kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ক্লাব সংস্কৃতি

সৌদি ক্লাবগুলোতে আধুনিকতার ছোঁয়া

সনৎ বাবলা, রিয়াদ থেকে ফিরে   

২১ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সৌদি ক্লাবগুলোতে আধুনিকতার ছোঁয়া

সৌদি মেয়েদেরও এখন অবাধ যাতায়াত স্টেডিয়ামে। ছবি : কালের কণ্ঠ

এই নভেম্বরে উদ্বোধন হয়েছে রিয়াদ ‘সিটি বুলভার্ড জোন’। খাওয়াদাওয়া, কেনাকাটা ও ঘোরাফেরা মিলিয়ে এটা দারুণ বিনোদনের সরণি। আকর্ষণীয় জায়গাটি নিয়ে আবার শঙ্কাও হয়ে গেছে! কারণ এই বিনোদনকেন্দ্রে মুখোমুখি আল নসর ও আল হিলাল ক্যাফে। সৌদি ফুটবলের দুই প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের ক্যাফে দেখিয়ে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মিডিয়া ও মার্কেটিং বিভাগের প্রধান ইয়াজিদ আল রশিদ রসিকতা করেন, ‘দুই দলের সমর্থকরা ক্যাফেতে আসে।

বিজ্ঞাপন

তাদের মধ্যে লড়াইয়ের কথা ভেবে পাশে হাসপাতালও তৈরি হয়েছে!’ ক্যাফের পাশে সত্যিই একটি ক্লিনিক আছে, তবে সেটা মারামারির কথা ভেবে নয়, জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য।

দুটি ক্লাবের ঐতিহ্য অনেক পুরনো। তেমনি আছে দুই ক্লাবের সমর্থকদের মধ্যে প্রবল রেষারেষির ইতিহাসও, যদিও সেটা কখনো বড় অঘটনের জন্ম দেয়নি। আমাদের সোনালি অতীতে আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচের মতো সমর্থকের প্রাণহানির ঘটনা নেই এখানকার বড় ম্যাচে। তাদের আছে ক্লাবের প্রতি প্রচণ্ড অনুরাগ আর অকুণ্ঠ সমর্থন। ইয়াজিদ যেমন তাঁর ঘরের উদাহরণ টেনে বলেছেন, ‘আমার পুরো পরিবার আল হিলাল বলতে অজ্ঞান। আমার বাবার এককথা, তুমি ভালো মুসলিম না হলেও সমস্যা নেই, তবে অবশ্যই আল হিলালের সমর্থক হতে হবে। ’ সমর্থনেও পারিবারিক পরম্পরা! দুই ক্লাবের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াও সৌদি লোকজনের ফুটবলে ভালো লাগা, মাঠে গিয়ে খেলা দেখা ও উন্মাদনার ইতিহাস অনেক আগের। তিন বছর আগে মাঠে গিয়ে খেলা দেখার অনুমতি পেয়ে সৌদি মেয়েরাও ঢুকে পড়েছে এই ফুটবল সংস্কৃতিতে।

