kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

উদ্যোগ

রংপুরে ‘রঙিন মাছের বাড়ি’

আদর রহমান, রংপুর অফিস   

২৮ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রংপুরে ‘রঙিন মাছের বাড়ি’

রংপুরে চেয়ারম্যান গলির বাড়িতে ২৫টি চৌবাচ্চায় চাষ হয় রঙিন মাছ। ছবি : কালের কণ্ঠ

উঠানজুড়ে অনেকগুলো চৌবাচ্চা। কৌতূহলী হয়ে কাছে গেলেই হতে হবে মুগ্ধ। কারণ চৌবাচ্চাগুলোতে ভাসছে লাল, হলুদসহ নানা বর্ণের বিচিত্র সব মাছ। বাজারে তো নয়ই, শখের রঙিন মাছের সব দোকানেও এত ধরনের মাছের দেখা মিলবে না।

বিজ্ঞাপন

এতগুলো চৌবাচ্চায় এমন নানা গড়ন আর বরনের মাছের খেলা দেখে জুড়িয়ে যাবে মন। আর তাই রংপুর নগরীর মেডিক্যাল পূর্ব গেটের চেয়ারম্যান গলিটিই এখন পরিচিতি পেয়েছে রঙিন মাছের বাড়ির গলি নামে।

বহু বর্ণের বিচিত্র মাছের এই সমারোহ ঘটিয়েছেন স্থানীয় উদ্যোক্তা মৃদুল রহমান। রংপুর নগরীর কাচারি বাজার জিরো পয়েন্ট থেকে তিন কিলোমিটার দূরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ। এর উল্টো দিকে চেয়ারম্যান গলি। গলির মুখের দিকেই মৃদুলের বাড়িটি। ‘রঙিন মাছের বাড়ি’ হিসেবেই এলাকাবাসীর কাছে চেনা। বাড়িটির মূল ফটকে বড় করে লেখা ‘কুকুর হইতে সাবধান’। এই সোজাসাপ্টা হুঁশিয়ারির পরও সাহস করে এগিয়ে মূল ফটক পেরোলেই চোখে পড়বে মাছে ভরা রিং আর চৌবাচ্চাগুলো।

মৃদুল রহমানের এই বর্ণাঢ্য সংগ্রহে রয়েছে কমেট, প্লাটি, কার্প, গোল্ডফিশ, সিলভার শার্ক, মলি, গাপ্পিসহ নানা প্রজাতির মাছ। শখে যাঁরা অ্যাকোয়ারিয়ামে মাছ পোষেন তাঁদের কাছে বেশ প্রিয় এ জাতগুলো। এখানে থাকা জাপানি কার্প মাছটি খেতেও নাকি বেশ সুস্বাদু। একজন ক্রেতা মাত্র প্রায় এক কেজির জাপানি কার্পটির দাম ২৬ হাজার টাকা হাঁকলেও তা বিক্রি করেননি বলে জানান মৃদুল।

অ্যাকোয়ারিয়ামে পোষা শৌখিন মাছের বাজার একসময় পুরোপুরি বিদেশনির্ভর ছিল। কিন্তু মৃদুলের মতো অধ্যবসায়ী উদ্যোক্তাদের চেষ্টায় ধীরে ধীরে দেশেই শক্ত মাটি খুঁজে পায় শখের মাছের ব্যবসা। সারা দেশের হাজারো উদ্যোক্তা এখন অ্যাকোয়ারিয়ামের মাছের অন্তত ৪০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করছে। মৃদুল বলেছেন, তিনি নিজেও দুটি ফেসবুক গ্রুপ খুলে সারা দেশে দুই হাজার শখের মাছের উদ্যোক্তা তৈরি করেছেন। তাঁর গ্রুপে ফলোয়ার আছে ২০ হাজার।

মৃদুল রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, তিনি ১৯৯১ সালে মেডিক্যাল কোচিং ব্যবসা শুরু করেন। এর পরের প্রায় দুই দশকে কম্পিউটার ব্যবসা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্পে চাকরি, এলজিইডিতে কম্পিউটার অপারেটর পদে অস্থায়ী চাকরিসহ নানা কিছু করেন। কিন্তু কোনো কিছুতেই মন বসেনি। কারণ মাথায় বরাবর ছিল নিজে ব্যতিক্রমধর্মী কিছু করার ভাবনা। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের চিন্তা থেকেই একসময় চাকরি ছেড়ে দেন। খোঁজখবর নিয়ে নেমে পড়েন রঙিন মাছ চাষে। সেটা ২০০৮ সালের কথা। শুরু করেছিলেন বিভিন্ন প্রজাতির ৩০টি কার্প মাছ দিয়ে। ইউটিউব ঘেঁটে রঙিন মাছ চাষ নিয়ে শিখতে থাকেন দিনরাত। এরপর আর তাঁকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দিনে দিনে বাড়তে থাকে তাঁর চাষ করা মাছের প্রজাতির সংখ্যা। শখের বশে শুরু করলেও একসময় বাণ্যিজিকভাবে রঙিন মাছ চাষ করতে থাকেন। মৃদুল রহমান জানান, তাঁর চৌবাচ্চাগুলোতে এখন রয়েছে অন্তত হাজার ধরনের রঙিন মাছ। ১০ টাকা থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হয় একেকটি মাছ। সঠিকভাবে রঙিন মাছের চাষ ও বিপণন করতে পারলে ভালো আয় করা সম্ভব বলেও জানান এই সফল উদ্যোক্তা।

 



সাতদিনের সেরা