kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

সবিশেষ

আকারে খুদে কাজে বিশাল ‘কিউবস্যাট’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৫ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আকারে খুদে কাজে বিশাল ‘কিউবস্যাট’

‘কিউবস্যাট’ হচ্ছে জুতার বাক্সের আকারের এক ধরনের পুঁচকে স্যাটেলাইট। শিক্ষা উপকরণ হিসেবে ব্যবহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অধ্যাপক বব টুইগস ১৯৯৯ সালে এ স্যাটেলাইট উদ্ভাবন করেন। প্রচলিত স্যাটেলাইটের তুলনায় এটি আকৃতিতে অনেক ছোট হলেও ক্ষমতা  মোটেই কম নয়। নানা ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে সক্ষম ‘কিউবস্যাট’। পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরছে এ রকম শত শত স্যাটেলাইট। এদের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো—

বন উজাড় বন্ধে সহায়তা

সারা বিশ্বের বন উজাড়ের তথ্য সংগ্রহ করতে নরওয়ের সরকার স্যাটেলাইট কম্পানি প্লানেটের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। এই কম্পানির ১৮০টি কিউবস্যাট নিরন্তর পৃথিবীর চার পাশে ঘুরে ছবি তুলে যাচ্ছে। প্লানেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) উইল মার্শাল বলেন, বিশ্বের ৬৪টি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশের বন উজাড়ের উপাত্ত সংগ্রহের জন্য নরওয়ের সরকার অর্থায়ন করে। তিনি আরো বলেন, ‘ওই সব দেশের বন মন্ত্রণালয়কে আমরা জানাই যে, কোথায় বন উজাড় হচ্ছে। দেশগুলো বন ধ্বংস বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয় কি না তা দেখা হয়। নরওয়ে সরকারের তহবিল প্রদানের বিষয়টি এর ওপর নির্ভরশীল।’

বিপন্ন প্রাণী শনাক্ত করা

চলতি বছরের শুরুতে কেনিয়া ও ইতালির একদল শিক্ষার্থী ওয়াইল্ডট্র্যাককিউব-সিম্বা নামের একটি কিউবস্যাট উৎক্ষপণ  করেন। কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে প্রকৌশল বিষয়ের শিক্ষার্থী ড্যানিয়েল কিয়ারি বলেন, ‘মানুষ ও বন্য প্রাণীর মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। যেমন, হাতি অনেক সময় কৃষকের শস্যক্ষেতে হানা দেয়। কখনো কখনো মানুষকে মেরেও ফেলে। তাই আমরা বন্য প্রাণীর অবস্থান সম্পর্কে আগাম তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে চাই।’ কিয়ারি জানান, আগামী বছর নাগাদ বন্য

প্রাণীর শরীরে রেডিওট্যাগ লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁদের। এর মাধ্যমে হৃদস্পন্দনের হার জানা যাবে বলে অবস্থান বোঝার পাশাপাশি প্রাণীটি চোরাশিকারির হাতে প্রাণ দিয়েছে কি না তা-ও জানা যাবে।

একালের দাসপ্রথা উন্মোচন

যুক্তরাজ্যের নটিংহাম ইউনিভার্সিটির ‘রাইটস ল্যাব’ সারা বিশ্বের কোন কোন স্থানে মানুষকে জবরদস্তিমূলক শ্রমে নিযুক্ত করা হচ্ছে, তা অনুসন্ধানে কিউবস্যাট ব্যবহার করে থাকে। সম্প্রতি গ্রিসে ক্ষেত থেকে ফল সংগ্রহকারী বাংলাদেশিদের একটি অস্থায়ী ক্যাম্পের ছবি তুলেছে তাদের একটি কিউবস্যাট। এই শিল্পে অনেক সময় কর্মীদের প্রতি শ্রম আইনবিরোধী ও অমানবিক আচরণ করা হয়ে থাকে।

মহাকাশের বর্জ্য অপসারণ 

পৃথিবীর কাছে ও দূরের কক্ষপথসহ মহাকাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে হাজারো বর্জ্য। এগুলো মূলত পরিত্যক্ত স্যাটেলাইট ও মহাকাশযানের ধ্বংসাবশেষ। এসব বর্জ্যের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলায় ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযান বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। ভাসমান বর্জ্যগুলো শনাক্ত করতে এই খুদে স্যাটেলাইট ব্যবহার করা হচ্ছে। এগুলোকেই বর্জ্য হিসেবে ধরে নিয়ে প্রচণ্ড গতিতে ছুটে চলা সত্যিকারের বর্জ্যগুলো কিভাবে পাকড়াও করা যায় তার মহড়া হচ্ছে। ২০১৮ সালে একটি বড় স্যাটেলাইট দুটি কিউবস্যাটকে আকাশে ছেড়ে হারপুন আর জাল দিয়ে ধরে ফেলতেও সক্ষম হয়।

বায়ুবিদ্যুৎ টারবাইনের ত্রুটি ধরতে

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বায়ুবিদ্যুৎ একটি বড় উৎস। সাধারণত বায়ুবিদ্যুতের টারবাইন প্রতিবছর দুবার পরীক্ষা করা হয়। এর পাখাগুলোর কোনো ক্ষতি হলে তা অনেক সময় শনাক্ত হতে অনেক দিন লেগে যায়। কিউবস্যাটের সেন্সর প্রযুক্তি পাখা বা অন্যান্য অংশের ত্রুটি খুঁজে বের করে।

দূর মহাকাশে অনুসন্ধান

২০১৮ সালে নাসা সর্বপ্রথম দূর মহাকাশে একটি কিউবস্যাট পাঠায়। ম্যাক্রো-‘এ’ ও ‘বি’ নামের ওই দুটি কিউবস্যাট মঙ্গলে অবতরণ করা ‘ইনসাইট’ ল্যান্ডার থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করে পৃথিবীতে পাঠায়। আগামী বছর নাসা আরটেমিস-১ রকেট দিয়ে এ রকম আরো ১০টি কিউবস্যাট মহাকাশে পাঠাবে। জীবিত প্রাণীর ওপর দূর মহাকাশের বিকিরণের প্রভাব ও চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সম্ভাব্য পানির অস্তিত্ব পরীক্ষা করতে এসব কিউবস্যাট পাঠানো হবে। সূত্র : বিবিসি।



সাতদিনের সেরা