kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

বহিষ্কারাদেশ তুলে নেওয়ার দাবিতে মাঠে দুই পক্ষ

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

২৫ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বহিষ্কারাদেশ তুলে নেওয়ার দাবিতে মাঠে দুই পক্ষ

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) ছাত্রলীগের দুই পক্ষের ৩১ জনকে শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বহিষ্কারের পর আগামী শনিবার ক্যাম্পাস খোলার আগেই নতুন সংকট দেখা দিয়েছে। ওই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে মাঠে নেমেছে সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠনটির দুই পক্ষ। তবে ক্যাম্পাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে কলেজ প্রশাসন।

দফায় দফায় সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে এর আগে গত ৩ মার্চ ক্যাম্পাসে সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করেছিল কলেজ কর্তৃপক্ষ। তখন থেকে ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও এবার অজানা শঙ্কার মধ্যেই খুলছে চমেক।

বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কৃত ওই ৩১ জনের মধ্যে ২৩ জন শিক্ষা উপমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। বাকি আটজন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী।

বহিষ্কার হওয়া উভয় পক্ষের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে তাঁরা একাডেমিক কাউন্সিল বরাবর চিঠি দেবেন। প্রত্যাহার না হলে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও নেবেন নেতারা।

এদিকে গতকাল বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে চমেক অধ্যক্ষ ডা. সাহেনা আক্তার এবং ছাত্রাবাস কমিটির চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মিজানুর রহমান চৌধুরীর পদত্যাগ দাবি করেছে ছাত্রলীগের শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেলের পক্ষটি।

এ সময় তারা বলে, গত ২৯ ও ৩০ অক্টোবর ছাত্রাবাসে সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন অধ্যক্ষ। মাহাদি আকিবের ওপর হামলাকারীদের সিসিটিভি ফুটেজে চিহ্নিত করা গেলেও অধ্যক্ষ হামলাকারীদের (ছাত্রলীগের অন্য পক্ষ) বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি।

অন্যদিকে সাবেক মেয়র নাছির উদ্দীনের অনুসারী পক্ষের আজ বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার চমেকের একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভায় একাধিক শিক্ষক ক্যাম্পাসে যেকোনো সময় বড় ধরনের অন্তর্ঘাতের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, কলেজের সার্বিক পরিস্থিতি এখনো ভলো নয়। ক্যাম্পাসে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তদন্ত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন সময় সংঘাতে জড়ানোর ঘটনায় অভিযুক্ত ৩১ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিতি চমেক ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ডা. আল আমিন ইসলাম বলেন, ‘আমাদের আটজনের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। যারা ঘটনায় জড়িত তাদের অনেকেই শাস্তির বাইরে। আমরা চাই, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে যারাই দায়ী তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আমরা বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমাদের অবস্থান তুলে ধরব।

ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি নিয়ে আমরা সন্দিহান। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না হলে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারি।’

শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবে পরিচিতি চমেকের ছাত্রলীগ নেতা কে এম তানভীর বলেন, ‘আমাদের ২৩ জনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য আমরা একাডেমিক কাউন্সিলকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানাব। তা না হলে আমরা আইনিভাবে মোকাবেলা করার পাশাপাশি প্রতিবাদ কর্মসূচিও পালন করব।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলেজের জ্যেষ্ঠ এক অধ্যাপক জানান, যাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তাঁরা যদি নিজেদের অপরাধ বুঝতে পেরে ক্ষমা চেয়ে আবেদন করেন, তাহলে একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকে শাস্তির ব্যাপারে পুনর্বিবেচনা হতে পারে। সবাই একমত হলে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারও হতে পারে।

চমেক অধ্যক্ষ ডা. সাহেনা আক্তার বলেন, ‘করোনার কারণে চমেক শিক্ষার্থীদেরও শিক্ষাজীবনের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এখন সব মেডিক্যাল কলেজে শ্রেণি কার্যক্রম চলছে। তবে সংঘাতের কারণে প্রায় চার সপ্তাহ চমেক বন্ধ। সাধারণ শিক্ষার্থীসহ সবার কথা চিন্তা করে শনিবার থেকে কলেজ খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন তদন্ত কমিটি ও ডিসিপ্লিনারি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কলেজ খোলার পর কোনো বিশৃঙ্খলার চেষ্টা হলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।’

সর্বশেষ গত ২৯ ও ৩০ অক্টোবর কলেজ এলাকায় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনার পর ৩১ অক্টোবর থেকে কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।

 



সাতদিনের সেরা