kalerkantho

সোমবার । ৩ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

প্রথম চার মাসে সাড়ে ২২ হাজার কোটি টাকা ছাড়

ঋণ দেওয়ায় বিশ্বব্যাংকের চেয়ে এগিয়ে এডিবি

তামজিদ হাসান তুরাগ   

৩০ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঋণ দেওয়ায় বিশ্বব্যাংকের চেয়ে এগিয়ে এডিবি

করোনা মহামারির মধ্যেও চলতি অর্থবছরের (২০২১-২২) প্রথম চার মাসে দেশে বৈদেশিক সহায়তার পরিমাণ বেড়েছে। এই ঋণ সহায়তার পরিমাণ ২৬২ কোটি ডলার (প্রায় ২২ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা)। গত বছর একই সময়ে ঋণের অর্থ ছাড় হয়েছিল ১৭১ কোটি ডলার (১৪ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা)। সেই হিসাবে ঋণছাড় বেড়েছে সাত হাজার ৯৯৭ কোটি টাকা।

এই অর্থছাড়ে এগিয়ে আছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। তারা দিয়েছে ১১ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকার ঋণ। তবে পিছিয়ে আছে বিশ্বব্যাংক। চার মাসে তারা ছাড় করেছে এক হাজার ৮২২ কোটি টাকা। পরিকল্পনা কমিশনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) চলতি নভেম্বরের প্রতিবেদনে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এই অর্থবছরে জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকা ছাড় করেছে ৩৫ কোটি ৬৫ লাখ ডলার। চীন দিয়েছে ৩১ কোটি ১৯ লাখ ডলার। ভারতের কাছ থেকে পাওয়া গেছে তিন কোটি ৭৭ লাখ ডলার। রাশিয়া দিয়েছে ১৭ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) ছাড় করেছে ৪০ হাজার ডলার। এ ছাড়া অন্য দাতা দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে ১৭ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা পেয়েছে বাংলাদেশ। গত অর্থবছরের (২০২০-২১) জুলাই-অক্টোবর সময়ে ১৭১ কোটি ডলার ছাড় করেছিল উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো। আর এ বছরের চার মাসে ছাড় হলো ২৬১ কোটি ডলার। এই হিসাবে চার মাসে বিদেশি ঋণ বেড়েছে প্রায় ৯০ কোটি ডলার।

ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘প্রতিবছর উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে অর্থ ছাড় করে। তাদের প্রতি অর্থবছরের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকার অঙ্ক থাকে। তবে এবার করোনার কারণে তারা নতুন একটি উইন্ডো খুলছে। মূলত করোনার সহায়তার জন্য তারা এটা করেছে। এ জন্যই গত অর্থবছরের চেয়ে বৈদেশিক সহায়তা বেড়েছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘চার কিংবা ছয় মাসের হিসাব দিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। অর্থছাড় হয় প্রকল্প ধরে ধরে। প্রথম চার মাসে বিশ্বব্যাংক কম টাকা ছাড় করেছে। দেখা যাবে, বছর শেষে তাদের ছাড়ের পরিমাণ বাড়তেও পারে। তাই মূল্যায়ন করতে হলে অর্থবছরের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’

গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, বিদেশি ঋণ কভিড মোকাবেলায় সরকারকে যথেষ্ট সহায়তা দিয়েছে। পর পর দুই বছর সাত বিলিয়ন ডলারের বেশি ফরেন এইড অবাক করার মতো। চলতি অর্থবছরেও সেই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। এই কঠিন সময়েও সরকারকে কোনো ধরনের অর্থসংকটে পড়তে হয়নি। উন্নয়নকাজ থেমে থাকেনি। টিকা কিনতে সমস্যা হয়নি।

ইআরডির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ৭১০ কোটি (৭.১ বিলিয়ন) ডলার ঋণ সহায়তা পেয়েছে বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিদেশি ঋণ আসে দেশে। ওই বছর ৭৩৮ কোটি (৭.৩৮ বিলিয়ন) ডলার ঋণ মিলেছিল। গত অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি ঋণ মিলেছে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে। সংস্থাটি ছাড় করে ২৭০ কোটি ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছাড় করে এডিবি, ১৭০ কোটি ডলার। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের তথ্য ঘেঁটে দেখা গেছে, ওই সময়ে বিশ্বব্যাংকের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি অর্থ ছাড় করেছে এডিবি। ইআরডি বলছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে বাংলাদেশে বিদেশি ঋণ ছাড়ের প্রবণতা বাড়তে থাকে। ওই বছরই এক লাফে অর্থছাড় ৩০০ থেকে ৬৩৭ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। এরপর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এসেছিল ৬৫৪ কোটি ডলার। তবে গত দুই বছর টানা ৭০০ কোটি ডলারের বেশি বিদেশি ঋণ পাওয়া গেছে। করোনা মহামারি থেকে উত্তরণে টিকাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য সরঞ্জাম কিনতে বহুজাতিক সংস্থা বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ অন্যান্য সহযোগী সংস্থা বাড়তি ঋণ দিচ্ছে।

তবে ঋণপ্রবাহের কমবেশিতে তেমন চিন্তার কারণ নেই বলে মন্তব্য করেছেন সানেমের গবেষণা পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা। তিনি বলেন, ‘বৈদেশিক ঋণ সহায়তা একেকবার একেক রকম হয়, এটাই স্বাভাবিক। তবে করোনার কারণে অর্থনীতিতে অনেক পরিবর্তন এসেছে। এর প্রভাব আমাদের ওপরও পড়েছে। তবে সহায়তা আগের চেয়ে বেড়েছে, এটা ভালো খবর। সেই সঙ্গে দেখতে হবে আমাদের অতি প্রয়োজনীয় যেসব প্রকল্প সেগুলো যেন টাকার অভাবে বাধাগ্রস্ত না হয়। উন্নয়নকাজের গতি যেন থেমে না যায়।



সাতদিনের সেরা