kalerkantho

শনিবার । ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৪ ডিসেম্বর ২০২১। ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

আরো দুই মৃত্যু, আহত ৫০

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৫ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



আরো দুই মৃত্যু, আহত ৫০

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর ভাঙামোড় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দুই সদস্য (মেম্বার) পদপ্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে গত সোমবার রাতে সংঘর্ষে আহত ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়িতে এসে তাঁর মৃত্যু হয়। এর প্রতিবাদে গতকাল বুধবার তাঁর স্বজন ও এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ করে। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকের ঝুলন্ত লাশ মঙ্গলবার সকালে উদ্ধার করে স্বজনরা। পরিবারের অভিযোগ, তৃতীয় ধাপের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাঁকে হত্যা করা হতে পারে। এ দুজনকে নিয়ে চার ধাপের ইউপি নির্বাচন ঘিরে সহিংসতায় ৫৪ জনের মৃত্যু হলো।

এ ছাড়া ছয় জেলায় নির্বাচনী সহিংসতায় ৫০ জন আহত হয়েছে। দুই জেলায় দুজনকে গ্রেপ্তার ও ১৩৫ জনের নামে মামলা করা হয়েছে।

সড়ক অবরোধ : ফুলবাড়ী উপজেলার ভাঙামোড় ইউনিয়নে নিহত বাবুল মিয়া (৪০) রাবাইতারি গ্রামের মৃত শহিদুল ইসলামের

ছেলে। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় বটতলা এলাকায় ফুলবাড়ী-নাগেশ্বরী সড়ক সকাল ১০টায় অবরোধ করে প্রতিবাদকারীরা। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিমল চাকমা, নাগেশ্বরী সার্কেলের এএসপি সুমন রেজা ও ফুলবাড়ী থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে দুই ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এরপর মরদেহ ফুলবাড়ী থানায় নেওয়া হয়। থানার ওসি রাজীব কুমার রায় জানান, নির্বাচনী সহিংসতায় বাবুল মিয়ার মৃত্যু হয়েছে কি না তা তদন্ত করে নিশ্চিত হতে মরদেহ কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠানো হচ্ছে।

৩ নম্বর ওয়ার্ডে ফ্যান প্রতীকের প্রার্থী মুকুল মিয়ার ও তালা প্রতীকের প্রার্থী শাহা আলমের সমর্থকের মধ্যে সংঘর্ষটি হয়।

মুন্সীগঞ্জে মৃত্যু, গুলিবর্ষণের ঘটনায় মামলা : মুন্সীগঞ্জের চরকেওয়ার ইউনিয়নে মৃত আব্দুল সাত্তার (৪৮) নলবুনিয়াকান্দি গ্রামের সুরুজ সরকারের ছেলে। মঙ্গলবার সকালে নলবুনিয়াকান্দির একটি বাগানের গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর লাশ পাওয়া যায়। রবিবার সন্ধ্যা থেকে  তিনি নিখোঁজ ছিলেন বলে পরিবার

জানিয়েছে। আব্দুল সাত্তারের স্ত্রী শিউলী বেগম বলেন, ‘আসন্ন ইউপি নির্বাচনে আমার স্বামী টিউবওয়েল মার্কার মেম্বার প্রার্থী ইমরান ও আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র চেযারম্যান প্রার্থীকে সমর্থন করে আসছিল। এসব কারণে কয়েক দিন ধরে প্রতিপক্ষ মেম্বার পদপ্রার্থী তাকে তাদের দলে কাজ করতে চাপ দিচ্ছিলেন। একই এলাকার বজলুর রহমান আপেল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।’ তাঁর অভিযোগ, আব্দুল সাত্তারকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার পর রশি দিয়ে ছোট আমগাছে বেঁধে রাখা হয়। মুন্সীগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাজিব খান জানান, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি।

এদিকে গত রবিবার রাতে চরকেওয়ারে দুই চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। খাসকান্দি গ্রামের মেম্বার পদপ্রার্থী নজরুল হাওলাদার মামলাটি করেন। এতে ৬৬ জনের নাম উল্লেখসহ আরো ২০-২৫ জন অচেনা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। ওসি বলেন, আব্দুল হকের লাশের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ জানা গেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নেত্রকোনায় প্রচারে হামলা : নেত্রকোনার দুর্গাপুরের বিরিশিরি ইউনিয়নের হাড়িয়াউন্দ এলাকায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজিবুর রহমান ফকিরের নির্বাচনী প্রচারে হামলা ও মাইক ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে নৌকার প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে। হামলায় আহত মেহেদী হাসান, আকাশ, বিপুল ফকির ও আলামিনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