শুধু দর্শক-সমর্থকদের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠেনি এই ফুটবল সংস্কৃতি। খেলার জন্য স্টেডিয়াম এবং আধুনিক সব ব্যবস্থা এখানে এত চমৎকার যে ফুটবলের সঙ্গে বেড়ে ওঠা যেকোনো ইউরোপিয়ান গিয়েও চমকে যেতে বাধ্য। রিয়াদের কিং ফাহাদ স্টেডিয়ামের সব আয়োজন দেখে যেমন অভিভূত ইংলিশ সাংবাদিক ফিলিপ বেকার। ইনসাইড দ্য গেমের এই বর্ষীয়ান সাংবাদিক তুলনায় টেনে আনেন ওয়েম্বলিকে, ‘সৌদি আরবে আমি এত চমৎকার স্টেডিয়াম আশা করিনি। সব কিছুতে আধুনিকতার ছোঁয়া এবং দারুণ পরিপাটি এই ফাহাদ স্টেডিয়াম। আমার কাছে ওয়েম্বলির চেয়েও উন্নত মনে হচ্ছে। ’ ওদিকে মরসুল পার্ক অপেক্ষা করছিল আরো চমক নিয়ে। সৌদি কিংডমের অতিথিদের জন্য রাজকীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি ভিআইপি লাউঞ্জও চমৎকার এখানে। দুই দলের ড্রেসিংরুমের পাশে জিম দুটিও দেখার মতো। কোন সরঞ্জামটি নেই সেখানে! আসলে কোনো আধুনিক ব্যবস্থারই ঘাটতি নেই এই স্টেডিয়ামে। মখমলের মতো ঘাসে ঢাকা মাঠটিও যে কল্পনা করতে পারবে না বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। তারা এমনি এমনি বিশ্বকাপ খেলে না। আয়োজনে তারা ছুঁয়েছে বিশ্বমান, পারফরম্যান্সেও এশীয় ফুটবলের সীমানা ছাড়িয়ে সেখানে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে নিরন্তর।

ফুটবলের আধুনিকতাকে ধারণ করতে গিয়ে মরসুল পার্কের ‘গায়েহলুদ’ হয়েছে সদ্য। হোম টিম আল নসরের হলুদ রং গায়ে মাখলেও এটি কিন্তু ক্লাবের নিজস্ব মাঠ নয়। তার আসল নাম কিং সৌদ ইউনিভার্সিটি স্টেডিয়াম। মরসুল নামের এক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এটি সরকারের কাছ থেকে লিজ নিয়ে আল নসর ক্লাবের সঙ্গে করেছে বাণিজ্যিক চুক্তি। বাংলাদেশের মতো এখানেও বড় স্টেডিয়ামগুলোর মালিক সরকার হলেও প্রো-লিগের ১৬টি ক্লাব সেগুলো ব্যবহার করে।

ক্লাবগুলোর আছে নিজস্ব আবাস ও প্র্যাকটিস ভেন্যু। আল নসর ক্লাবেরই আছে তিনটি মাঠ, সুইমিংপুল, ইনডোরসহ ১৬টি আলাদা গেমের ব্যবস্থা। ফুটবল ছাড়াও আরো ১৫টি খেলায় তারা অংশ নেয়। তবে বিস্ময়কর হলো ক্লাব মিউজিয়াম। বিশাল করিডরে সুসজ্জিত ঐতিহাসিক ট্রফি ও দলের ছবিগুলোর সঙ্গে পাশের ঐতিহাসিক বর্ণনায় ফুটে উঠছে ক্লাবের সমৃদ্ধ অতীত ও ঐতিহ্য। আবার যেটি সবচেয়ে পুরনো, ১৯২৭ সালে স্থাপিত আল ইত্তিহাদ ক্লাবের মিউজিয়ামের কলেবর অত বড় না হলেও সবার চোখ আটকে গেছে এক সর্বাধুনিক ডিভাইসে। সেটির নাম রিহ্যাবিলিটশন ডিভাইস—ফুটবলারদের ছোটখাটো ইনজুরি সারিয়ে দ্রুত ফিট করে তোলার ব্যবস্থা। বিশাল এক টিউবের ভেতর থেকে মাইনাস ১৮০ ডিগ্রিতে দুই মিনিটের নাইট্রোজেন থেরাপি নিলেই নাকি তরতাজা হয়ে যায় ফুটবলাররা! এই দেখে ইউরোপিয়ান সাংবাদিকরাও বিস্মিত। আসলে ফুটবলারদের

জন্য মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশে বিস্ময়কর সব আয়োজন। সব আধুনিকতাকে সঙ্গী করেই সৌদি আরব ফুটবলের দিগন্ত ছোঁয়ার চেষ্টায় নেমেছে।

 



সাতদিনের সেরা