kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ মাঘ ১৪২৮। ২৫ জানুয়ারি ২০২২। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ইলিশের দাম নাগালের বাইরে

► স্বাদ কমাতেও আগ্রহ কম ক্রেতার
► এক থেকে দেড় কেজি ওজনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে এক হাজার ৩০০ টাকা

রোকন মাহমুদ   

২৭ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইলিশের দাম নাগালের বাইরে

ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম সাধারণের নাগালের বাইরে। গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজার থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

বর্ষা শেষে অন্যান্য মাছের দাম কমলেও ইলিশের গতি উল্টো দিকে। ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম উঠে গেছে সাধারণের নাগালের বাইরে। আবার এই সময়ে মাছটির স্বাদ কমে আসায় ক্রেতার আগ্রহও কমেছে।

ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকরা বলছেন, নদীতে পানি কমে যাওয়ায় সাগর থেকে মাছ তেমন আসছে না।

বিজ্ঞাপন

আর সমুদ্রেও ডালা নামে পরিচিত ভাটা মৌসুম চলায় মাছ তেমন ধরা পড়ছে না। এতে ইলিশের সরবরাহ কমেছে। অন্যদিকে ডিম ছাড়ার পর এই সময়ের ইলিশে স্বাদ কম। তাই মানুষ আগের মতো আগ্রহ নিয়ে ইলিশ খাচ্ছে না।

রাজধানীর বাজার ঘুরে ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা যায়, সপ্তাহখানেক আগের তুলনায় ইলিশের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ১০০ টাকা পর্যন্ত। গত সপ্তাহে ইলিশ মাছ বিক্রি হয়েছে ৫০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে। চলতি সপ্তাহে প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৬০০ থেকে এক হাজার ৩০০ টাকায় উঠেছে। বাজারের বেশির ভাগ ইলিশের ওজনই এক কেজির নিচে। এক থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে এক হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে।

গতকাল যাত্রাবাড়ী মাছের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি ১০ জন মাছ বিক্রেতার একজনের কাছে ইলিশ রয়েছে। তাঁরা অন্য মাছের পাশাপাশি ইলিশ বিক্রি করছেন। বিক্রেতারা বলেন, ইলিশ মাছ এখন আর মানুষ তেমন খায় না। এক দিকে দাম বেশি অন্য দিকে স্বাদ কম। তাই ক্রেতার আগ্রহ নেই। যে পরিমাণ মাছ তাঁরা আনেন, দিন শেষে সেই পরিমাণ বিক্রি করতে কষ্ট হয়।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাবে, গত বছর এই সময় ইলিশের কেজি ছিল ৪০০ থেকে ৭৫০ টাকা। সেই হিসাবে দাম বেড়েছে ৬৫ শতাংশ।

জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারের আড়তদার ঢাকা নড়াইল ফিশ মার্চেন্টের মালিক জিলকদ গাজী বলেন, এখন কারওয়ান বাজারে দিনে সর্বোচ্চ ২০ টন ইলিশ আসে। অথচ আগে প্রতিদিন ৮০ টনের বেশি ইলিশ বিক্রি হতো। তিনি বলেন, বর্তমানে যা আসছে তা দিয়েই বাজারের চাহিদা মিটে যায়। দাম কিছুটা বেশি। কারণ যাঁরা ইলিশ আনেন তাঁরা কিছুটা ঝুঁকি নিয়ে আনেন। তাই দামও বেশি রাখেন।

গতকাল যাত্রাবাড়ী মাছ বাজারের সামনে কথা হয় আলিমুজ্জামন নামের একজন ক্রেতার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন আগে আমি একটি বড় আকারের ইলিশ নিয়েছিলাম। দামও কিছুটা বেশি ছিল। কিন্তু এই মাছ খেয়ে আগের মতো তেমন স্বাদ পাইনি। তাই আর ইলিশে আগ্রহ নেই তেমন। তা ছাড়া দাম এত বেশি যে আমাদের মতো মধ্যবিত্ত ক্রেতার পক্ষে মাঝেমধ্যে কেনাও সম্ভব নয়। ’

প্রজনন মৌসুমে ২২ দিন নিষেধাজ্ঞার পর গত ২৫ অক্টোবর আবার শুরু হয়েছে ইলিশ মাছ ধরা, কিন্তু জেলেদের জালে এই সময়টায় তেমন মাছ ধরা পড়ছে না বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইলিশের স্বাদ বাড়ে চর্বিতে। ইলিশ মাছের গায়ে যত চর্বি থাকবে তত স্বাদ হবে। এখনকার ইলিশের গায়ে তেমন চর্বি থাকে না, ফলে স্বাদও কম হয়। এর দুটি কারণ। একটি হলো প্রজনন মৌসুমে ডিম পাড়া শেষে ইলিশের গায়ে চর্বি কমে যায়। এ ছাড়া বর্ষা মৌসুমে সাগর থেকে নদীতে উঠে আসতে যে শক্তি ব্যয় হয় তাতেও চর্বি বাড়ে। মৌসুমে নদীর পানির স্রোত থাকে বেশি, তাতেও ইলিশের স্বাদ বাড়ে। এখন নদ-নদীর পানি কমে আসায় মাছ উঠে আসছে কম। এতে নদীতে ইলিশ মিলছে কম। আর সাগরেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ মাছ মিলছে না।

জানতে চাইলে সামুদ্রিক মৎস্য জরিপ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শরিফ উদ্দিন বলেন, ইলিশ মাছ এখন অনেকটাই কম পাওয়া যাচ্ছে আর স্বাদও কম। সাগরে ভাটা মৌসুম চলছে, যা মাছ আহরণকারীদের কাছে ডালা বলে পরিচিত। এই ডালার কারণেই মাছ কম ধরা পড়ছে। আগামী পূর্ণিমায় বাড়তে পারে।

গত অর্থবছরে দেশে পাঁচ লাখ ৫০ হাজার টন ইলিশ আহরিত হয়েছে, যা দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে ছয় লাখ টন মাছ আহরণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।

 



সাতদিনের সেরা