সংঘর্ষে আহত ২০ : গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রেজওয়ানুর রহমান মুন্সি ও বিদ্রোহী প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলামের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়াধাওয়িতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে ১০টি দোকান। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর মহিমাগঞ্জের বটতলায় নির্বাচনী অফিস করা নিয়ে ঘটনাটি ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মোস্তাফিজার রহমান জানান, এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। তদন্ত করা হচ্ছে।

নাটোরে হামলায় আহত ৫ : নাটোরের বাগাতীপাড়ার ফাগুয়ার দিয়ার ইউপি নির্বাচনে প্রচার করতে গিয়ে নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের সমর্থকদের হামলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম লেনিনের পাঁচ কর্মী-সমর্থক আহত হন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কলাবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে দুজনকে নাটোর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত বৃদ্ধ শামসুল হুদা বলেন, ‘হঠাৎ পেছন থেকে হামলা করে। আমরা দৌড়ে প্রাণে বেঁচে আসি। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।’ বাগাতিপাড়া থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম জানান, হামলার ঘটনা ঘটেনি। দুপক্ষ প্রচার চালাতে গিয়ে মুখোমুখি হয়েছিল। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

চাটমোহরে আহত ২০ : পাবনার চাটমোহরের গুনাইগাছা, হরিপুর ও পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নে পৃথক নির্বাচনী সহিংসতায় স্বতন্ত্র এক চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। ভাঙচুর করা হয় প্রতিপক্ষের নির্বাচনী অফিস ও একাধিক মোটরসাইকেল। মঙ্গলবার রাতে নৌকার প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণসহ তিনজনকে আটক ও দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করে। চাটমোহর থানার ওসি মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, এলাকায় পুলিশ রয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

বোমা বিস্ফোরণ : মাদারীপুর সদরের কালিকাপুর ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচার মাইক ও ভ্যানকে কেন্দ্র করে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে কেউ আহত না হলেও দুমড়েমুচড়ে গেছে মাইক ও ভ্যানগাড়িটি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলাবাজার কাঠেরপুল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঘোড়া প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী এজাজুর রহমান আকন (বর্তমান চেয়ারম্যান) অভিযোগ করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আবু তালেব বেপারীর লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে আবু তালেব বেপারী (আনারস প্রতীক) অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত জেনে তাঁর কর্মী-সমর্থকদের দিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়ে মিথ্যা অভিযোগে তাঁকে (আবু তালেব) ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন। মাদারীপুর সদর থানার ওসি কামরুল ইসলাম মিঞা বলেন, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার : কুড়িগ্রামের উলিপুরের দুর্গাপুর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের মনোনয়নপ্রত্যাশী এক প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আজিজার রহমানকে (২৭) মারধর করেছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একাংশের নেতাকর্মীরা। গত রবিবার রাতের এ ঘটনায় আহত আজিজারের বাবা ইদ্রিস আলী সোমবার থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ প্রধান আসামি ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন মুকুলকে (৩৭) গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার আদালতে পাঠিয়েছে। আহত আজিজার কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। উলিপুর থানার ওসি ইমতিয়াজ কবির জানান, অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ধুনটে মামলা : বগুড়ার ধুনট উপজেলার গোপালনগর ইউনিয়নে সোমবার রাতে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহ আলমের দুটি নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর ও নৌকা প্রতীকে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে মামলা হয়েছে। শাহ আলম মঙ্গলবার রাতে মামলাটি করেন। এতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান আলী সরকারসহ ৬৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অচেনা আসামির সংখ্যা ১৫০। ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বেলকুচিতে গ্রেপ্তার ২ : সিরাজগঞ্জের বেলকুচির রাজাপুর ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সনিয়া সবুর আকন্দের এক সমর্থকের বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাটসহ ককটেল বিস্ফোরণ (২১ নভেম্বর) মামলায় গতকাল দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আতাউর রহমানের ভাই আল মাহমুদ ওরফে মন্ত্রী ও ভাতিজা জুয়েল হাসান। বেলকুচি থানার এসআই মাহমুদ আলী জানান, গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

(প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন কালের কণ্ঠের সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিরা)



সাতদিনের সেরা