী। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শাহ আলম ও নাজিমকে চিহ্নিত করেছি।’

সংরাইশের বাসিন্দা বাদল মিয়ার ছেলে অন্তুর দেওয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে পুলিশ সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের দিন দুপুরে ছয় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ঘটনাস্থলের অদূরে সংরাইশ এলাকার অন্তুর বাসায় অবস্থান নেয়। তারা ওই বাসায় দুপুরে গরুর মাংস দিয়ে খাবার খায়। আর ঘটনার আগের রাতে তারা বৈঠক করেছিল সংরাইশেই সাজনের বাসায়। কাউন্সিলর সোহেলকে খুনের সর্বশেষ পরিকল্পনা করা হয় সাজন ও অন্তুর বাসায় বসেই।

রবিবার রাতে অভিযান চালিয়ে নগরীর সুজানগর এলাকার নূর আলীর ছেলে জিসানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে জিসানের দেওয়া তথ্য মতে অন্তুকে জেলার দেবীদ্বার থেকে ওই রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে গত রাতে ৩২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজ পাঠানো হয় গণমাধ্যমে। সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে দৌড়াচ্ছেন ১ নম্বর আসামি শাহ আলম ও অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবক। ব্যস্ততম সড়কটি গুলিবর্ষণের কারণে ফাঁকা।  ভিডিওতে দেখা গেছে, অস্ত্রধারীরা কালো পোশাক, মাথায় কালো কাপড় বাঁধা ও কালো মুখোশ পরা। দুই ব্যক্তির হাতেই পিস্তল। পুলিশ বলছে, পিস্তল হাতে প্রথমে শাহ আলম ও তাঁর পেছনে নাজিমকে দেখা যাচ্ছে। এর পেছনে পাথুরিয়াপাড়া রথ সড়কের বিদ্যুতের খুঁটির কাছে কালো পোশাকধারী আরো তিনজনকে এগিয়ে আসতে দেখা যাচ্ছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, কোতোয়ালি মডেল থানার চকবাজার ফাঁড়ির পরিদর্শক কায়সার হামিদ বলেন, অন্তু মামলার এজাহারভুক্ত আসামি না হলেও তদন্তে ঘটনায় তাঁর জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জিসান ও তাঁকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। তবে এখনো শুনানি হয়নি।

 



সাতদিনের সেরা