kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

কেনাকাটায় আটকে গেছে জনশুমারির কাজ

তামজিদ হাসান তুরাগ   

২৮ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কেনাকাটায় আটকে গেছে জনশুমারির কাজ

ট্যাব জটিলতায় ফের পিছিয়ে যাচ্ছে ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২১’। চলতি বছরের জানুয়ারিতে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখনো মাঠ পর্যায়ের কাজই শুরু হয়নি।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে এ শুমারি শুরু হওয়া নির্ভর করছে ট্যাবলেট কম্পিউটার তথা ট্যাব হাতে পাওয়ার ওপর। কিন্তু ক্রয় প্রস্তাবে ত্রুটির কারণে এখনো ট্যাব কেনার অনুমতি দেয়নি সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বিজ্ঞাপন

বিবিএস জানিয়েছে, চলতি বছরের মধ্যেই ষষ্ঠবারের এই শুমারি শুরুর আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ট্যাব কেনাকে কেন্দ্র করে জটিলতার সুরাহা না হওয়ায় অন্তত বছরখানেক পিছিয়ে যাবে গণনার কাজ।

গত ২৩ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে জনশুমারি পরিচালনা করার কথা ছিল। তবে করোনার কারণে পিছিয়ে এ কাজ ২৫ থেকে ৩১ অক্টোবর করার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউ তীব্র হওয়ায় ও ট্যাব কিনতে দেরি হওয়ায় নতুন করে এ বছরের ২৪ থেকে ৩০ ডিসেম্বর জনশুমারি করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রস্তাব করে বিবিএস। কিন্তু সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) ক্রয় কমিটির বৈঠক না হওয়ায় আবারও পিছিয়ে যাচ্ছে জনশুমারির কাজ।

বিবিএস এবারই প্রথম ডিজিটাল পদ্ধতিতে ট্যাবের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে গণনা করার পদক্ষেপ নিয়েছিল। আর এ জন্য তারা তিন লাখ ৯৫ হাজার ৭২টি ট্যাব কেনার প্রস্তাব করে।

এর আগে গত ২৫ আগস্ট ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার কমিটিতে জনশুমারি ও গৃহগণনা প্রকল্পের আওতায় ট্যাব কেনার প্রস্তাব ওঠে। ৫৪৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকায় ফেয়ার ইলেকট্রনিকস লিমিটেডের কাছ থেকে তিন লাখ ৯৫ হাজারটি ট্যাব কেনার প্রস্তাব করেছিল বিবিএস। কিন্তু মন্ত্রিসভা কমিটি প্রস্তাব অনুমোদন না করে ফেরত পাঠায়। ওই দিন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শামসুল আরেফিন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘ট্যাব কেনার বিষয়ে কিছু ত্রুটি ধরা পড়েছে। এ জন্য এটি বাতিল করে পুনরায় দরপত্র ডাকার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ’

‘জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২১’ প্রকল্পের প্রস্তুতির বিষয়ের পরিচালক কবির উদ্দিন আহাম্মদ সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের জনশুমারি করার জন্য সব প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। ট্যাব কিনতে নতুন টেন্ডারের বাছাই চলছে। ক্রয় কমিটিতে ট্যাব কেনার অনুমোদন পেলেই আমরা জনশুমারির গণনাকারীদের প্রশিক্ষণ শেষে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে পারব। ’

তবে বিবিএস মহাপরিচালক তাজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ বছর কোনোভাবেই জনশুমারির কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তার অন্যতম কারণ আমরা এখন পর্যন্ত ট্যাব কিনতে পারিনি। তবে বিবিএস পুরোপুরি প্রস্তুত। ’

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি, উৎপাদন, শিক্ষিত মানুষ, দক্ষ শ্রমিক—সব কিছু জানার জন্য জনশুমারি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব কাজটি করে ফেলা উচিত।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কোনো দেশের প্রেক্ষাপটে জনশুমারি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, আমদানি-রপ্তানির হিসাব, দক্ষ শ্রমিক সব কিছুর তথ্য থাকে না; যা জানা বর্তমান প্রেক্ষাপটে খুবই দরকার। ’ তিনি আরো বলেন, ‘যেহেতু এটি একটি বৃহৎ কাজ, তাই বিলম্ব না করে প্রস্তুতি যত দ্রুত সম্ভব করে ফেলা উচিত। ’

জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হাতে আর এক মাস সময় বাকি, কোনোভাবেই এই এক মাসের মধ্যে বৃহৎ এই কাজ শুরু করা সম্ভব নয়। এখনো আমরা ট্যাবই কিনতে পারলাম না, অনেক কাজ বাকি। হয়তো বা জানুয়ারি অথবা ফেব্রুয়ারির দিকে এই কাজ আমরা করতে পারব। ’

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২১-এর মাধ্যমে দেশের খানার সংখ্যা, খানায় বসবাসকারী সদস্যের সংখ্যা, আর্থসামাজিক ও জনতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য নিরূপণ করা হবে। এসব তথ্য দেশের সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন, নীতিনির্ধারণ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম জনশুমারি হয় ১৯৭৪ সালে। পরে ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১ ও ২০১১ সালে জনশুমারি পরিচালিত হয়।



সাতদিনের সেরা