kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

দেশে হাজারে ৯ জন মৃগী রোগে আক্রান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দেশে হাজারে ৯ জন মৃগী রোগে আক্রান্ত

দেশে এক হাজার মানুষের মধ্যে ৮.৪ জন মৃগী রোগে আক্রান্ত। এই হিসাবে মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৪ লাখ মানুষ এই রোগে ভুগছে। বিশ্বে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। সচেতনতার অভাব, পারিবারিক ও সামাজিক কুসংস্কার, সঠিক চিকিৎসার অভাবে মৃগী রোগীরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারছে না। এই রোগে আক্রান্ত ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ রোগী সঠিক চিকিৎসাও পায় না। আর প্রায় ৪০ শতাংশ মৃগী রোগীর বয়স ১৫ বছরের নিচে। গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে দেশে এই প্রথম ‘মৃগী রোগের সর্বস্বীকৃত জাতীয় চিকিৎসা নির্দেশিকা’ প্রকাশনা উৎসবে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সানোফির লজিস্টিক ও বৈজ্ঞানিক সহায়তায় প্রকাশনা উৎসবের আয়োজন করে সোসাইটি অব নিউরোলজিস্টস অব বাংলাদেশ (এসএনবি)।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। সভাপতিত্ব করেন সোসাইটি অব নিউরোলজিস্টস অব বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের চিকিৎসা শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আলী নূর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শরফুদ্দিন আহমেদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ডিজিএইচএসের  মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম, বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের সভাপতি অধ্যাপক ডা. কাজী দ্বীন মোহাম্মদ। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন সোসাইটি অব নিউরোলজিস্টস অব বাংলাদেশর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. আবু নাসির রিজভী।

অনুষ্ঠানে নিজ সন্তানের মৃগী রোগের বিপন্নতার চিত্র তুলে ধরেন নাছিমা বেগম নামের একজন মা। সন্তান নাসিফের ছোটবেলা থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন  সময়ের কষ্টের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মৃগী দেখা দিলে কিছু বুঝে ওঠার আগেই মাথাটা যখন সামনের যেকোনো বস্তুর সঙ্গে বাড়ি মারতে থাকত, নিজের বুকটা খানখান হয়ে যেত। আমার সামনে আঘাত করতে থাকলেও কিছু করার থাকত না। খুব দ্রুত ঘটনা ঘটে যেত। এমন বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারকে ভালো কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানাই।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘অন্য রোগীদের নিয়ে সরকার যেমন কাজ করছে, মৃগী রোগীদের জন্যও করছে। এ ধরনের রোগে যারা ভোগে তাদের জন্য নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউট নির্মাণ করা হয়েছে; নাক, কান, গলা ইনস্টিটিউট করা হয়েছে। ইপিলিপসি রোগীদের জন্যও আলাদা ইনস্টিটিউট করা দরকার।’

তিনি বলেন, ‘মৃগী রোগ নিয়ে একসময় গ্রামে অনেক ভুল ধারণা ছিল। বলা হতো ভূতে ধরেছে বা জিনে আছর করেছে। এই ভুল ধারণা থেকে মানুষ বের হয়ে আসছে। সোসাইটি অব নিউরোলজিস্টস অব বাংলাদেশ এ সমস্যাগুলোর সমাধানে কাজ করছে, যা প্রশংসার দাবি রাখে। নির্দেশিকাটি সামনে আনার জন্য এসএনবি ও সহযোগীদের অভিনন্দন জানাই।’

অধ্যাপক ড. মো. শরফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দেশে মৃগী রোগের যথোপযুক্ত চিকিৎসা সহজলভ্য করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন। ডাক্তার, সহায়ক কর্মীদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম এবং অন্য সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, যাতে মৃগী রোগীরা সর্বোত্তম সেবা পায়। যেকোনো রোগ সম্পর্কেই পারিবারিক কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

মো. আলী নূর বলেন, ‘সঠিক শিক্ষা ও চিকিৎসা এই রোগের ব্যবস্থাপনায় মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। মন্ত্রণালয় থেকে আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, চিকিৎসক, পরিচর্যাকারী, যাঁরা মৃগী রোগীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কাজ করছেন, তাঁদের জন্য সঠিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হবে।’

ডা. আবু নাসির রিজভী বলেন, সোসাইটি অব নিউরোলজিস্টস অব বাংলাদেশ মৃগী রোগ প্রতিরোধে অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছে। মৃগী রোগের সর্বস্বীকৃত জাতীয় চিকিৎসা নির্দেশিকা প্রতিষ্ঠানটির অনেক উদ্যোগের একটি। দেশজুড়ে নির্দেশিকাটি সফল করতে সব অংশীজনের সমর্থন প্রয়োজন।

সানোফির প্রাইমারি কেয়ার বিভাগের মার্কেটিংপ্রধান সুমন মহসিনের ধন্যবাদ জানানোর মাধ্যমে শেষ হয় প্রকাশনা অনুষ্ঠানটি। 

 



সাতদিনের সেরা