kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

সংসদ অধিবেশন

গৃহঋণে মিথ্যা তথ্য দিলে সাজা পাঁচ বছর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গৃহঋণে মিথ্যা তথ্য দিলে সাজা পাঁচ বছর

গৃহঋণ নিতে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অপরাধে সাজা বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যমান আইনে এই সাজা দুই বছরের কারাদণ্ড, প্রস্তাবিত আইনে সেটা বাড়িয়ে পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০২১’ পাস হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

বিজ্ঞাপন

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে বিলটি পাসের আগে এ নিয়ে জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলোর নিষ্পত্তি করা হয়। প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় সদস্যরা সাধারণ মানুষকে সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে গৃহঋণ দেওয়ার দাবি জানান।

বিলটির জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারী প্রথমবার ফ্ল্যাট নির্মাণকারীদের জন্য স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার দাবি করেন। তিনি বলেন, মিথ্যা তথ্য দিয়ে ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করলে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এখন যেসব কর্মকর্তা মিথ্যা তথ্য দেখেও ঋণ দেন তাঁদের শাস্তির বিধান রাখতে হবে। তিনি শহর এলাকার সঙ্গে গ্রামেও গৃহঋণ দেওয়ার দাবি জানান।

জাতীয় পার্টির আরেক সদস্য পীর ফজলুর রহমান বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা ৫ শতাংশ সুদে ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত গৃহঋণ পান। এই সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত করা হোক। এতে সংকটে থাকা আবাসন খাতের উন্নয়ন ঘটবে।  

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বিলের নোটিশ সময়মতো না পাওয়ার অভিযাগ করেন। তিনি ঋণ বিতরণে অনিয়মের কথা তুলে ধরে সহজ শর্তে সারা দেশে স্বল্প আয়ের মানুষের গৃহঋণ দেওয়ার দাবি করেন।

সংসদে পাস হওয়া বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, করপোরেশনের কার্যপরিধি বিস্তৃতির সঙ্গে সঙ্গে অনুমোদিত ও পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ বৃদ্ধি, পরিচালনা পর্ষদের গঠন সুনির্দিষ্টকরণ, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনসহ ঋণ গ্রহণ, অপরাধের শাস্তির পরিমাণ বৃদ্ধি, অপরাধের আমলযোগ্যতা, জামিনযোগ্যতা, ফৌজদারি কার্যবিধির প্রয়োগ ও অর্থদণ্ড আরোপের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগের বিধান সংযোজনসহ অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংগতি রেখে বিদ্যমান আইন সংশোধনের লক্ষ্যে বিলটি আনা হয়েছে।

বর্তমান আইনে বলা আছে, করপোরেশনের কাছ থেকে কেউ যদি ঋণ গ্রহণে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বিবরণী দেন বা জেনে-শুনে মিথ্যা বিবরণী ব্যবহার করেন বা করপোরেশনে যেকোনো ধরনের জামানত গ্রহণে প্রবৃত্ত করেন, তাহলে দুই বছর কারাদণ্ড, দুই হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। বিলে সেটাকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান করা হয়েছে।

লিখিত সম্মতি ছাড়া প্রসপেক্টাসে বা বিজ্ঞাপনে বিএইচবিএফসির নাম ব্যবহারের সাজা হিসেবে আগে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা ছিল। জরিমানা বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিদ্যমান আইনে অনুমোদিত মূলধন ১১০ কোটি আর পরিশোধিত মূলধন ছিল ১১০ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত আইনে এক হাজার কোটি টাকা হচ্ছে অনুমোদিত মূলধন, আর ৫০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের বিধান রাখা হয়েছে। নতুন আইনে পরিচালকের মেয়াদ সরকারের সন্তুষ্টিক্রমে দুই মেয়াদের অনূর্ধ্ব তিন বছর সময়ে বহাল থাকলেও করপোরেশন সরকারের কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নিতে পারবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 



সাতদিনের সেরা