kalerkantho

সোমবার । ৩ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

দিনবদল

অবহেলার পাহাড় ঠেলে চমকে দেওয়া বিজয়

নয়ন খন্দকার, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)   

৩০ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অবহেলার পাহাড় ঠেলে চমকে দেওয়া বিজয়

নজরুল ইসলাম ঋতু। তৃতীয় লিঙ্গের এই প্রার্থী দেশে প্রথমবারের মতো ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের পর দেশের তৃতীয় লিঙ্গের অবহেলিত মানুষ ভোটাধিকার পেয়েছেন সাম্প্রতিককালে। সেই সঙ্গে সমাজেও মৃদু গতিতে বইতে শুরু করেছে পরিবর্তনের হাওয়া। কালীগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নে তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী নজরুল ইসলাম ঋতুর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া দৃশ্যত তারই প্রমাণ দিচ্ছে।

অনেকটা আকস্মিকভাবে এলাকায় এসে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন নজরুল ইসলাম ঋতু। নির্বাচনে জয়ের পর তিনি সাংবাদিকদের জানান, অবহেলিত মানুষের উন্নয়নে কাজ করে যাবেন। ঋতু বলেন, ‘সমাজের একজন অবহেলিত মানুষ হওয়ার পরও এলাকার মানুষ আমাকে ভালোবেসে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছেন। এ জন্য আমি কৃতজ্ঞ। এখন থেকে মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করব।’

গত রবিবার তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে নজরুল ইসলাম ঋতু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে (আনারস প্রতীক) নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর দ্বিগুণ ভোট পেয়ে জয়ী হন। ঋতু পেয়েছেন ৯ হাজার ৫৫৭ ভোট। অন্যদিকে দ্বিতীয় স্থানে থাকা বর্তমান চেয়ারম্যান নৌকা প্রতীকের নজরুল ইসলাম ছানা পেয়েছেন চার হাজার ৫২৯ ভোট। এ ছাড়া ঋতু উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়ার রেকর্ড গড়েছেন।

ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের দাদপুর গ্রামের মৃত আব্দুল কাদেরের সন্তান ঋতু। নিজের জীবনের গল্প তুলে ধরে তিনি বলেন, তৃতীয় লিঙ্গের একজন হওয়ার কারণে পাঁচ বছর বয়সেই ঢাকায় চলে যান। সামাজিক নানা বাধায় প্রাথমিক শিক্ষার গণ্ডি পেরোনো হয়নি। ঢাকার ডেমরায় দলের ‘গুরুমা’র (তৃতীয় লিঙ্গের দলনেতা) কাছেই বেড়ে ওঠেন। ঋতু জানান, দলের পরের গুরুমার দায়িত্ব তাঁরই কাঁধে পড়ার কথা ছিল। ঢাকায় থাকলেও পরিবারের টানে প্রায়ই বাড়িতে আসতেন তিনি।

রাজনীতি ও নির্বাচন প্রসঙ্গে ঋতু বলেন, ‘বাবা মারা যাওয়ার সময় বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধু দেশের জন্য অনেক কিছু করেছেন। যত দিন বাঁচবে তাঁর আদর্শেই যেন কাজ করি। এবার আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেলেও এলাকার মানুষ আমাকে ভালোবেসে ভোটে দাঁড় করান। তাঁদের ভালোবাসার ভোটেই আজ আমি জয়ী হয়েছি।’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ঋতু বলেন, ‘আমি ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়নে রূপ দিতে চাই। সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাই যখন শুনি আমার এলাকার কেউ অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছে না অথবা মেয়ের বিয়ে দিতে পারছে না। এখন বিজয়ী হতে পেরে এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সহযোগিতা করতে পারব।’



সাতদিনের সেরা