kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

চিকিৎসায় থ্রিডি প্রিন্ট

প্রথম থ্রিডি প্রিন্টের চোখ!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



প্রথম থ্রিডি প্রিন্টের চোখ!

থ্রিডি প্রিন্ট প্রযুক্তির একটি কৃত্রিম চোখ (বাঁয়ে) এবং লন্ডনের বাসিন্দা স্টিভ ভার্জ। ছবি : সংগৃহীত

আশা করছি, আসন্ন ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল আমাদের এই নতুন প্রযুক্তির গুরুত্ব সম্পর্কে জোরালো প্রমাণ জোগাবে। এটি রোগীদের অভিজ্ঞতা কতটা পাল্টে দেবে, জানা যাবে তা-ও

 

থ্রিডি প্রিন্ট প্রযুক্তিতে তৈরি বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম চোখ পাচ্ছেন যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের হ্যাকনির বাসিন্দা স্টিভ ভার্জ। লন্ডনের  মুরফিল্ডস আই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ভার্জ। সেখানেই গতকাল তাঁর শরীরে কৃত্রিম চোখটি বসানোর কথা।

চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রত্যাশা, প্রচলিত অ্যাক্রিলিক কৃত্রিম চোখের চেয়ে থ্রিডি প্রিন্ট চোখটি আরো বাস্তবসম্মত হবে। এটি রোগীদের শরীরে কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের প্রয়োজনীয় সময় ছয় সপ্তাহ থেকে অর্ধেক কমিয়ে তিন সপ্তাহে আনবে।

বহুদিন ধরে একটি ভালো, আসলের মতো দেখতে কৃত্রিম চোখের অপেক্ষা করছিলেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী স্টিভ ভার্জ। অপেক্ষা চলছিল ২০ বছর বয়স থেকে। বিষয়টি নিয়ে সব সময় অস্বস্তিতে ভুগেছেন তিনি। বয়স ৪০-এর ঘরে এসে তাঁর আশা পূরণ হতে চলেছে।

‘বাসা থেকে বাইরে বের হওয়ার সময় আমি মাঝেমধ্যে আয়নার দিকে ভালো করে তাকাই। যা দেখি তা আমার পছন্দ হয়নি কখনোই,’ বলেন স্টিভ ভার্জ। এই নতুন চোখটি দেখতে দারুণ। থ্রিডি ডিজিটাল প্রিন্টিং প্রযুক্তিতে তৈরি বলে এর মান ক্রমেই আরো ভালো হবে।

প্রচলিত কৃত্রিম চোখের ক্ষেত্রে রোগীকে চোখের গর্তটির মাপের ছাঁচ তৈরির জন্য দুই ঘণ্টার এক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এরপর আসে কৃত্রিম চোখটি রং করার পালা।

মুরফিল্ডস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, থ্রিডি প্রিন্টেড কৃত্রিম চোখের ক্ষেত্রে এটি তৈরির প্রক্রিয়া দু-তিন সপ্তাহ কমিয়ে আনা যাবে। আর চক্ষু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে প্রাথমিক সাক্ষাৎ ও যাচাইয়ে লাগবে মাত্র আধাঘণ্টা সময়।

চোখের চিকিৎসার জন্য সুপরিচিত লন্ডনের মুরফিল্ডস চক্ষু হাসপাতাল ১৯৪৮ সাল থেকে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস) কর্তৃপক্ষের আওতাধীন। হাসপাতালটির পরামর্শক চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মনদীপ সাগু বলেন, সম্পূর্ণ ডিজিটাল কৃত্রিম চোখের সাফল্যের সম্ভাবনায় তাঁদের কর্মীরা রোমাঞ্চিত।

তিনি বলেন, ‘আশা করছি, আসন্ন ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল আমাদের এই নতুন প্রযুক্তির গুরুত্ব সম্পর্কে জোরালো প্রমাণ জোগাবে। এটি রোগীদের অভিজ্ঞতা কতটা পাল্টে দেবে, জানা যাবে তা-ও।’

অধ্যাপক মনদীপ সাগু আরো বলেন, সময় কম লাগায় কৃত্রিম চোখ সংযোজনের জন্য অপেক্ষার তালিকাটিও ছোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্র : বিবিসি।



সাতদিনের সেরা