kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ মাঘ ১৪২৮। ২৮ জানুয়ারি ২০২২। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

কোটচাঁদপুরে আ. লীগ নেতার নির্দেশ

বিরোধীরা যেন ভোট চাইতে না পারে

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি   

২৩ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিরোধীরা যেন ভোট চাইতে না পারে

নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে কেউ যেন ভোট চাইতে না পারে। যদি চাইতে আসে, তাকে যেন প্রতিহত করা হয়। এমন হুমকিসংবলিত একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই হুমকি দিয়েছেন ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার কুশনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেন আবু।

বিজ্ঞাপন

এ নিয়ে উপজেলার সব ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও ভীতি দানা বাঁধছে।

আগামী ২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে কোটচাঁদপুর উপজেলার ইউনিয়নগুলোর ভোট হবে।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের উপস্থিতিতে আবুল হোসেন আবু বলেন, ‘আমি শুনতে পেয়েছি, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অনেকেই প্রচার করছেন যে আমি নৌকা মার্কার প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা খেয়েছি। তাই তাঁরা বলছেন, একাই আমাকে নৌকার ভোট করতে হবে। আমি বলতে চাই, টাকা খেলে চার-পাঁচ লাখ টাকা খেতে পারতাম। কিন্তু আমি দালাল হয়ে যাব বিধায় টাকা খাই নাই। ’ সবাইকে নৌকায় আসতে হবে জানিয়ে তিনি হুংকার ছেড়ে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন, ‘আগামীকাল থেকে নৌকার বিরুদ্ধে কেউ যেন ভোট চাইতে না পারে। আর ভোট চাইতে এলে তাকে প্রতিহত করতে হবে। ’

কুশনা ইউনিয়নের মোটরসাইকেল প্রতীকের (আ. লীগ বিদ্রোহী) প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া বিপ্লব ক্ষোভ প্রকাশ করে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিগত দিনের অভিজ্ঞতায়  ভোটাররা এমনিতেই ভোটকেন্দ্রে যেতে চান না। আমরা ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার উৎসাহ জোগানোর চেষ্টা করছি। সেখানে একজন নেতার এমন হুংকারে ভোটারদের মধ্যে আবারও চরম ভীতি দানা বাঁধতে শুরু করেছে। ’

ওই ইউনিয়নের চশমা প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহারুজ্জামান সবুজ বলেন, ‘শান্ত পরিবেশ অশান্ত করার পাঁয়তারা চলছে। ভোটে হারজিত থাকবে। জোর করে ভোটারদের কাছ থেকে ভোট নেওয়া যায় না—এটা সবার মাথায় রাখা উচিত। ’

আনারস প্রতীকের (আ. লীগ বিদ্রোহী) প্রার্থী আব্দুর রশিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘নৌকার প্রার্থী আব্দুল হান্নান পরাজিত হবেন জেনে নেতারা এমন কথাবার্তা বলে পরিবেশ নষ্ট করছেন। ’

এ বিষয়ে সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি ভিডিওটি দেখিনি, যদি এমন বক্তব্য দেওয়া হয়ে থাকে তাহলে দয়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিয়ন রিটার্নিং অফিসারের কাছে ভিডিওটিসহ লিখিতভাবে অভিযোগ করলে তিনি ব্যবস্থা নেবেন। ’

ওই ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসার (উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা) জহুরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি মোবাইল ধরেননি।

 



সাতদিনের সেরা